ময়মনসিংহের আকুয়া খাল

খালপাড়ের সড়কে রেলিং নেই, ঘটছে দুর্ঘটনা

এই খালের পাড়ে নির্মিত সড়কের পাশে রেলিং না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন মানুষ।

এই খালের পাড় ধরে সারা দিন লোকজন চলাচল করেন। কিন্তু নেই কোনো রেলিং। সম্প্রতি ময়মনসিংহের আকুয়া খালের গরু খোঁয়াড় এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া খালের পাড়ে নির্মিত সড়কটি প্রস্থ কম হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সড়কের পাশে রেলিং না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে ওই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন মানুষ। উপরন্তু শুষ্ক মৌসুমে ওই খালে আবর্জনা জমে থাকায় দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহান এলাকাবাসী।

ময়মনসিংহ নগরের ভেতর দিয়ে চলে গেছে আকুয়া খাল। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া গরুর খোঁয়াড় এলাকায় আকুয়া খালের পাড়ের সড়ক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে।

আকুয়া গরুর খোঁয়াড় এলাকার বাসিন্দা জানান, খালটি ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া ও সানকিপাড়া এলাকা হয়ে ময়মনসিংহ নগরের ভেতর দিয়ে ত্রিশাল উপজেলার সুতিয়া নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। গরুর খোঁয়াড় এলাকার খালটির গভীরতা গড়ে ২০ ফুট। ওই অংশে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। তখন এখানে ময়লা–আবর্জনা থাকে। তবে প্রচুর বৃষ্টি হলে খালটিতে পানিপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এ সময় এই খালের পাড়ে নির্মিত সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ভয়ে থাকেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। খালের পাড়ে রেলিং না থাকায় এ সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় কয়েকটি শিশু খালে পড়ে আহত হয়েছে।

খালের পাড় ধরে পায়ে চলার পথ করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
মো. ইকরামুল হক, মেয়র ময়মনসিংহ সিটি

গরুর খোঁয়াড় খালপার এলাকার বাসিন্দা রানী বলেন, তিন মাস আগে আকাশ নামের ছয় বছরের একটি শিশু খালে পড়ে যায়। ওই সময় খালের পাড়ের সড়কে আরও পথচারী থাকায় শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। তবে শিশুটির হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

খালপারের বাসিন্দা মো. পারভেজ বলেন, আনুমানিক দুই মাস আগে একটি শিশু খালপাড়ের পথ দিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় খালে পড়ে যায়। ওই সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিক খালে লাফ দিয়ে নেমে শিশুটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, চলাচলের পথটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, এখানে রেলিং নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, গরুর খোঁয়াড় খালের পারে বাস করা পরিবারগুলোর শিশুরা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যায়। বেশির ভাগ শিশুই ঝুঁকিপূর্ণ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। কিছু শিশু একটু ঘুরে বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করে। বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করার জন্য বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হতে হয়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক বলেন, ময়মনসিংহ নগরের ভেতর দিয়ে চলা খালগুলোর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন রাখা, খালের পাড় ধরে পায়ে চলার পথ করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পটি শুরু হলে আকুয়া খালসহ সব খালের পাশের যেখানে মানুষের পায়ে চলা পথ আছে, সেখানে রেলিং নির্মাণ করা হবে।