চুরির অভিযোগে কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

গাছের সঙ্গে বেঁধে কৃষক জালেক মিয়াকে নির্যাতন করা হয়েছে। রোববার রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পারপাড়া গ্রামে
 ছবি: শফিকুল ইসলাম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় চুরির অভিযোগ এনে এক কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলার পারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ওই কৃষকের নাম জালেক মিয়া (৫০)। তিনি উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের পারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রামবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক জালেক মিয়া গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রতিবেশী সুজা মিয়ার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সুজা মিয়া ও তাঁর লোকজন চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে জালেক মিয়াকে ধরে পারপাড়া গ্রামের আজিজলের মনিহারি দোকানের পাশে মেহগনিগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সন্ধ্যা ৬ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সুজা ও তাঁর লেকজন জালেক মিয়ার ওপর নির্যাতন চালান। পরে পারপাড়া গ্রামের আজিজলের দোকানের পাশে সালিস বসানো হয়। সালিসে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জালেক মিয়াকে চর ও থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পারপাড়া গ্রামের অভিযুক্ত সুজা মিয়া বলেন, ‌‌‘জালেক মিয়া আমার ঘরে ঢুকছিল। কোনো কিছু নিতে পারে নাই। পোলাপান দাবড়াইয়ে ধইরে গাছের বাঁধছে। কিলঘুষি, চর–থাপ্পড় দিছে। পরে মতব্বরা মীমাংসা করে দিছে।'

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সালিসে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ওরফে খোকা। তাঁকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় পারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভাটারা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সুলতান মাহমুদ। আহত জালেক মিয়া বর্তমানে তাঁর বাড়িতে আছেন।

পারপাড়া গ্রামের কালাম মিয়া বলেন, চুরির অভিযোগ এনে জালেক মিয়াকে সুজা মিয়া ও তাঁর লোকজন ছয় ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেছেন।

কৃষক জালেক মিয়ার ভাষ্য, ‘সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে দিয়ে হাইটে যাবার সময় সুজা ও তার লোকজন চোর বলে ডাক পাড়তে থাকে। পরে ওরা আমারে মেহগনিগাছের সাথে বাঁইধা গভীর রাত পর্যন্ত মারধর করে। সালিসেও আমারে মারধর করে ছাইড়ে দেয়।’

সালিসের বিচারক আনোয়ার হোসেন খোকা বলেন, রাতে গ্রামের লোকজন নিয়ে বৈঠক বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে জালেককে অমানবিক নির্যাতন করা ঠিক হয়নি।

চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে এক কৃষককে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে জেনেছেন ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ সালিস করে তা মীমাংসা করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় আনতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক।

রাতে গ্রামের লোকজন নিয়ে বৈঠক বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে জালেককে অমানবিক নির্যাতন করা ঠিক হয়নি।
সালিসের বিচারক আনোয়ার হোসেন খোকা

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।