
সংবাদমাধ্যমের বড় বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (ইনমা) আয়োজিত ‘গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ একটি তৃতীয় পুরস্কার ও দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে প্রথম আলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) জার্মানির বার্লিন শহরের টিপি অ্যাম কান্সলারট থিয়েটারে গণমাধ্যমের বিশ্ব কংগ্রেসের সমাপনী সন্ধ্যায় এই পুরস্কার ঘোষণা ও প্রদান করা হয়।
এ বছর ‘বেস্ট ইউজ অব অ্যান ইভেন্ট টু বিল্ড আ নিউজ ব্র্যান্ড’ শ্রেণিতে (ন্যাশনাল ব্র্যান্ড) ‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৫’ উদ্যোগের জন্য তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে প্রথম আলো। ‘নেক্সট জেন অ্যাচিভারস: রিকগনাইজিং অ্যান্ড ইন্সপারায়ারিং দ্য নেক্সট জেনারেশন অব লিডারস’ শিরোনামে এই পুরস্কার পায় প্রথম আলো।
এক্ষেত্রে ন্যাশনাল ব্র্যান্ড বিভাগে প্রথম হয়েছে ভারতের দৈনিক জাগরণ এবং দ্বিতীয় হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিজনেস ডেস্ক।
‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন’ শ্রেণিতে (ন্যাশনাল ব্র্যান্ড) ‘তবু মাথা নোয়াবার নয়’ উদ্যোগের জন্য প্রথম আলো সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ন্যাশনাল ব্র্যান্ডে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে ভারতের দ্য হিন্দু, যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোনস এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড/ দ্য এইজ।
‘বেস্ট পাবলিক রিলেশনস অর কমিউনিটি সার্ভিস ক্যাম্পেইন’ (ন্যাশনাল ব্র্যান্ড) শ্রেণিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রথম আলো ট্রাস্টের পরিচালনায় আটটি স্কুল, যা আলোর পাঠশালা নামে পরিচিত, এর জন্যও সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে প্রথম আলো। এই শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ার নিউজ কর্প, ভারতের দৈনিক জাগরণ এবং সুইজারল্যান্ডের বেওবাখটার।
বাংলাদেশের আরও একটি গণমাধ্যম ডেইলি স্টার এ বছর একটি তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে। বেস্ট ইনিশিয়েটিভ টু বোলস্টার নেক্সট জেনারেশন রিডারশিপ (ন্যাশনাল ব্র্যান্ড) ক্যাটাগরিতে ডেইলি স্টার এ পুরস্কার পেয়েছে।
বিশ্বের ১০২টি দেশের এক হাজারের বেশি সংবাদমাধ্যমের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (ইনমা)। তারা ১৯৩৭ সাল থেকে সংবাদমাধ্যমের নানা ধরনের অনন্য উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।
বিভিন্ন দেশের পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য অন্যতম সম্মানজনক এই প্রতিযোগিতায় এবার ৪৬টি দেশের ২৭৪টি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে জমা পড়ে ৯৬০টি উদ্যোগ। এর মধ্য থেকে ২০০টি উদ্যোগকে ‘ফাইনালিস্ট’ (প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে স্থান পাওয়া) নির্বাচিত করে বিশ্বের ২৬টি দেশের ৬০ জন সংবাদমাধ্যম নির্বাহীর সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ড (বিচারক প্যানেল)। সেখান থেকে ৮টি বিভাগে ২০টি শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রথম আলো ছাড়াও এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, কানাডার টরন্টো স্টার, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, নিউজ কর্প, ভারতের দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য কুইন্ট ও জাগরণ, সুইজারল্যান্ডের ব্লিক, ডেনমার্কেন পলিটিকেন, সুইডেনের এনটিএম, সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইট টাইমস, হংকংয়ের সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ব্রাজিলের নেক্সো জার্নালসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের মালিক প্রতিষ্ঠান।
এবারের এই আয়োজন সম্পর্কে ইনমার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালক আর্ল জে উইলকিনসন বলেন, ‘এ বছরের বিজয়ী উদ্যোগগুলো থেকে স্পষ্ট যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে এখন পরিচালনব্যবস্থার কৌশলগত ও অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে, সরল গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধিকেন্দ্রিক ধারা বদলে গড়ে উঠছে সমন্বিত পাঠকব্যবস্থা, যেখানে শুধু নতুন গ্রাহক অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
শিখো-প্রথম আলোর উদ্যোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ৬৪ জেলায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উপহার, বিনোদন ও শিক্ষামূলক নানা কার্যক্রমের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আনন্দময় ও অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করাই এ আয়োজনের বিশেষ দিক।
এ পুরস্কার অর্জন প্রসঙ্গে জিপিএ-৫ কৃতি সংবর্ধনা উদ্যোগের দীর্ঘদিনের অংশীদার ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান শিখোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীর চৌধুরী বলেন, ‘জিপিএ-৫ উৎসব আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে যে স্বীকৃতি অর্জন করেছে, তা আমাদের সবার জন্য গর্বের। গত চার বছর ধরে প্রথম আলোর সঙ্গে এই উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত, কারণ এটি শুধু কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার আয়োজন নয় — বরং তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখানোরও একটি প্ল্যাটফর্ম। শিখোতে আমরা প্রতিদিন কাজ করি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্নপূরণের পথে পাশে থাকতে। সেই জায়গা থেকেই এই আয়োজন আমাদের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা এই উদ্যোগের পরবর্তী আয়োজন শুরু করতে যাচ্ছি, এবং আমরা চাই এটিকে আরও বড়, আরও অনুপ্রেরণামূলক এবং দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিতে।’
প্রথম আলো কার্যালয়ে উগ্রবাদীদের পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ঘটনাটিকে পাঠক-দর্শকের কাছে নিয়ে গেছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে বহুমাত্রিক উপস্থাপনার মাধ্যমে এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইন ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছিল।
সামিট গ্রুপ ও আঞ্জুমান-আজিজ ট্রাস্টের সহযোগিতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোট আটটি বিদ্যালয় পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। এসব বিদ্যালয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই মানবিক ও শিক্ষামুখী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবার স্বীকৃতি পেয়েছে।
‘ইনমা গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস’-এ বিগত বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা, দুটি প্রথম পুরস্কারসহ মোট ১১টি পুরস্কার পেয়েছে প্রথম আলো।
এ ছাড়া ওয়ান-ইফরার দক্ষিণ এশীয় ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে প্রথম আলো ৩টি সোনাসহ মোট ১৩টি পুরস্কার পেয়েছে। ওয়ান-ইফরার বৈশ্বিক আয়োজন সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড প্রিন্ট ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডেও দুটি সেরার পুরস্কার পেয়েছে।