পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ৪০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে দুটি ট্রাক নাটোরের উদ্দেশে রওনা হয়। ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে এসব ট্রাকের চার দিন সময় লাগে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি খাদ্যগুদাম থেকে ৪০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে নাটোর সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের উদ্দেশে দুটি ট্রাক রওনা হয় গত ২৬ জুলাই। নাটোর খাদ্যগুদামে সে চাল পৌঁছায় ৩০ জুলাই। মাঝে ২৭ জুলাই পৃথক একটি ট্রাকে চাল আসে নাটোর খাদ্যগুদামে। চালের মান খারাপ হওয়ায় তা ফেরত পাঠানো হয়। নিম্নমানের চালবাহী ওই ট্রাক কোথা থেকে এসেছিল এবং ফেরত পাঠানোর পর কোথায় গেছে, সে তথ্য মিলছে না।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে নাটোর খাদ্যগুদামের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এটুকু পথ পাড়ি দিতে চার দিন কেন লাগল, তা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় গত শনিবার। কমিটির প্রধান ও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক রবীন্দ্র লাল চাকমা গতকাল রোববার বলেন, তাঁরা তদন্ত করছেন। যেকোনো সময় আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। কিন্তু ২৭ জুলাই খারাপ চাল নিয়ে আসা ট্রাকের কোনো তথ্য তাঁরা জানেন না।
কারণ হিসেবে রবীন্দ্র লাল চাকমা বলেন, সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন চাল খারাপ হওয়ায় ট্রাকটি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। তিনিও তদন্ত কমিটিকে এ বিষয়ে তথ্য দেননি। এই প্রতিবেদকের কাছে থেকে প্রথম তথ্যটি জানতে পারেন।
মফিজ উদ্দিন বলেন, খারাপ চাল আসার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রককে জানাননি। পরবর্তী সময়ে তদন্ত চলাকালেও বলেননি। কারণ, তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাই করা হয়নি। ফেরত পাঠানো ট্রাকটি কোথায় গেছে, তা ঠিকাদার বলতে পারবেন।
রবীন্দ্র লাল চাকমা বলেন, তাঁরা ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনতে পেরেছেন, ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক দুটি পথে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চাল পৌঁছাতে দেরি হয়।
যোগাযোগ করা হলে খাদ্যগুদামের পরিবহন–সংক্রান্ত ঠিকাদার মেসার্স আবু সাঈদের প্রতিনিধি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, ২৭ জুলাই একটি ট্রাকে চাল যাওয়ার বিষয়ে তিনিও কিছু জানেন না। কেউ তাঁকে জানাননি।
তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র লাল চাকমা বলেন, যেহেতু খারাপ চাল নিয়ে আসা একটি ট্রাকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিষয়টি অজানা ছিল, সেহেতু এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেই আবার প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। অনুসন্ধানের জন্য আজ সোমবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঈশ্বরদীর মুলাডুলি গুদামে যাবেন। ট্রাকের ত্রুটির বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে।