লকডাউনে বাবার স্মৃতিতে আবেগাক্রান্ত লতা

আজ লতা মঙ্গেশকরের বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ছবি : টুইটার
আজ লতা মঙ্গেশকরের বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ছবি : টুইটার

লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর মাত্র ৪২ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান। তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চ অভিনেতা। লতার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখন ১৯৪২ সালের ২৪ এপ্রিল হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে দীননাথ মঙ্গেশকর মারা যান। বাবার কাছেই ছোটবেলায় গানের অ আ শিখেছিলেন লতা, আশা।

আজ শুক্রবার দুপুরে দীননাথ মঙ্গেশকরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাবাকে স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হলেন উপমহাদেশের এই কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী। টুইটারে প্রয়াত বাবার বেশ কিছু ছবি দিয়ে লতা মঙ্গেশকর জানালেন, লকডাউনের কারণে এ বছর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়নি। তবে বাবাকে স্মরণ করে তিনি নানান সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমার শ্রদ্ধেয় পিতা, গুরু দীননাথ মঙ্গেশকরজির ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা দুঃখিত এই বছর আমরা করোনার কারণে মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান করতে পারিনি । তবে এই বছর আমরা একটি ফাউন্ডেশনকে লাখ লাখ টাকা দিচ্ছি। বাবার স্মৃতির উদ্দেশেই এই দান।’

বাবার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন লতা। ছবি: টুইটার

প্রসঙ্গত, লতা মঙ্গেশকরের বাবা দীননাথ অকালমৃত্যুর সময় তেমন কিছু রেখে যেতে পারেননি। পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় মা সুধামতী দিশেহারা। কে ধরবে সংসারের হাল? গুরুদায়িত্বটা নিতে হলো কিশোরী লতাকে।

সে সময় বাবার বন্ধু ‘নবযুগ চিত্রপট চলচ্চিত্র কোম্পানি’র মালিক মাস্টার বিনায়ক পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ছোটবেলায় মাঝেমধ্যে চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন লতা। কিন্তু বিনায়ক তাঁকে গান আর অভিনয়কে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে শেখালেন। মারাঠি চলচ্চিত্রে গাওয়া তাঁর গান ‘খেলু সারি মানি হাউস ভারি’ চলচ্চিত্রের থেকে বাদ পড়ে গেল। তবু দমে যাননি লতা। মাস্টার বিনায়ক তাঁর চলচ্চিত্র ‘পাহিলি মঙ্গলা-গৌর’–এ লতা মঙ্গেশকরের জন্য ছোট একটি চরিত্র বরাদ্দ করেন। এ চলচ্চিত্রে দাদা চান্দেকারের রচনা করা গান ‘নাটালি চৈত্রাচি নাভালাল’–এ কণ্ঠ দেন তিনি। তখনো চলছে তাঁর জীবনের সঙ্গে নিত্যদিনের যুদ্ধ। চলচ্চিত্রের জীবনকে কখনো আপন করে নিতে পারেননি তিনি। একদিন কাজ শেষে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলেন। মায়ের প্রশ্নের উত্তরে জানান, এই কৃত্রিম অভিনয়ের জগৎ তার আর ভালো লাগে না। কিন্তু কিছু করার নেই, পুরো পরিবারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। বসন্ত যুগলকরের ‘আপ কি সেবা ম্যায়’ চলচ্চিত্রে ‘পা লাগো কার জোরি’ গানটি তাঁর প্রথম হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রে গাওয়া গান।

লতা মঙ্গেশকর। ছবি: টুইটার।

বিনায়কের মৃত্যুর পর সংগীত পরিচালক গুলাম হায়দার হন লতার গুরু। নিজের এক জন্মদিনে লতা বলেছিলেন, গুলাম হায়দার তাঁর জীবনে ‘গডফাদার’ ছিলেন। গুলাম হায়দারের হাত ধরে তাঁর জীবনে সুযোগ এল ‘মজবুর’ চলচ্চিত্রে ‘দিল মেরা তোড়া, মুঝে কাহি কা না ছোড়া’ গানটি গাওয়ার। এই এক গানেই বলিউড ইন্ডাস্ট্রি নতুন এই গায়িকাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। জীবনের প্রথম বড় ধরনের হিট নিয়ে আসে ‘মহল’ চলচ্চিত্রের ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি। এ গানে ঠোঁট মেলালেন মধুবালা।

সেই থেকে শুরু। তারপর হাজার হাজার গানে আপ্লুত করেছেন লাখো মানুষকে। ভালোবাসার সঙ্গেই এসেছে অসংখ্য পুরস্কার ও উপাধি। পঞ্চাশের দশকেই গান করে ফেললেন নামীদামি সব সংগীত পরিচালকের সঙ্গে। তবে এত দূর এসেও এই বয়সেও বাবাকে ভুলে যাননি। বরং স্মরণ করেন নানা সময়ে, নানাভাবে।