নেত্রকোনায় বন্যার পানি কমছে ধীরে, মানুষের দুর্ভোগ

বন্যার পানি ধীরে ধারে নামায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। শনিবার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনায় বন্যার পানি নামছে ধীরে। দুর্গাপুর উপজেলায় এখন আর বন্যার পানি নেই। কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে খারনৈ, লেংগুরা, রংছাতি ও নাজিরপুরের পানিও নেমে গেছে। বাকি আছে শুরু কৈলাটি ও সদর ইউনিয়নের আংশিক এলাকাসহ অন্য দুটি ইউনিয়ন।

এ ছাড়া বারহাট্টা, আটপাড়া, কেন্দুয়া, পূর্বধলা ও সদর উপজেলাতেও বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে এসব উপজেলায় নিম্নাঞ্চলে এখনো ৪০ শতাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দী। আর হাওরাঞ্চল মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরিতে ৬৮ ভাগ এলাকায় পানি আছে।

বন্যার পানি ধীরে ধারে নামায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, গোখাদ্য, জ্বালানি ও শৌচাগারের অভাব তীব্র হচ্ছে। সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ায় হাটবাজারেও তরকারির সংকট দেখা দিচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা কম। বন্যাকবলিত মানুষ খাবারের কষ্টে আছে। ঘরে খাবার না থাকায় নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে না।

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, তিন শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৯৮ হাজার ৩৪৫ মানুষ রয়েছে। বাড়িঘর থেকে পানি না নামা, রাস্তাঘাট ডুবে থাকাসহ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব মানুষ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তাঘাটে জমে থাকা ময়লা পানি ও আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে ১৬ জুন থেকে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে ৩৫২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ আশ্রয় নেন। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি।

কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাসেম বলেন, বড়খাপন, পোগলা, কৈলাটি ও সদর ইউনিয়নে এখনো ৬৮ ভাগ এলাকায় বন্যার পানি রয়েছে। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ৫ হাজার ৭২৫ জন মানুষ রয়েছে। অন্যরা নিজ নিজ বসতবাড়িতে ফিরেছে।

মদনের ইউএনও বুলবুল আহমেদ বলেন, ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭ হাজারের বেশি মানুষ এখনো আছে। আর খালিয়াজুরির ইউএনও এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এখনো বন্যার পানিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৯৪৯ জন পুরুষ, ২ হাজার ৪২৫ জন নারী, ৬৫০টি শিশু ও ১০০ জন প্রতিবন্ধী রয়েছেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস বলেন, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৫১২ মেট্রিক টন চাল, ২৭ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখনো উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে ও ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।