কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস
কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেক

পল্লবী ও রামপুরায় শিশু হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভের মধ্যে ধর্ষণের বিভ্রান্তিকর ভিডিও-ও ছড়াচ্ছে

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রামপুরায় মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দেশকে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে। ক্ষোভের সঙ্গে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ আর আতঙ্ক।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা, নারী হেনস্তা ও সহিংসতার নানা ভিডিও। অনেকেই এসব ভিডিও সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি করে শেয়ার করছেন। তবে যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর কিছু বাংলাদেশেরই নয়, আবার কোনো কোনোটি সাজানো। অথচ এগুলো সত্য ভেবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

‘ময়মনসিংহে ৯ বছরের শিশুকে ভুট্টার জমিতে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সারা দেশে ধর্ষণের মহা উৎসব চলছে!!’ এমন দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াচ্ছে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক

যাচাই করে দেখা যায়, এ ঘটনায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ২ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিহারের কাটিহার জেলার কোলাসি থানার অন্তর্গত সান্দলপুর গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে নয় বছর বয়সী এক মেয়েশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি এক দিন আগে তার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।

লিংক: এখানে

ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণ বা হত্যার সাম্প্রতিক কোনো খবর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। সুতরাং এটা নিশ্চিত ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।

আরেকটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষকে রাস্তায় ফেলে একাধিক ব্যক্তি পেটাচ্ছেন। তাঁকে বাঁচাতে একজন নারী মারধরের শিকার ব্যক্তির ওপর শুয়ে পড়েছেন। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে নারীটিও হামলায় শিকার হন। ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এই হামলাকারীরা বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ইন্ডিয়া টুডে’র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

লিংক: এখানে

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত করেছে। প্রতিবেদনে চলতি মাসের ১৯ মে ভিডিওটি প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনাটি ভারতের ওডিশার বেরহামপুরে তরুণ দম্পতিকে প্রকাশ্যে মারধরের ভিডিও এটি।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

অর্থাৎ এটিও বাংলাদেশের কোনো ঘটনার ভিডিও নয়। এর সঙ্গে যুবদলেরও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

আরেকটি ভিডিও ছড়িয়েছে এই দাবি করে যে সন্তান নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক এক নারী লাঞ্ছিত। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শিশুসন্তান কোলে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি এক নারীকে হেনস্তা করছেন।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

যাচাইয়ে এই ভিডিওটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে ২০ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনাটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে সম্প্রতি এক নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনা।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

সুতরাং, এই ভিডিওটির সঙ্গেও বাংলাদেশের কোনো যোগসূত্র নেই।

‘কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে প্রেমে রাজি না হওয়ায় উত্ত্যক্ত এবং নির্যাতন করছে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল নবনির্বাচিত সহসভাপতি’ দাবিতে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়াচ্ছে।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি সত্য ঘটনার নয়। বরং অভিনীত ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

অনুসন্ধানে ‘Durjay Media Tv’ নামে ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি ‘প্রেমে রাজি হয় না বলে ছেলে স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করল রাস্তায়’ শিরোনামে ভিডিও পাওয়া যায়।

লিংক: এখানে

চ্যানেলটি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায়, এগুলো কনটেন্ট ক্রিয়েশন চ্যানেল। তারা বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক ভিডিও বানিয়ে থাকেন। আলোচিত ভিডিওটিও তেমনই।

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছিনতাইকারী এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী নর্দমায় পড়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত ছিনতাইকারীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। দাবি করা হচ্ছে, ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা রয়েছে—‘আহ বাংলাদেশ’।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

যাচাই করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের উত্তর প্রদেশের এটার জৈথরা এলাকায় ২০২৬ সালের ৬ মে ঘটে যাওয়া একটি ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার। সিসিটিভির ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদনও পাওয়া যায়।

লিংক: এখানে