
দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ থাকলেও বরিশাল নগরের কোথাও সেই বিধিনিষেধের প্রভাব ছিল না আজ সোমবার। সকাল থেকেই নগরের সর্বত্র চিরচেনা রূপ দেখা যায়। দোকানপাট, বাজারগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি করে ক্রেতা-বিক্রেতারা কেনাকাটা করেন। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক থাকলেও তা মুখে নয়, ছিল থুতনিতে। একই সঙ্গে সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক সময়ের মতো। চলেছে গণপরিবহনও।
সকালে নগরের পোর্ট রোড বাজারে গিয়ে দেখা যায়, লোকে লোকারণ্য। তীব্র ভিড়ের মধ্যে ক্রেতারা গায়ে গা ঘেঁষে বাজার-সওদা করছেন। ক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না, ছিল না অধিকাংশ বিক্রেতার মুখেও। চায়ের দোকানগুলোতে অনেকে পাশাপাশি বসে চা পান করছিলেন, গল্প করছিলেন।
মাছ কিনতে আসা আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তির মুখে মাস্ক ছিল না। কথা হলে তিনি হেসে বলেন, ‘আমার মাস্ক আছে। ভিড় বেশি বইল্লা দম আইটকা আয়, হেইতে খুইল্লা পকেটে রাখছি, এই দ্যাহেন।’
মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে সড়কের পাশের ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ভিড়ের মধ্যে আম কিনছিলেন আরেক ক্রেতা। মাস্ক পরার পর তা থুতনিতে নামিয়ে রাখার কারণ কী, এমন প্রশ্ন করলে তিনি হেসে জবাব দেন, ‘মাস্ক পরন লাগে, পরছি তো।’ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে মানুষের এমন উদাসীনতা চোখে পড়ে নগরের বাজার রোড, নতুন বাজার, চৌমাথা বাজার, বাংলা বাজার, বটতলা বাজারেও।
চকবাজার, গির্জা মহল্লা, সদর রোড, বগুড়া রোড, আমতলী, সিঅ্যান্ডবি রোডেও দেখা গেছে চিরচেনা রূপ। লোকজনের স্বাভাবিক চলাচলের পাশাপাশি ছিল তিন চাকার গণপরিবহন। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান তো ছিলই।
এদিকে নগরে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সর্বাত্মক বিধিনিষেধ কার্যকরে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলাম বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হতো, এখন সেখানে তা বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সচেতন না হলে প্রশাসনের একার পক্ষে এটা নিশ্চিত করা দুরূহ।
বরিশাল বিভাগে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটিই বাড়ছে। সোমবার বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। এই সংখ্যা ৩১ জন। আর শনাক্ত ৭৯৮ জন। বিশেষ করে মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর জুলাইয়ে তা ভয়ংকর রূপ নেয়। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় বেশি ছিল এই মাসে। বিভাগে মোট করোনা শনাক্তের ৩৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে। এ মাসে মারা গেছেন মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ১৩ শতাংশ রোগী।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংক্রমণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এমন অবস্থা কাম্য নয়। এটা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’