ভেড়াওয়ালা মামা প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি সব সময় মুখ দিয়েই খাবার খান?’
কী বলতে চাইল বুঝলাম না, তা–ও উত্তর দিলাম, ‘হ্যাঁ!’
‘অন্য কোনো দিক দিয়ে তো খান না?’
‘না!’
‘তাইলে ছাগল কার্ড দিয়ে কীভাবে ভেড়া কিনতে চান?’
আজকাল শরীরে হাড়ের চেয়ে কার্ড বেশি। ফলে প্রায়শই চাল কিনতে তাল কার্ড, সাবান কিনতে লাবাং কার্ড, ডাব কিনতে গাব কার্ড নিয়ে বের হয়ে যাই। লজ্জায়–অপমানে তখন নিজেকেই মনে হয় বঙ্গভান্ডারের বিবিধ কার্ডের একটি। যদিও বাজারে কার্ড গুছিয়ে রাখার জন্য নানা রকম ব্যাগ পাওয়া যায়। সেই ব্যাগ কিনতে লাগে আবার ব্যাগ কার্ড। সেই কার্ডের জন্য অ্যাপ্লাই করেছি, সবার দোয়ায় বছর দু-তিনেকের মধ্যে পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। তবে সরকার বলেছে, পরেরবার ক্ষমতায় এলে মানুষের কষ্ট লাঘবে তারা আরেকটি কার্ড নিয়ে আসবে অল কার্ড নামে। সব কার্ডের ডেটা এ কার্ডেই থাকবে। তখন আর অভাগা বাঙালির এসব উটকো ঝামেলা থাকবে না।
আপাতত নিজের দুঃখ লাঘবের জন্য বাসার দিকে রওনা দিলাম ভেড়া কার্ডের জন্য। কিন্তু সিএনজি থেকে নেমে আরেক বিপত্তি, সিএনজি কার্ডে টাকা নাই। রিকশা, লেগুনা ও বাস কার্ড মিলিয়ে আছে ৯৮ টাকা। অন্য কার্ড থেকে টাকা ট্রান্সফারের সুবিধা আছে, তবে সে জন্য হেল্পলাইনে ফোন দিতে হবে। ফোন দিয়ে আমার চাওয়াটা বললাম। তাদের একজন বলল, ‘আপনি শুধু যানবাহন টু যানবাহন কার্ডে টাকা ট্রান্সফার করতে পারবেন।’
‘তাহলে করে দেন।’
‘কিন্তু আপনার টাকা আছে শুধু ট্রলার কার্ডে।’
‘তাহলে সেটা থেকে সিএনজি কার্ডে ট্রান্সফার দেন।’
‘কিন্তু ট্রলার তো চলে নদীতে, সিএনজি চলে রাস্তায়।’
‘সমস্যা কী? দুেটাই তো চলে।’
‘এ ছাড়াও পার্থক্য আছে।’
‘কী পার্থক্য?’
‘একটার শব্দ হয় ঠ্যারঠ্যারঠ্যার আরেকটা ভোওওওও!’
মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। এক বন্ধুকে এনে তার কার্ড দিয়ে সিএনজির ভাড়া মিটিয়েছি। তারপর বাসায় গিয়ে হাতের কাছে যা কার্ড পেয়েছি সব একটা কাগজের ঠোঙায় ভরলাম। কোন সময় কোন কার্ড প্রয়োজন হয়, বিপদ–আপদের তো আর কার্ড নাই, কখন আসে…
পথে পুলিশ সদস্য থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ঠোঙায় কী?’
‘কার্ড!’
‘সত্যিই কার্ড, নাকি অন্য কিছু? দেখি!’
তিনি সবকটি কার্ড দেখে আমাকে নতুন তথ্য জানালেন, ‘আপনি জানেন কার্ড রাষ্ট্রীয় সম্পদ?’
‘জানি না আবার! সারাক্ষণ টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়, সবার আগে ভালো থাকি, নিজের কার্ড যত্নে রাখি।’ (শেষের লাইনটুকু একটু জিঙ্গেলের মতো গেয়ে শোনালাম পুলিশকে)
পুলিশের রাগ খানিক বেড়েছে, ‘আপনি তো রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবমাননা করছেন, অযত্ন–অবহেলা করছেন। জানেন আপনাকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি?’
‘সাথে কি আমার কার্ডগুলোকেও গ্রেপ্তার করবেন? এক সেলে থাকব তো আমরা? তাহলে সমস্যা নেই, ওরা আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না স্যার।’ বলেই কার্ডগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমাদের না আমি কত আদর করি! পুলিশ আংকেলকে বলো। তোমাদের কে মাথার কাছে রেখে ঘুম পাড়ায়? কে আদর করে সাথে নিয়ে ঘোরে? এই ফুল কার্ড, সেদিন যে তুমি নর্দমায় পড়ছ, কে তোমায় তুলে সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করিয়েছে? বলো সব পুলিশ আংকেলকে!’
পুলিশ কেন যেন খেপে গেলেন, ‘এই মিয়া! ফাজলামো করেন?’
আমি বললাম, ‘না। আমার ফাজলামো কার্ড নাই। ওটা শুধু সরকারি লোকজনের জন্য।’