ঘরে বসেই জমজমাট কেনাকাটা

ঈদ মানেই অফুরন্ত আনন্দ, আর সেই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নতুন পোশাক, নানা উপহার ও গৃহস্থালি সামগ্রী। ঈদের কেনাকাটার কথা মনে আসতেই চোখের সামনে ভেসে উঠত বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, যানজটের দীর্ঘ সারি আর কেনাকাটা শেষে ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফেরা। এ ছাড়া কোরবানির পশু কেনার জন্য হাটে রীতিমতো যুদ্ধ তো আছেই। কিন্তু ২০২৬ সালের দৃশ্যপট যেন সম্পূর্ণ আলাদা। প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ, ইন্টারনেট সেবার বিস্তার এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের ফলে এবারের ঈদের কেনাকাটায় এসেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। যানজট ও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি এড়িয়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন ঘরে বসেই স্বাচ্ছন্দ্যে সেরে নিচ্ছেন তাঁদের ঈদের কেনাকাটা। হোক সেটা পণ্য বা কোরবানির পশু।

বর্তমানে দেশের ছোট-বড় প্রায় সব ফ্যাশন ব্র্যান্ড, ইলেকট্রনিক সামগ্রী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সুপারশপগুলোর রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট বা স্মার্টফোন অ্যাপ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম-ভিত্তিক হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঈদকে কেন্দ্র করে সাজিয়েছেন তাঁদের ভার্চ্যুয়াল পসরা। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, শিশুদের পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী এবং ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী—সবই এখন মিলছে হাতের মুঠোয়, মাত্র একটি ক্লিকেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত আট মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ই–কমার্সে লেনদেন হয়েছে। 

২০২৬ সালের ই-কমার্সে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তিগত সুবিধা। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী পণ্য প্রদর্শন, ভার্চ্যুয়াল ট্রায়াল রুম এবং থ্রিডি ভিউয়ের মাধ্যমে পণ্য যাচাই করার সুযোগ থাকায় দোকানে গিয়ে কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে। ক্রেতারা এখন বাসায় বসেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্ক্রিনে পণ্য দেখে, দাম যাচাই করে অর্ডার চূড়ান্ত করতে পারছেন। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে হোম ডেলিভারি সেবা নিশ্চিত করায় সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে বহুগুণ।

অনলাইনে কেনাকাটার এই বিশাল জোয়ারের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন। নগদ টাকা বহন করার ঝুঁকি, চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় এবং ভাঙতি টাকার ঝামেলা এড়াতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই এখন ডিজিটাল পেমেন্টকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছর বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ এবং স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়-এর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার এখন দেশের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে। শুধু অনলাইন শপ নয়, যাঁরা সশরীর শপিংমলে যাচ্ছেন, তাঁরাও নগদ টাকার বদলে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এবারের ঈদ মৌসুমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।