গৃহপরিচারিকাকে হত্যার মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এ মামলার পলাতক আসামি যুব মহিলা লীগের দুই নেত্রীর আবেদন বিবেচনায় এনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তার মতামত চাওয়া হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। দীর্ঘদিন পলাতক দুই আসামি যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান নাসরিন ও বরিশালের বাবুগঞ্জ থানা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজমা আক্তারকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা নিজেদের যুব মহিলা লীগের ‘সংগ্রামী কর্মী’ দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসামূলকভাবে মামলা সাজিয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও গেছেন।
মামলাটি প্রত্যাহার সম্পর্কে মতামত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনীরা সুলতানা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গিয়াস উদ্দিন কাবুলের কাছে পাঠানো হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরিশাল পুলিশের উপকমিশনারের মতামতও চাওয়া হয়েছে। এ আবেদনের পেছনে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীরও সুপারিশ আছে বলে জানা গেছে।
নিহত গৃহপরিচারিকা জেসমিন বাবুগঞ্জের রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এস্কেন্দার ব্যাপারীর মেয়ে। বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি গিয়াস উদ্দিন কাবুল বলেন, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিনের রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলার বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে জেসমিনকে দেন নাজমা আক্তার। ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি একটি কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জেসমিনকে মারধর করা হয়। ২৮ জানুয়ারি ভাই রিপন মুন্সি ঢাকায় গিয়ে জেসমিনকে নিয়ে এসে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন মারা যায়। এ ঘটনার মামলায় ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর দুই নেত্রীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্র বলেছে, মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাবে পিপি উল্লেখ করেন, মামলাটিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত জেসমিনের শরীরে ১০ থেকে ১২টি জখমের চিহ্নের কথা বলা হয়েছে।
রিপন মুন্সি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইসরাত জাহান নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেসমিন প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তার সৎমা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর নাজমা আমার বাড়িতে নিয়ে এলে আমি আশ্রয় দিই। আমরা ওকে বাড়িতে পাঠানোর পর সে অসুস্থ হয়। সম্ভবত চিকিৎসা করাতে না পারায় মারা যায়। বরিশালের এক কৃষক লীগের নেতার ইন্ধনে আমাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে নিয়মানুযায়ী মতামত চেয়েছি। মতামত পেলে আবারও তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা হবে না।’