আলমডাঙ্গায় গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার

আমেনা খাতুন
আমেনা খাতুন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার আমেনা খাতুন বাদী হয়ে গতকাল শনিবার আলমডাঙ্গা থানায় মামলাটি করেন।

অভিযুক্ত গৃহবধূর নাম নাতাশা রহমান। আলমডাঙ্গা শহরের বাবুপাড়ায় নাতাশার বাবা মাহবুবুর রহমান ওরফে লুলু মাস্টারের বাড়িতে গত শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে। আমেনা খাতুন আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসানগর গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

নাগরিক সংগঠন জেলা লোকমোর্চার সহায়তায় থানায় দায়ের করা এজাহারে আমেনা খাতুন উল্লেখ করেন, আম চুরি করে খাওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নাতাশা তাঁর (আমেনা) সাড়ে তিন বছরেরছেলে আবিরকে খুন করার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করেন। আবিরের মুখে-পিঠে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমেনা নিষেধ করেন। ওই সময় আমেনাকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধাক্কা দিয়ে প্রথমে জানালা ও পরে খাবার টেবিলের সঙ্গে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। আমেনা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তাঁকে বাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

গতকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসাধীন আমেনা খাতুনের মা রুশিয়া বেগম বলেন, ‘আমরা গরিপ মানুষ, আল্লার কাচে বিচার দিইচি।’

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, শারীরিক ও মাথায় আঘাতজনিত কারণে আমেনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অচেতন অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

বাবুপাড়ার বাড়িতে গিয়ে নাতাশা রহমানকে পাওয়া যায়নি। নাতাশার বাবা মাহবুবুর রহমান ওরফে লুলু মাস্টার বলেন, ‘গৃহপরিচারিকা আমেনা খাতুনের ছেলের সমবয়সী নাতাশারও একটি ছেলে আছে। নাতাশার ছেলে আমেনার ছেলে আবিরকে মারধর করলে আমি তাকে বকা দিই। ওই সময় নাতাশার সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন আমেনা ঠেকাতে এলে সে আঘাত পায়। এরপর নিজেই ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে জানতে পারি, বাড়ি যাওয়ার সময় বাড়ির প্রধান ফটকের পাশে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল।’ মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, আমেনা খাতুনকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। যা ঘটেছে তা নেহাত দুর্ঘটনা। কিন্তু কয়েকজন প্রতিবেশীসহ বেশ কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর বাড়িতে শুক্রবার কয়েক দফা ভাঙচুর চালিয়েছেন।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবীর জানান, এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।