বাইরের আভিজাত্য আর ভেতরের পরিপাটি শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি সাধারণ ফ্রিজ হয়ে উঠতে পারে আধুনিক গৃহস্থালির অনন্য উদাহরণ
বাইরের আভিজাত্য আর ভেতরের পরিপাটি শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি সাধারণ ফ্রিজ হয়ে উঠতে পারে আধুনিক গৃহস্থালির অনন্য উদাহরণ

ঈদের কেনাকাটা

ছাড় ও অফারে জমে উঠেছে ফ্রিজের বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের ইলেকট্রনিকস বাজারে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এই উৎসব ঘিরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আকর্ষণীয় সব অফার দিয়েছে। এ কারণে রাজধানীসহ সারা দেশেই এখন ফ্রিজ বিক্রি বেশ জমে উঠেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সহজ কিস্তি–সুবিধা, মূল্যছাড়, ক্যাশব্যাক এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের কারণে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী ক্রেতাদের মধ্যে ফ্রিজ কেনার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি পশুর মাংস যাতে ভালো থাকে, সে জন্য বরাবরের মতো এবার ঈদেও ফ্রিজ কেনার জন্য শোরুমগুলোয় ভিড় করছেন ক্রেতারা। এবারও মাঝারি আকারের ফ্রিজের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ১০ থেকে ১৪ সিএফটি (কিউবিক ফিট) ধারণক্ষমতার ফ্রিজের চাহিদা এবার শীর্ষে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখেই ক্রেতারা ফ্রিজ নির্বাচন করছেন বলে জানান শোরুমের বিক্রয়কর্মীরা।

বর্তমানে বাজারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ফ্রিজের দাম ২৫ হাজার থেকে শুরু করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ছোট পরিবারের জন্য মিনি ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, ইনভার্টার প্রযুক্তির মাঝারি আকারের ফ্রিজগুলো ৩৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ফ্রিজ বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র অ্যাডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটন বলেন, ঈদের শেষ মুহূর্তে বাজার বেশ ভালোই জমে উঠেছে। ওয়ালটন বর্তমানে ফ্রিজের বাজারে শীর্ষ অবস্থানে আছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে কিছুদিন আগে মানুষ বড় খরচে সতর্ক থাকলেও, ঈদ সামনে আসায় এখন কেনাকাটায় দারুণ সাড়া মিলছে।

বর্তমানে বড় ও মাঝারি ফ্রিজের পাশাপাশি বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির মডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে প্রথম আলোকে জানান ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাহসিনুল হক। তিনি জানান, আগে ক্রেতারা মূলত দাম বিবেচনা করে ফ্রিজ কিনতেন। কিন্তু এখন স্মার্ট ফিচারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, বিদ্যুতের খরচ, খাদ্য সংরক্ষণের মান এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার বিষয়গুলোকে এখন তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এবারের ঈদে ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) প্রিমিয়াম মডেলের ফ্রিজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

ওয়ালটন এখন পণ্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও অটোমেশনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে উল্লেখ করে তাহসিনুল হক আরও বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক পার্কে ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ, কোরিয়া, ইতালি, চীন, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দল কাজ করছেন। তাঁদের বাজার গবেষণার ভিত্তিতেই ওয়ালটন ফ্রিজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অব থিংসের (এআইওটি) মতো স্মার্ট প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ওয়ালটন ফ্রেঞ্চ-ডোর ফ্রিজ উৎপাদনকারী হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ব্যতিক্রমী ইলেকট্রনিক পণ্য হিসেবে ‘এইট-ইন-ওয়ান’ কনভার্টিবল সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটর উৎপাদন ও বাজারজাত করছে এখন বাংলাদেশ।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও লাখ টাকার উপহার

ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবার ১০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, ক্যাশব্যাক ও ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ফ্রিজ বদলে নতুন ফ্রিজ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

মধ্যবিত্তের ভরসা কিস্তি

এবারের ঈদে ফ্রিজ বিক্রির সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে কিস্তি–সুবিধা। অধিকাংশ শোরুমেই ৬ মাস থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত ইএমআই–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডাউনপেমেন্ট ছাড়াই কিস্তিতে পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় মধ্যবিত্ত ক্রেতারা শোরুমগুলোয় বেশি ভিড় করছেন।

উৎসবের কেনাবেচার ধুম—এক বছরে ফ্রিজ বিক্রির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হয় কোরবানির ঈদের আগের ১ মাসে। এ ঈদে মাংস সংরক্ষণে ডিপ-ফ্রিজারের চাহিদা বেশি।

অনলাইন বনাম শোরুম

অনলাইনেও এখন ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে এবং সেখানে চলছে বিশেষ ঈদ অফার ও ফ্রি ডেলিভারি। তবে ফ্রিজ যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি ও বড় অঙ্কের একটি পণ্য, তাই অধিকাংশ ক্রেতাই এখনো সরাসরি শোরুমে গিয়ে নিজে দেখে কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। ফলে অনলাইনে বিক্রি কিছুটা বাড়লেও শোরুমের চিরচেনা ব্যস্ততাই মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়ে গেছে।

জিরো-ইন্টারেস্ট ইএমআই ও ক্যাশব্যাক অফারে অনলাইনে বার্ষিক বিক্রি ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বাড়ছে বিক্রি

  • উৎসবের কেনাবেচার ধুম—এক বছরে ফ্রিজ বিক্রির ২৫ থেকে ৩০% হয় কোরবানির ঈদের আগের ১ মাসে। এ ঈদে মাংস সংরক্ষণে ডিপ-ফ্রিজারের চাহিদা বেশি।

  • জিরো-ইন্টারেস্ট ইএমআই ও ক্যাশব্যাক অফারে অনলাইনে বার্ষিক বিক্রি ১৫% হারে বাড়ছে।