
জামালপুরে ২৬ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু গত এক মাসে জেলার মাত্র ৭০৬ ব্যক্তির কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের পরীক্ষা হয়েছে। চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ ৩৪ জন আক্রান্ত হিসাবে ধরা পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরীক্ষার জন্য নমুনা জামালপুর থেকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানকার পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম। তাই অনেক নমুনা পড়ে থাকছে। ফলে নমুনা সংগ্রহের গতি কমিয়ে দিয়েছে জামালপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনতে না পারায় জেলায় এই ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ঘটতে পারে।
নমুনা সংগ্রহে যুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুর সদরসহ ছয়টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনার রোগী পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ডবয় ও কর্মচারীরাও। এ পর্যন্ত জেলার ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রথম দিকে নমুনা সংগ্রহে কিছুটা ধীরগিত ছিল। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নমুনা সংগ্রহের কাজ বৃদ্ধি করে। তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে পিসিআর ল্যাবের কারণে। প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ওই ল্যাবে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে আছে একটিমাত্র ল্যাব। তাতে ছয়টি জেলা থেকে যাওয়া নমুনা পরীক্ষা চলে। সক্ষমতার তুলনায় নমুনা বেশি আসায় অনেক নমুনা ল্যাবে পড়ে থাকছে।
জামালপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন কে এম শফিকুজ্জামান প্রথমআলোকে বলেন, 'পরীক্ষার ধীরগতির কারণে আমরা বেশি মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনতে পারছি না। জেলায় করোনা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৫০-৬০ জনের নমুনা পাঠানো হয়। তারপরও ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য পড়ে রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত।'
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে এ পর্যন্ত ৮৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ৭০৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। সে হিসেবে পরীক্ষার জন্যে ল্যাবে এখনও ১৫৭টি নমুনা পড়ে আছে। কারণ, ওই ল্যাবে নমুনা সংগ্রহের তুলনায় পরীক্ষা কম হচ্ছে। ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৯৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়। অথচ ওই ল্যাবের আওতায় জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জামালপুরে রয়েছে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এখানে প্যাথলজি বিভাগের সব ব্যবস্থাসহ অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। শুধু নেই পিসিআর যন্ত্র। ল্যাবে এই যন্ত্র স্থাপন করলেই পরীক্ষা করা সম্ভব। বেশি বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। একই সঙ্গে যারা আক্রান্ত হবেন, তাঁদের চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। জামালপুরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে একটি চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোও হয়েছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, 'জেলার বাসিন্দা প্রতিমন্ত্রী ও সব সাংসদকে নিয়ে আমরা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা করছি। ওই সভাতে পরীক্ষার হার বৃদ্ধির জন্যে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রসঙ্গটা উঠে আসে। পরে জামালপুরে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।'