হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ ও অফিস কার্যকরে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

সংবিধান ও আইন অনুসারে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ ও অফিস কার্যকর করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রুল দেন।

সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, তদন্ত পরিচালনা ও দায়িত্ব সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। আর ১৯৮০ সালের অমবুডজম্যান আইনে (ন্যায়পাল আইন) ন্যায়পালের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, কার্যক্রম ও ন্যায়পালের পদের মেয়াদ ইত্যাদি বিষয়ে বলা আছে।

সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ এবং অমবুডজম্যান আইন থাকা সত্ত্বেও ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ ও অফিস কার্যকরে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী ইশরাত হাসান ১৯ মে ওই রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ইশরাত হাসান নিজেই শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

রুলে সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ ও ১৯৮০ সালের অমবুডজম্যান আইন অনুসারে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ ও অফিস কার্যকরে চলমান ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ব–বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

অমবুডজম্যান আইনে ন্যায়পালের কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়, একজন ন্যায়পাল থাকবেন, সংসদের সুপারিশ অনুসারে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেবেন। আর সংসদ আইনগত বা প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সুস্পষ্ট সততার অধিকারী একজন ব্যক্তিকে ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা ও নিয়োগে বাধ্যবাধকতা আছে। অমবুডজম্যান আইন নামে ১৯৮০ সাল প্রণীত পৃথক আইনও রয়েছে। এ সত্ত্বেও স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও দেশে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠা, নিয়োগ ও দপ্তরের কার্যক্রম চালু হয়নি; যা সংবিধানের অঙ্গীকার, সুশাসন ও নাগরিকদের প্রতিকার পাওয়ার অধিকারের পরিপন্থী। সরকারি সেবার ক্ষেত্রে নাগরিক হয়রানি, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা এবং সেবাপ্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করতে স্বাধীন ন্যায়পাল ব্যবস্থা এখনো অনুপস্থিত। যে কারণে রিটটি করা হয়।’

ন্যায়পাল–সংক্রান্ত সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদের ভাষ্য, সংসদ আইনের মাধ্যমে ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবে। সংসদ আইনের মাধ্যমে ন্যায়পালকে কোনো মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যেকোনো কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেমন ক্ষমতা কিংবা যেমন দায়িত্ব দেবেন, ন্যায়পাল সেরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। ন্যায়পাল তাঁর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বাৎসরিক প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং ওই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপিত হবে।

অমবুডজম্যান আইনে ন্যায়পালের কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়, একজন ন্যায়পাল থাকবেন, সংসদের সুপারিশ অনুসারে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দেবেন। আর সংসদ আইনগত বা প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সুস্পষ্ট সততার অধিকারী একজন ব্যক্তিকে ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে।