নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আজ রোববার বেলা পৌনে ১১টায় হাসপাতালের সামনে
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আজ রোববার বেলা পৌনে ১১টায় হাসপাতালের সামনে

সিলেটে ট্রাক-পিকআপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত, সবাই শ্রমিক

সিলেটে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমু‌খি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ছয়টা‌র দিকে দ‌ক্ষিণ সু‌রমা উপজেলার তেলিবাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের সবাই নির্মাণশ্রমিক। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন– সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার স‌রিষা না‌র্গিস (৪৫), দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মু‌ন্নি বেগম (৩৫), দিরাইয়ের ভা‌টিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী (৬০), ভা‌টিপাড়া নূর নগরের ফ‌রিদুল (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২); সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের‌ শিবপুর গ্রামের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)।

আহত কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেটের আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তাঁরা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দ‌ক্ষিণ সু‌রমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পু‌লিশে‌র অতিরিক্ত উপক‌মিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, হতাহত ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী মে‌ডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে।

নিহত দুই ভাই আজির উদ্দিন ও আমির উদ্দিন প্রায় ১০ বছর ধরে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁরা ‌নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। দুপুর একটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহত দুই ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন তাঁদের খালাতো ভাই শামীম আহমদ।

শামীম আহমদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও নিহতদের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে আসেন। পরে মরদেহ দেখে দুই ভাইকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একসঙ্গে দুই ভাইকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।