নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় মাদ্রাসার ছাত্রী তানজিনা আক্তার (১৭) বজ্রপাতে মারা যায়নি। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার বিষয়টি গোপন করতে বজ্রপাতে মৃত্যুর কথা বলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মহত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন ওই ছাত্রীর স্বজনেরা।
সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে থানায় জানানো হয়েছে তানজিনা আক্তার নামে এক মাদ্রাসার ছাত্রী বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। ঘটনা জানার পর তিনি একজন কর্মকর্তাকে নারী পুলিশ সদস্যসহ ঘটনাস্থলে পাঠান। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নারী পুলিশ সদস্যরা গলায় কালো দাগ দেখতে পান। তখনো পরিবারের সদস্যরা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে যান এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা স্বীকার করেন তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাঁরা লোকলজ্জা থেকে রক্ষা পেতে ইচ্ছা করে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রচার করেন।’
ওসি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানার পর তিনি নিহত মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চরবাটা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী তানজিনা আক্তার আজ মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভাঙার পর হাত-মুখ ধুতে পুকুরে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মাটিতে পড়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। বিষয়টি চর আমান উল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল বাশারকেও জানানো হয়। তিনি জানার পর নিজেই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার মা–বাবার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি থানা-পুলিশ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের একই তথ্য দেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।
ইউপি সদস্য আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি দুই মেয়াদে ওই ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সকালে ওই ছাত্রীদের পাশের বাড়ির লোকজন গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি জানান। পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি সাজানো হিসেবে প্রমাণিত হয়।
এই প্রতিবেদনটি আজ সকালে ‘ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার জন্য পুকুরে যাচ্ছিল মাদ্রাসাছাত্রী, বজ্রপাতে মৃত্যু’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ওই ছাত্রী বজ্রপাতে মারা যায়নি। আত্মহত্যা করেছে। পরিবার বিষয়টি গোপন করতেই আত্মহত্যার বিষয়টি প্রচার করেছে। সঠিক তথ্য পাওয়ার পর সংবাদটি সংশোধন করা হলো।