
বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এটা এই বিভাগে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর বাকি ১৩ করোনা পজিটিভ ছিলেন। আজ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
এর আগে গত ১২ জুলাই বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যু ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ছয় জেলায় ২ হাজার ১৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৯৮ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় পাঁচজনের এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ১ হাজার ৮৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে বরিশালের ৪ জন, ভোলার ৬ জন, পটুয়াখালীর ২ জন এবং পিরোজপুরের ১ জন। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮৭। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৮ জনের সবাই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ নিয়ে এই হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৭৯৪। তাঁদের মধ্যে ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল অপেক্ষমাণ আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত মে মাসে বিভাগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর জুলাই মাসে সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর জুলাই মাসজুড়ে তা অব্যাহত ছিল। সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয়ই বেশি ছিল এই মাসে। বিভাগে মোট করোনা শনাক্তের ৩৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে গত জুলাই মাসে।
দেখা যায়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ১৪৪। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ১৯ শতাংশই শনাক্ত হয়েছে মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে। এই সংখ্যা ২৫ হাজার ২৫৪।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, বিভাগে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এক মাস ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুটোই বাড়ছে। আগস্টের শুরুতেও তা অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে টিকা নিতে উদ্যোগী হতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।