রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরতে প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানায়
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরতে প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানায়

পাশের ফ্ল্যাটের দম্পতি গ্রেপ্তার

পল্লবীতে শিশুটিকে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল: পুলিশ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর পাশের ফ্ল্যাটে থাকা এক দম্পতি লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩৪) এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তারের পর এ কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর রাত সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী থানায় প্রেস ব্রিফিং করা হয়। সেখানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে থাকেন। বাসার সামনে এক পাটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি পাশের ফ্ল্যাটে শিশুটি আছে বলে সন্দেহ করেন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি ডাকাডাকি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে দরজা খুললে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়। তবে মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীর মরদেহ উদ্ধার এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে আসামি মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু ভুক্তভোগীর মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং পালিয়ে যায়।

সোহেল রানাকে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। দুই বোনের মধ্যে সে ছোট ছিল। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকে। শিশুটির লাশ পাওয়া যায় পাশের ফ্ল্যাটে।

দুপুরের পর পল্লবীর ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভিড় ঠেলে বাসায় ঢুকতেই দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। নিহত শিশুর বাসায় স্বজনদের ভিড়। একটি কক্ষে তার মা–বাবা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে বসে ছিলেন।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা

শিশুটির এক চাচা প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে শিশুটির স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন, তার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ঘোষণা : এই প্রতিবেদনটি ১৯ মে দিবাগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিটে (অর্থাৎ ২০ মে প্রথম প্রহরে ০০: ৩৯ এ) প্রকাশিত হয়। সে সময় শিশুটিকে ধর্ষণের বিষয়টি জানা যায়নি। এ কারণে শিশুটির পরিচয় ও ছবি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধিতে মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর নাম, পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা যায় না। এ কারণে এই প্রতিবেদনে শিশুটির নাম, ছবি ও তার পরিবারের পরিচয় সরিয়ে দেওয়া হলো।