
কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে হচ্ছে কর্মজীবী লোকজনকে। গণপরিবহনে ৫০ টাকা ভাড়ার পথ পাড়ি দিতে খরচ করতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। আজ সোমবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল ও মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন পরিস্থিতির কথা জানা যায়।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল এলাকায় কথা হয় কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দুধঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ঢাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে গত ২৩ জুলাই গ্রামের বাড়িতে আসেন। ছুটি শেষে আজ সকালে স্ত্রী ইভা আক্তার, শ্যালক নাজমুল হাসান, শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকার পথে ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠেছেন। জনপ্রতি তাঁদের ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।
দাউদকান্দি থেকে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে গণপরিবহনে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা। সেই ভাড়া পরিবহনভেদে আজ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে গতকাল রোববার গণপরিবহন চালু হয়েছিল। আজ সোমবার সকাল থেকে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ঢাকায় ফিরছেন। যাত্রীরা বলছেন, দাউদকান্দি থেকে ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার পথ স্বাভাবিক সময়ে গণপরিবহনে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা। সেই ভাড়া পরিবহনভেদে আজ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন পোশাক কারখানার শ্রমিক আহাদ মিয়া। ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। গণপরিবহন না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন। কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাঁকে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ বিধিনিষেধ কার্যকর করতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গোয়াল ভাওলবাজার গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন। তিনি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের একটি বাসার ব্যক্তিগত গাড়িচালক। জাকির বলেন, স্বাভাবিক সময়ে গণপরিবহনে দাউদকান্দি থেকে ঢাকার ভাড়া ৫০ টাকা। বিভিন্ন পরিবহনে সেই ভাড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।