
সকালবেলা ঘুম ভাঙতেই ছোট্ট রাকিব হোসেন (১২) বাবার অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল সংসারের হাল ধরতে। বাবার ঘামে কেনা সেই অটোই ছিল পাঁচজনের জীবনের একমাত্র ভরসা। অথচ এক মুহূর্তেই তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল চক্রের ফাঁদে পড়ে। এখন চারপাশে শুধু কান্না ও হাহাকার।
আয়ের একমাত্র অবলম্বন অটোরিকশা, চক্রের ফাঁদে হারিয়ে তারাগঞ্জ থানার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই কাচারিপাড়ার বাসিন্দা মুসা মিয়া ও ছোট্ট রাকিব হোসেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানার অদূরেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিজমা বলতে দুই শতকের ওপর দুটি টিনের ঘর। সেই ঘরে স্ত্রী, দুই মেয়ে আর একমাত্র ছেলে রাকিবকে নিয়ে টানাপোড়েনের সংসার। আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল তিন লাখ টাকা ঋণ করে কেনা অটোরিকশা। এখনো ঋণের টাকার ৩৫ হাজার টাকা শোধ করা বাকি। সেই অটোই এখন আর নেই।
তারাগঞ্জ থানার সামনে মুসা মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অটো ছাড়া তো সংসারই চলে না। রাকিব ছোট বলে মাঝেমধ্যে চালাত। কিন্তু আজ তো আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেল। চোরের হাতে সংসারের ভাতটাই চলে গেল। এখন কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করব? কীভাবে সংসারের খরচ জোগাব? আমার অটোটা উদ্ধার করে দেন।’
রাকিব জানায়, আজ সকাল আটটার দিকে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। কিশোরগঞ্জের বেলতলী বাজারে গিয়ে প্রথমে এক যাত্রীকে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে দেয়। পরে সেই যাত্রীই নতুন কৌশল সাজান। সেখান থেকে তাকে ৫০০ টাকা ভাড়া ঠিক করে তারাগঞ্জ নিয়ে আসেন। তারাগঞ্জ থানার পাশে থানাপাড়া থেকে রোগী আনার অজুহাতে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখেন। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে আরেক ব্যক্তি এসে রাকিবকে বিশ্বাস করান, ‘রোগীর লোক আমি, তারাগঞ্জ চৌপতি থেকে কিছু মাল নিতে হবে।’ রাকিব অটোতে তালা মেরে তাঁর সঙ্গে মোটরসাইকেলে যায়। তারাগঞ্জ চৌপতি পৌঁছেই একটি দোকানের কাছে নামিয়ে ওই ব্যক্তি ফোনে কথা বলার ভান করে সটকে পড়েন। যখন রাকিব ফিরে আসে, তখন থানাপাড়ার সেই জায়গা থেকে অটো উধাও।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার কেড়ে নেওয়া মানে তাঁদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া। অটোরিকশা ফেরত না পেলে মুসা মিয়ার সংসার আরও ঋণের বোঝায় জর্জরিত হবে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাকিবকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে অটোরিকশা উদ্ধারে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।