সেতুতে ওঠার শখ মেটাতেও ঢাকা-বরিশাল যাচ্ছেন অনেকে

পদ্মা সেতুর ওপরে বাস থামানোর পর ছবি তোলায় ব্যস্ত যাত্রীরা
ছবি: প্রথম আলো

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে গতকাল শনিবার। আজ রোববার ভোর থেকে এই সেতুর ওপর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে যান চলাচল। ফলে শুরুর দিনে ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকেই যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে সড়কপথে। তাতে যানবাহনে আসন পেতেও হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে যাত্রীদের।

ঢাকা থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাস ছাড়লেও টিকিট–সংকট ছিল। যাত্রীর চাপ থাকায় অনেক বাস আবার দুবারও যাত্রী পরিবহন করেছে। কিন্তু তাতেও টিকিট–সংকট কাটেনি। অনেকেই শখ করে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যেতে বরিশাল অথবা ঢাকামুখী বাসে উঠেছেন।

বাসচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই পথে আগে এতটা যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি। কিন্তু আজ যেসব যাত্রী ছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই পদ্মা সেতু দেখার জন্য ঢাকা বা বরিশালের পথে আসছেন-যাচ্ছেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার সায়েদাবাদে সাকুরা, শিবচরসহ আরও বেশ কয়েকটি পরিবহনের কাউন্টারে লোকজনের সঙ্গে কথা হয়। জানা যায়, সাকুরা পরিবহনের ১১টি বাস দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। এসব বাসের সব আসনের টিকিটই বিক্রি হয় এদিন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির টিকিট আগাম বিক্রি হয়েছে।

শিবচর পরিবহনেরও একই অবস্থা। ব্যাপারী পরিবহনের চালক বেল্লাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে এই পথে তাঁদের চারটি বাস চলাচল শুরু করে। সব কটি বাসই দুবার আসা-যাওয়া করেছে। কিন্তু যাত্রীর চাপ কমছে না।

গন্তব্যে যেতে বাসের টিকিট কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের সারি। রোববার দুপুরে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে

ঢাকায় কাজ করেন বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম। তিনি বিকেলে ঢাকা থেকে বরিশালের নথুল্লাবাদ টার্মিনালে আসেন। সালাম বলেন, আরও এক সপ্তাহ পর বাড়ি আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তর সইছিল না। তাই আগেভাগে চলে এসেছেন। যাত্রাপথে কেমন লেগেছে জানতে চাইলে আবদুস সালাম বলেন, ঈদের মতো আনন্দ।

বরিশাল থেকে ঢাকামুখী পরিবহনের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে আজ সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় শুরু হয়। এখানেও নিয়মিত যাত্রীদের বাইরে অনিয়মিত যাত্রীর সংখ্যাই বেশি ছিল।

নথুল্লাবাদ টার্মিনালের পরিবহনশ্রমিকেরা বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য সকালে অন্যান্য দিনের চেয়ে যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। সকালে যেসব বাস ঢাকার উদ্দেশে ছাড়া হয়, দ্রুতই সেগুলো যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেক যাত্রী কাউন্টারে টিকিট চেয়েও পাননি।

সূর্যমুখী কাউন্টারে মনির হোসেন নামের একজন বলেন, আজ সকাল থেকেই টার্মিনালে অস্বাভাবিক চাপ। অনেকেই শখ করে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যেতে ঢাকায় গেছেন।

বিএমএফ পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানান, আজ সকালে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের নয়টি বাস বরিশাল থেকে সরাসরি যাত্রী নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশে যায়। এরপরও যাত্রীর চাপ ছিল। আগে এত চাপ কখনো হয়নি।

রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বরিশাল ডিপোর ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিআরটিসির ৮টি বাস বরিশাল থেকে ঢাকার গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়েছে। এরপরও অনেক যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী টিকিট পাননি।
বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা এবার বরিশাল-ঢাকার জন্য ১৪টি এসি সার্ভিস বাস চালু করেছে। এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে ২টি, ভান্ডারিয়া ১টি ও বরিশাল-ঢাকা রুটে ১১টি এসি বাস সার্ভিস চালু করেছে।

বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদসহ কাশিপুর সড়কে বিভিন্ন যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সড়কে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্যদের বেগ পেতে হয়। এই এলাকার ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক বিদ্যুৎ চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আজ গাড়ির চাপ ছিল বেশি, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

বরিশাল টার্মিনালে ইলিশ, সাকুরা, গ্রিন লাইন, প্রচেষ্টা, হানিফ, ঈগলসহ অন্যান্য বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপকেরা জানান, তাঁদের সব কটি এসি ও নন–এসি বাসের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অনেকেই অগ্রিম টিকিট কিনে নিয়েছেন। তাই যাঁরা তাৎক্ষণিক কাউন্টারে এসে টিকিট চাচ্ছেন, তাঁদের দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।