‘যাঁদের প্রয়োজন নিন, যাঁরা সহযোগিতা করতে চান এখানে রাখুন’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের ফুটপাতে রাখা হয়েছে এই খোলা আলমারি। যাঁদের বাড়তি কাপড় আছে তাঁরা সেখানে কাপড় দিয়ে যাচ্ছেন, আর যাঁদের দরকার তাঁরা সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন  
  ছবি: প্রথম আলো

চোখ আটকে যায় লাল রঙের তিন শব্দে। রাজধানীতে সবুজের কমতি আছে। তবু রমনায়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভালো লাগার মতো সবুজ এখনো আছে। এই বর্ষায় অবশিষ্ট সবুজ সতেজ হয়েছে। তারই মধ্যে ফুলার রোডে চোখে পড়ে লাল রঙে লেখা, ‘মানুষের জন্য কাপড়’।

বাংলাদেশ এখন কাপড়ে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাপড়ে টান পড়ায় মানুষ খালি গায়ে ঘুরছে, এমন দৃশ্য আর খুব একটা চোখে পড়ে না। কাপড়ের অভাব অনেকটাই দূর করেছে তৈরি পোশাক শিল্প। বলা যায়, বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের কাপড়ের চাহিদা মেটাচ্ছে এই শিল্পের উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট।

সব মানুষের আবার সেই উপজাত কেনারও সামর্থ্য নেই। তাঁরা ছেঁড়া কাপড় পরেন, ইচ্ছামতো কাপড় পরতে পারেন না। পাল্টানোর মতো কাপড় তাঁদের নেই। রাস্তায় ভিক্ষা চাইলে টাকা বা খাবার পাওয়া যায়, কাপড় পাওয়া যায় না।

আবার অনেকের বাড়িতেই কাপড়ের বাড়াবাড়ি। বিপণিবিতান–ফুটপাত থেকে কাপড় কিনে তাঁরা বাড়িঘর ভরে ফেলেন। বাড়তি কাপড় কী করে ফেলতে হয়, তা অনেকেই জানেন না। এঁটোকাঁটার সঙ্গে ময়লার পাত্রে রেখে দেন।

ফুলার রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য চার–পাঁচটি আবাসিক এলাকা। উপাচার্য ভবনের উল্টো দিকে ‘উত্তর ফুলার রোড আবাসিক এলাকা’। এর ফটকের বাঁয়ে ফুটপাতে দরজাবিহীন একটি কাঠের আলমারি রাখা। সব মিলিয়ে চারটি তাক। দুটি তাকে তিনটি কাপড়।

আলমারির গায়ে এবং পাশে টাঙানো ব্যানারে লেখা: যাঁদের প্রয়োজন নিন। যাঁরা সহযোগিতা করতে চান এখানে রাখুন।– এ বি বি পি এফ।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুরোনো বইপত্র–সংবাদপত্র কেনাবেচার ব্যবসা করেন রমজান। কে কাপড় রাখে, কে কাপড় নেয়—এমন প্রশ্নের উত্তরে রমজান বলেন, ‘আপনাদের মতো মানুষ রাখে। বুয়ারা আর রিকশায়ালারা নিয়ে যায়।’