মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে আসা মানুষেরা উল্লাস করতে করতে পদ্মা সেতুতে ওঠেন
মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে আসা মানুষেরা উল্লাস করতে করতে পদ্মা সেতুতে ওঠেন

‘ভোর থেকে অপেক্ষায় ছিলাম খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেতুতে ওঠার’

পদ্মা সেতু আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সকাল ছয়টায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবার টোলপ্লাজা খুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে টোলপ্লাজার সামনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে আসা মানুষেরা উল্লাস করতে করতে সেতুতে ওঠেন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে খুশি তাঁরা।

সকাল ছয়টার দিকে টোল দেওয়ার পর নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে সেতুতে ওঠেন ফরিদপুরের ভাংগার বাসিন্দা মেহেদী হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ আমাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের দিন। টোল দিয়ে সেতুতে উঠতে পেরে গর্বিত মনে হচ্ছে। গতকাল শনিবার সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই সেতুতে ওঠার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। তাই আজ ভোর থেকে অপেক্ষা করছিলাম টোলপ্লাজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেতুতে ওঠার জন্য।’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

রংপুর, খাগড়াছড়ি, নেত্রকোনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার তরুণদের সংগঠন নর্থ রাইডার্স বিডি, বাইকার্স জিরো সেভেন ও জিরো নাইনের ১৬ সদস্যর একটি দল মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে মাওয়া প্রান্ত থেকে সকাল সোয়া ছয়টার সময় জাজিরা প্রান্তে আসে। জাজিরা প্রান্ত ঘুরে আবার তারা সকাল আটটার দিকে মাওয়া প্রান্তে ফিরে যায়। সে দলেরই একজন রাশিক ইরতেশাম হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রংপুরে ব্যবসা করি। বাইক নিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। তাই গতকাল রাতে মাওয়া প্রান্তে এসে অপেক্ষা করছিলাম। সকাল ছয়টায় সেতুতে উঠেছি।’

আজ সকাল ছয়টায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবার টোলপ্লাজা খুলে দেওয়া হয়

ওই দলের আরেক সদস্য মৌসুমি খান বলেন, ‘দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে বাইকে পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছি। অনেক আনন্দ লাগছে। নিজেদের টাকায়, নিজেদের সেতু এমনটা ভাবলে গর্বে বুকটা ভরে যায়।’

টোলপ্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাফিজ আল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৫০টি মোটরসাইকেল, ১২০টি প্রাইভেট কার, ৮০টি ট্রাক জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পার হয়েছে।