
ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক পোশাকশ্রমিক নিহতের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে আজ শুক্রবার। প্রতি বছর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে হতাহত শ্রমিকদের স্মরণ করলেও করোনা পরিস্থিতিতে এবার কোনো জনসমাগম ছিল না। তবে ভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়েছে ভয়াবহ সেই ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষদের।
আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুক্রবার সকালে স্থানীয় প্রশাসন, শ্রমিক সংগঠন ও হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে জনসমাগম ঠেকাতে সকাল থেকে পৌর এলাকায় রিকশা, রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় জনসাধারণের চলাচলে। বন্ধ রাখা হয় পৌর এলাকার সব ধরনের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
আজ সকালে রানা প্লাজার সামনে গিয়ে আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাওয়া যায়নি। তবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ছিল। নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে তিনটি ফুলের তোড়া পাওয়া যায়। এর একটি উপজেলা প্রশাসনের, একটি শ্রমিক সংগঠনের এবং আরেকটি হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।
সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার নয় তলা রানা প্লাজার ভবন ধসে পড়ে। এতে ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানার এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। আহত হন সহস্রাধিক শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে অঙ্গ হারান ২৭ জন।
নিহত শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর এই দিনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জড় হন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবারের চিত্র ছিল উল্টো। আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তাঁদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তাঁদের ১১ টি সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনের সব কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। নিহতদের স্মরণে শুক্রবার বেলঅ ১১টায় ১ মিনিট নীরবতা পালনের পাশাপাশি দাবি সংবলিত ছবি হাতে ফেসবুকে পোস্ট করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে সভার-আশুলিয়ার ২৫ শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা ধসের সাত বছর পূর্তিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে পূর্বঘোষিত সব কর্মসূচি বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় প্রশাসনের অনুরোধে শ্রমিক সংগঠনগুলো তাঁদের কর্মসূচি বাতিল করে।