সাক্ষাৎকার: ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ

প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সহায়তা করতে হবে

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রীতিমতো মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই জেলার ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। বড় ধরনের প্রাণহানির খবর এখনো না এলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীই এখন নিঃস্ব। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়জুল্লাহ।

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ
ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ
প্রশ্ন

প্রথম আলো: ব্যবসায়ীরা কীভাবে বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: বন্যার পানি বাড়তে শুরু করলে সিলেট নগরীর ব্যবসায়ীরা মিলে প্রশাসনের সাহায্য চাই। তখন সরকারের পক্ষ থেকে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুল খুলে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা তাঁদের ভারী মালামাল নিয়ে সেখানে রাখতে শুরু করেন। এখনো অনেকে রেখে আসছেন। প্রয়োজন হলে পানি না কমা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মালামাল রেখে আসতে পারবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, শহরে ব্যবসায়ীদের সম্পদ কিছুটা রক্ষা করা গেলেও জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ও সুনামগঞ্জের অধিকাংশ এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রায় সব সম্বল হারিয়েছেন। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সব মালামাল। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেসে গেছে। বলতে পারেন, তাঁদের কিছুই নেই।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: কতগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকা মিলিয়ে ১০ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জে পাঁচ-সাত হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান আরও ভয়াবহ অবস্থায়। বানের পানিতে অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেসে গেছে। প্রত্যন্ত এলাকার হিসাব এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিশ্চিত, হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু পানির নিচে। আমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি; তাঁরা বলেছেন, এবার পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে দোকানের মালামাল রক্ষা করা তো দূরের কথা, প্রাণে বেঁচে আছেন, সেটাই অনেক। এবারের বন্যার ভয়াবহতা চোখে না দেখলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: এই ক্ষতি পোষানো তো সম্ভব নয়, নতুন করে শুরু কীভাবে হবে?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। তারপর সরকারের সঙ্গে বসব। আপাতত বড় ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু না করা গেলেও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার বিকল্প নেই। সরকারের কাছে আবেদন, প্রান্তিক এসব ব্যবসায়ীর জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থা করা হোক, অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হোক। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারি-বেসরকারি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া এখানকার অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন স্পটগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। পর্যটকদের কাছে অনুরোধ, সিলেটে ঘুরতে আসুন; তাহলে এখানকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হবে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: এখনকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় চেম্বার কী উদ্যোগ নিয়েছে, দোকানপাট খুলছে কি?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: এই পরিস্থিতিতে আমরা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সবাইকে সহযোগিতা করছি। যেখানে পারছি, সেখানে বলে দিচ্ছি, এই সংকট সবার। ব্যবসায়ী বলে কথা না, আমরা সবাইকে সাধ্যমতো সাহায্য করছি। দোকানপাট এখন কিছু কিছু খোলা হচ্ছে। অন্যরা পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলবেন। খাদ্যদ্রব্যের দোকানগুলো চালু রাখার সব চেষ্টা আছে। সবাই সহনশীল। তবে কিছু অভিযোগও এসেছে। এর মধ্য ব্যবসায়ীদের জন্য আতঙ্ক হয়ে এসেছে ডাকাতির ভয়। ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরাও সব দিকে খেয়াল রাখছি। বন্যার ভয়াবহতা থেকে সবাই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, সেই প্রত্যাশা করি।