টানা বৃষ্টিতে বরিশাল নগরের রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি

বৃষ্টির মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে ছাতা সঙ্গে নিয়ে বের হন এক শিক্ষার্থী। রোববার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়
ছবি: সাইয়ান

বরিশালে আজ রোববার দুপুরের পর থেকে একটানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণে নগরের অধিকাংশ রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি জমেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগরবাসী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

নগরের অনেক নিচু এলাকার বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে। তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গত শুক্রবার রাত থেকেই বরিশালে বৈরী আবহাওয়া এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। গতকাল শনিবার সারা দিন থেমে থেমে প্রায় ১৯ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়।

আজ রোববার সকাল থেকে মেঘলা ও ঝোড়ো আবহাওয়া বিরাজ করলেও বৃষ্টি ছিল না। বেলা একটার পর শুরু হয় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি। সঙ্গে প্রবল বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া।

টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাস্তা। রোববার বিকেলে বরিশাল নগরের নবগ্রাম এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সড়কে

দুপুরের পর শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের হাঁটুসমান পানি জমে পলিটেকনিক গলি, আমির কুটির, মুনসির গ্যারেজ, অক্সফোর্ড মিশন, বগুড়া রোড, বাংলাবাজার, হালিমা খাতুন স্কুলের পাশের গলিসহ বিভিন্ন এলাকায়। এসব এলাকার অনেক নিচু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

বিকেলে নগরের বাংলাবাজার এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে লোকজন বাইরে কম বের হচ্ছেন। এতে তাঁদের আয়ও কমে গেছে।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসফেরত লোকজনও। বিকেলে বৃষ্টির পর অনেকেই আটকা পড়েন। পরিবহন সংকটে বাসায় ফিরতে বেগ পেতে হয়।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন অফিসফেরত লোকজনও

বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাহফুজুর রহমান বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ৩টা পর্যন্ত বরিশালে ১৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বিভাগের অধিকাংশ স্থানে আরও ভারী অথবা মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। একই সঙ্গে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা আছে। সোমবারও একই অবস্থা বিরাজের পর মঙ্গলবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।