পল্লবীতে শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন
পল্লবীতে শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠন

পল্লবীতে শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ধর্ষণবিরোধী নাগরিক নেটওয়ার্ক। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে পল্লবীর শিশুর নৃশংসভাবে হত্যার বিচারসহ দেশের সব ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ধর্ষণের বিরুদ্ধে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার দাবি জানান বক্তারা।

ধর্ষণবিরোধী নাগরিক নেটওয়ার্কের সভাপতি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে যদি একটি ব্যানার থেকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারতাম, তাহলে আমাদের এই প্রতিবাদ আরও ফলপ্রসূ হতো। আমরা সরকারের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করতে চাই, সেটি ভালোভাবে করতে পারতাম।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ন্যাশনাল আইডিয়াল গার্লস কলেজের প্রভাষক ফারজানা আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক শিশু রয়েছে, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, চরাঞ্চলে কিংবা গ্রামে বসবাস করে। যারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তাদের সবগুলো ঘটনা আমাদের সামনে আসছে না। আমরা সবগুলো ঘটনা জানতেও পারছি না। কিন্তু আমাদের এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে, যেন আইন যেটা আছে, সেটার বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতার পর্যায়ে না পড়ে।’

এর আগে পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ১৯ মে রাতে পল্লবী থানায় তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।

নিহত শিশুর প্রতিবেশী ও দুই সন্তানের মা রেহানা আক্তার রুমা সমাবেশে সংহতি জানান। তিনি বলেন, ঘটনার পর দুটি দিন ওই পরিবারের পাশে থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে রেহানা আক্তার বলেন, ‘আমি সরাসরি লাশটা দেখেছি। এখনো চোখ বন্ধ করলে ওটাই দেখতে পাই। একটা মানুষ কতটা বিকৃত মস্তিষ্কের এবং কতটা পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা লাশটা দেখলেই বোঝা যায়।’

অপরাধীদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানিয়ে রেহানা আক্তার ভুক্তভোগীর পরিবর্তে দোষীদের ছবি বেশি করে প্রচারের আহ্বান জানান, যাতে সামাজিকভাবে তাদের প্রতিহত করা যায়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান আদেল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম নায়েদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষা প্রমুখ।