জগন্নাথপুরে বন্যার্তদের ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসীরা

প্রবাসীদের উদ্যোগে জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়
ছবি: প্রথম আলো

ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ যখন আশ্রয় ও খাদ্যসংকটে, তখন সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় না থেকে প্রবাসীরা খাদ্যসহায়তায় এগিয়ে আসেন। প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বন্যাকবলিত লাখো মানুষ খাদ্যসংকট থেকে কিছুটা রেহাই পাচ্ছে।

সরকারি উদ্যোগে কিছু চাল বিতরণ করা হলেও প্রবাসীদের উদ্যোগে রান্না করা খাবার থেকে শুরু করে চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ত্রাণ তৎপরতা চলছে।

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এ কাদির বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে জগন্নাথপুর গ্রামে সাধ্যমতো কিছু সহায়তা করছি। আমার মতো শত শত প্রবাসী যাঁর যাঁর এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

উপজেলাবাসী জানান, ১৬ জুন অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ছেড়ে লোকজন আশ্রয় নেয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে। সেখানে খাদ্যসংকটে পড়ে বানভাসি মানুষ। খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।

একই গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবদুল কালামের উদ্যোগে এক সপ্তাহ ধরে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৩৫০ জনের মধ্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবুল কালাম বলেন, যত দিন আশ্রয়কেন্দ্র থাকবে, তত দিন তাঁর উদ্যোগে এই কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি তিনি কিছু নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন।

ব্রিটিশ বাংলা চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের পরিচালক মুহিব চৌধুরী বলেন, বন্যার খবর পেয়ে ১০ লাখ টাকার ত্রাণ পাঠিয়েছেন, যা বিতরণ চলছে।

নলুয়াপ্রবাসী সংঘ ও উপজেলার আট ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজ নিজ এলাকার প্রবাসীরা। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সৈয়দ আবুল কাশেম ও নেদারল্যান্ডস প্রবাসী মনি চৌধুরীর ত্রাণ বিতরণে আর্থিক সহায়তা করেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমেদ বলেন, ‘আর্ত-মানবতার সেবায় এই উপজেলার প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। এবারের বন্যায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ জন্য আমরা প্রিয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সাধুবাদ জানাই। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সংকট মোকাবিলায় আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, সরকারি কোনো ত্রাণ পাননি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা উপজেলাবাসীকে সাময়িক সংকট থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখছে।

সরকারিভাবে ইতিমধ্যে ৯৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের ত্রাণ তৎপরতা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।