
জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার থেকে ওই কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাসায় অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগও রয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ওই কর্মকর্তা।
তবে পৌরসভার মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান পাল্টা অভিযোগ করে বলছেন, ওই কর্মকর্তা অনেক ক্ষমতাবান। পৌরসভার নর্দমার জায়গা দখল করে স্থাপনা করছেন। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলায় তিনি উল্টো তাঁকে (মেয়রকে) লাঞ্ছিত করেছেন।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তার নাম গোলাম রব্বানী। তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন। পৌর শহরের আরামনগর কাঠপট্টি এলাকায় নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রব্বানা বলেন, গত বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি বাসায় খাচ্ছিলেন। এ সময় মেয়র রুকুনুজ্জামান বাসার সামনে আসেন। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালি দিতে থাকেন মেয়র। গালাগালের কারণ জানতে চাইলে তিনি টেনেহিঁচড়ে পৌরসভার কার্যালয়ে নিয়ে যেতে চান। এ সময় তিনি নানা ধরনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে চড়থাপ্পড় দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে স্ত্রী–সন্তানেরা তাঁকে মেয়রের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। পরে তাঁর স্ত্রী বাসার গেট লাগাতে যান। তখন মেয়রের সন্ত্রাসী বাহিনী গেটে লাথি মারে এবং স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার পর থেকে মেয়র নানা রকম হুমকি দিচ্ছেন। মেয়রের সন্ত্রাসী বাহিনী বাসার সামনে পাহারা বসিয়েছে। এতে তিনি পরিবার নিয়ে বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। কর্মস্থলেও যেতে পারছেন না। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জানতে চাইলে মেয়র মো. রুকুনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে কোনো লাঞ্ছিত বা মারধর করা হয়নি। তিনি বাসা করেছেন, পৌরসভার কোনো ধরনের অনুমোদন নেননি। তিনি পৌরসভার জায়গা দখল করে স্থাপনা করেছেন। সেখানে একটি নর্দমা নির্মাণের কাজ চলছে। ওই ব্যক্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। মেয়র বলেন, ‘তাঁকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে বলায় তিনি আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। তাঁর নাকি বড় বড় লোকজনের সঙ্গে সর্ম্পক রয়েছে। তাই তিনি পৌরসভার কোনো নিয়ম মানবেন না। তাঁকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে তিনবার চিঠি দিয়েছি। তিনি একবারও চিঠির জবাব দেননি। উল্টো তিনি চিঠি ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁকে পৌরসভার মধ্যে থাকতে হলে পৌরসভার আইন মেনে চলতে হবে।’
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সাধারণ ডায়েরি করার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’