‘ব্রিজ পার হতি পাইরে খুব খুব ভালো লাগিছে’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনা নগরের রয়্যাল মোড় এলাকায় নতুন রূপে সেজেছে কয়েকটি কাউন্টার
ছবি: প্রথম আলো

নাসিমা বেগমের বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলায়। মাস দেড়েক আগে নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় পদ্মা নদী পার হয়েছিলেন ফেরিতে। খুলনা থেকে বাসে উঠে ঢাকা যেতে তাঁর সময় লেগেছিল ৯ ঘণ্টার মতো। একই পথে ফিরতে সময় লেগেছে অর্ধেকেরও কম। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নাসিমাদের বাস খুলনায় এসেছে। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আসতে পারায় এবং কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারায় ভীষণ খুশি নাসিমা বেগম।

উচ্ছ্বাস নিয়ে নাসিমা বেগম বলছিলেন, ‘খুব খুব ভালো লাগিছে। নারায়ণগঞ্জে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে গিছিলাম দেড় মাস হয়ি গিছে। গিলাম ফেরিতে। পদ্মা ব্রিজ দেখপার জন্যি এত দিন থাকিছি। আজকে পার হতি পাইরে খুব ভালো লাগিছে।’

নাসিমার সঙ্গে কথা হয় খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায়। নাসিমার সহযাত্রী খুলনার পাইকগাছার বাসিন্দা নাজমুল সরদার নারায়ণগঞ্জ ইপিজেডে চাকরি করেন। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাস চলাচলের প্রথম দিনে বাড়িতে ফিরতে পারায় নাজমুলের কণ্ঠেও খুশি ঝরে পড়ল।

নাজমুল বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সেতু পার হতে পেরে খুব খুশি লাগছে। সেতু পার হতে সর্বোচ্চ আট মিনিট লেগেছে। সেতু হওয়ায় আমাদের যে কী বড় উপকার হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। নদী পারের অপেক্ষায় এখন আর বসে থাকতে হবে না। আগে তো আসতে–যেতেই পথে দুই দিন মার যেত।’

কথা শেষ হতে না হতেই ফাল্গুনী পরিবহনের একটি গাড়ি এসে থামে। ওই গাড়ির চালকের সহকারী মো. নিশু বলেন, খুলনায় আসতে চার ঘণ্টা লেগেছে তাঁদের। এ জন্য তাঁরাও খুশি, যাত্রীরাও খুশি। সারা পথ সবাই সেতুর গল্পই করেছে।

টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চালক ফজর আলী বলেন, ঢাকা থেকে খুলনায় আসতে সাড়ে চার ঘণ্টার কিছু কম সময় লেগেছে তাঁদের। নদী পারের ভোগান্তি ছাড়াই দারুণ ভ্রমণের সুযোগ হয়ে গেল। সকালের বাসে ঢাকায় রওনা হয়ে কাজ মিটিয়ে মানুষ আবার দিনে দিনে ফিরতে পারবে।

ঢাকা থেকে খুলনায় আসার জন্য সাড়ে ১০টার গাড়িতে চেপে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি–ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ। পৌনে তিনটায় খুলনা পৌঁছেছেন তিনি। তৌফিক বলেন, পদ্মা সেতু এ অঞ্চলের সবার জন্য আশীর্বাদ। সব মিলিয়ে দারুণ অনুভূতি হয়েছে তাঁর। সেতু যেমন সুন্দর, সময়ও বেঁচে গেছে তেমন।

বাসচালক, চালকের সহকারী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সেতুর ওপর দিয়ে খুলনায় আসতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে। তবে প্রথম দিন হওয়ায় সময় কিছুটা বেশি লাগছে।

সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় বেশ কিছু নতুন পরিবহনের কাউন্টার দেখা গেল। এসব পরিবহনের গাড়ি এ রুটে আগে কখনো চলেনি। এমন একটি পরিবহন ক্ল্যাসিক মেঘনা এক্সপ্রেসের কাউন্টার ম্যানেজার মো. ইব্রাহিম বলেন, নতুন কয়েকটি পরিবহন এ রুটে যুক্ত হচ্ছে। তাঁদের পরিবহনের বাসগুলো কয়েক দিনের মধ্যে চলাচল শুরু করবে।

নগরের রয়্যাল মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নতুন রূপে সেজেছে কয়েকটি কাউন্টার। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে গ্রিন লাইন পরিবহনের ডাবল ডেকার গাড়ি উদ্বোধন করা হচ্ছে। সেখানে সাজসাজ রব।

গ্রিন লাইন পরিবহনের গাইড মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আজ ঢাকা থেকে আসার জন্য আমাদের কোম্পানির প্রথম শিডিউল ছিল আমার। সাড়ে ছয়টায় গাড়ি ছেড়ে টোল দিতে পেরেছি সাড়ে নয়টায়। অনেক পর্যটকের কারণে জট থাকায় টোল দিতে দেরি হয়েছে। পুরো পথ আসতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লেগেছে। পরে আর এত সময় লাগবে না। হোটেল–বিরতি না দিলে চার ঘণ্টায় চলে আসব। খাওয়ার বিরতি দিলে সর্বোচ্চ সাড়ে চার ঘণ্টা লাগবে।’

গাইড মো. আরিফুজ্জামান বলেন, আগে সারা দিনে খুলনা, বেনাপোল, সাতক্ষীরা ও বরিশাল থেকে তাঁদের ছয়-সাতটি ট্রিপ ঢাকায় যেত। আজ শনিবার ২৪টি ট্রিপের সূচি ঠিক করা হয়েছ। গাড়িতে কোনো আসনই ফাঁকা থাকছে না। ট্রিপ যেমন বাড়ানো হয়েছে, ভাড়াও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।