
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে যমুনার পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, যমুনার পানি বাড়ায় ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী, কুলকান্দি, বেলগাছা, নোয়ারপাড়া ও সাপধরী ইউনিয়ন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি, বাহাদুরাবাদ ও চিকাজানী ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি গ্রামের বাসিন্দাদের আঙিনা পর্যন্ত চলে এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আবদুল মান্নান আজ সকাল ৯টার দিকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু হয়েছে।
ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিম বলিয়াদহ গ্রামের মামুনুর অর রশিদ বলেন, পানি বাড়ির আঙিনায় আসছে। খুব ধীরগতিতে পানি বাড়ছে। লোকজন আতঙ্কে আছে। তবে এখনো লোকজন পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়েনি। নদীর তীর বা চরাঞ্চলের কিছু কিছু ঘরবাড়িতে পানি উঠছে। তবে বিভিন্ন সড়ক ও সেতু এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে গ্রামের ফসলের মাঠগুলোয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে, দুয়েক দিনের মধ্যে মানুষ পুরোপুরি পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।
ইসলামপুরের চিনাডুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, ইউনিয়নটি বন্যাকবলিত। প্রতিবছর পুরোপুরি বন্যাকবলিত হয়। গত দুই দিনে ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামে পানি ঢুকছে। তবে কিছু বাসিন্দা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি বাড়তে থাকলে পুরো ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বে।