ভুট্টি জাতের গরু দেখতে অনেকেই ভিড় করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পশুহাটে। গতকাল শনিবার বিকেলে তোলা
ভুট্টি জাতের গরু দেখতে অনেকেই ভিড় করেছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর পশুহাটে। গতকাল শনিবার বিকেলে তোলা

পুঠিয়ায় কোরবানির পশুর হাট

‘জীবনে এত ছোট গরু দেখিনি’

হাটজুড়ে ছোট-বড় নানা আকারের গরুর ভিড়। এর মধ্যে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল অস্বাভাবিক ছোট আকৃতির একটি গরু। কেউ বলছেন ‘ভাইরাল গরু’, কেউ ‘ভুট্টি গরু’, আবার কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন, ‘জীবনে এত ছোট গরু দেখিনি।’ গতকাল শনিবার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর গরুর হাটে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

ছোট আকৃতির গরুটিকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসুক মানুষের ভিড়। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কাছ থেকে দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন, আসলেই এত ছোট গরু হতে পারে কি না।

কথা বলে জানা যায়, ‘ভুট্টি’ মূলত ভুটানের খর্বাকৃতির একটি গরুর জাত। বাংলাদেশে এটি ধীরে ধীরে পরিচিতি পেলেও গ্রামীণ এলাকায় এখনো অনেকের কাছে নতুন।

গরুটির মালিক মো. বদিউজ্জামান বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি গরুটি পালন করছেন। শখ থেকেই এটি লালন-পালন শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘এখন অনেকে এটাকে ভুট্টি গরু বলে। আগে আরও বেশি দাম চেয়েছিলাম, এখন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাইছি।’ তিনি আরও বলেন, গরুটি রংপুর থেকে নিয়ে এসেছিলেন। ব্যবসার কাজে গিয়ে এটি পছন্দ হওয়ায় বাড়িতে এনে লালন-পালন শুরু করেন। তাঁর দাবি, শুধু হাটেই নয়, নাটোরে তাঁর বাড়িতেও গরুটি দেখতে মানুষ ভিড় করেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

বদিউজ্জামান বলেন, ‘অনেকে বলেছে ঢাকায় নিলে হয়তো বেশি দাম পাওয়া যেত। তবে নিজের এলাকাতেই বিক্রি করার চেষ্টা করছি।’

গরুটি দেখতে আসা মো. হাশেম আলী বলেন, ‘আমি অনেক হাটে গেছি, কিন্তু এমন গরু আগে কখনো দেখিনি। মানুষের ভিড় দেখে আমরাও দেখতে এলাম।’ একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এটি মূলত শখের গরু এবং শখের ক্রেতারাই এমন গরু কিনতে আগ্রহী হতে পারেন।

আরেক দর্শনার্থী আবদুস সালাম বলেন, ‘মানুষের ভিড় দেখে এগিয়ে এসেছিলাম। পরে দেখি ছোট্ট একটা গরু। ভালো লাগছে, তবে দামটা অনেক বেশি।’

গরুর হাটে ভিডিও ধারণ করছিলেন রায়হান নামের এক তরুণ। তিনি বলেন, ‘এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে ভাইরাল হবেই। কোরবানির হাটে এত ছোট গরু আগে দেখিনি।’

এদিকে এই গরুর পাশেই ছিল সাদা-কালো রঙের বিশাল আকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাট কানপাড়া এলাকার মো. শরিফুল গরুটি এনেছেন। প্রায় ১৩ মণ ওজনের এই গরু দেখতে হাটে আসা মানুষজন ভিড় করছেন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আবার গরুটির খাবার ও পরিচর্যার গল্প শুনছেন মালিকের মুখে। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে ছোট-বড় সব ধরনের কোরবানির গরু উঠেছে। তবে চাহিদা ছোট থেকে মাঝারি ধরনের গরুর। গতকাল শনিবার বিকেলে

ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

একই হাটে কথা হয়, পুঠিয়ার বাসিন্দা আয়নাল হকের সঙ্গে। তিনি সাড়ে তিন মণ ওজনের একটি দেশি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। গরুটির দাম উঠেছে এক লাখ টাকা পর্যন্ত, তবে তিনি আরও ২০ হাজার টাকা প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, ‘হাটে এসে বুঝলাম ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। কেউ একাই, আবার কেউ দু-তিনজন মিলে এসব গরু কিনছেন।’

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কোরবানির বাজারে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে তিন মণ থেকে সাড়ে চার মণ ওজনের গরুর বিক্রি বেশি হচ্ছে। হাটে আসা ক্রেতা সাগর হোসেন বলেন, তিনি ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে একটি গরু কেনার পরিকল্পনা করছেন।