জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখা পরিবারটি খাদ্যসংকটের শঙ্কায়

বাইরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ঘরে খাটের ওপর বসে জানালা দিয়ে সে বৃষ্টি দেখছিল ইয়াছিন মিয়ার পরিবার। রোববার বিকেলে আখাউড়ার কেন্দুয়াই গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

টিনের দোচালা ঘরের চারপাশে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি। উঠানে রান্নার চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই দিন ধরে তাই রান্না বন্ধ। খাটের ওপর জানালার পাশে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন ইয়াছিন মিয়া। আলাপ করে জানা গেল, পরিবারটি খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিয়ে চিন্তিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কেন্দুয়াই গ্রামে বাড়ি ইয়াছিনের। রোববার বিকেলে ইয়াছিনের মতো এই গ্রামের আরও ১৩ পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় দেখা গেল। বাইরে তখন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে পানি আরও বাড়লে অবস্থা কী দাঁড়াবে, এসব পরিবারের সদস্যরা তা নিয়ে শঙ্কিত।

আখাউড়া ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আখাউড়ায় প্রবেশ করতে শুরু করে। রোববার পর্যন্ত ঢলের পানিতে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর, আবদুল্লাহপুর, বীরচন্দ্রপুর, বঙ্গেরচর, সাহেবনগর ও কেন্দুয়াই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের ২০০ থেকে ২৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাত তিনটার দিকে ঢলের পানির তোড়ে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বাজারের পাশা হাওড়া বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। পানি প্রবেশ করে উপজেলার ১০৯টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

রোববার বেলা তিনটার দিকে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের মেলার মাঠের পাশা কেন্দুয়াই গ্রামে দেখা যায়, চারপাশে পানি। রাস্তা থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দুয়াই গ্রামে গিয়ে রমজান মিয়া, মুখলেছুর রহমান, আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজনের পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায় দেখা যায়। প্রত্যেকের ঘরের সামনে কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানি।

বাড়ির উঠানে থাকা রান্নার চুলা তলিয়ে গেছে ঢলের পানি। রোববার কেন্দুয়াই গ্রামে

গ্রামের বাসিন্দা ইয়াছিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। এখন তাঁর রোজগার বন্ধ। পানি আরও বাড়লে তা ঘরের ভেতর ঢুকবে। তখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্য কোথাও যেতে হবে।

ইয়াছিনের স্ত্রী মাইফুল বেগম বলেন, দুই দিন ধরে শুকনা খাবার খাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। একটি সংগঠন থেকে কিছু খাবার দিয়ে গেছে। নলকূপের একাংশ ঢলের পানিতে ডুবে গেছে। আর কোনো উপায় না থাকায় সে নলকূপের পানিই পান করছেন।

আখাউড়ার ইউএনও অংগ্যজাই চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলার ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে এখন ১৮২ পরিবার পানিবন্দী। ২৮টি পরিবারকে ৩০ কেজি চাল ও দেড় হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দুয়াই গ্রামের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তাঁকে কিছু জানাননি।