একটা জীবন নাহয় কষ্টে গেল
এ মহাস্রোতের শতজনমের ভিড়ে
একটা জীবন নাহয় নষ্ট হলো।
একটা জীবন নাহয় বালুর বাঁধ
একটা জীবন নাহয় কেবলই ফাঁকা
যতটুকু পাই, তা–ই বা কমই বা কিসে
যেদিকে তাকাই, ধু ধু বালুচর খা খা।
এ জীবনে হায় কতই না লেনদেন
কত কবিতার পঙ্ক্তিমালার খেলা
শত পঙ্ক্তির মালা গাঁথা শেষ হলে
জেনে যায় মন, এ জীবন অবহেলা।
একটা জীবন ক্ষুধায় কাতর চোখ
একটা জীবন পোড়া ঝলসানো বুক
মাটি দিয়ে গড়া এ হৃদয়খানি কাঁচা
একটা জীবন অন্ধের মতো বাঁচা।
মেঠোসুরের মতো
আমি ভাসতে থাকি বাতাসে
ঝরে পড়া ফুলের পাপড়ির মতো
আমি ঝরে পড়ি মাটির আলিঙ্গনে
আর মেঘ থেকে নেমে আসা সেই আশ্চর্য বিস্ময়
স্নায়ুকে নিহত করে দিলে
পাহাড়ি ঝরনার মতো আমি নত হই
জেনে যাই,
এ জীবন একলার নয়
পাখির গানের তানে আমারও অক্ষর তবে আছে
পোড়া ক্ষত বুকে নিয়ে যে পথিক চলেছ আঁধারে
সে আমারই ভাই, সে আমারই বোন
তাকে বাদ দিয়ে এই প্রাণের অস্তিত্ব কোনো নেই
জন্মের সকল গিঁট খুলে ফেলে
প্রার্থনার ভঙ্গিতে আমি নত হই
তার—
হাতখানি ধরি।
যাই, মন খারাপের দেশে যাই
ছুঁয়ে দেখি তার পাতা, সবুজ মন্দিরা
পানকৌড়ি রোদ মেখে ডানা মেলি জলে
জলের আয়নায় মুখ দেখাদেখি শেষ হলে
পড়ে থাকি মূক, নরম পলির গানে
ডুবে।
যাই, সবুজ হিরের দেশ ঘুরে আসি
মেলে আসি ডানা
ধনু নদের জলে ডুব দিতে
দিতে
দিতে
মুখে আঁকি রুপোর আলপনা।
যাই পানায় পানায় মাখামাখি জল ছুঁয়ে আসি
মেঘের আদর মেখে মাতাল মাতাল চোখে হতবাক চেয়ে পূর্ণিমা।
কাল রাতে ছিল অস্থিরতার কারুকাজ
একে একে পুড়ে গেল জলের সোহাগ, মাটি, ঘাসের পৃথিবী।
যেন পৃথিবীতে কোনো দাবানল
হাত পা ছুড়ছে, মুখ খিঁচোচ্ছে।
একটা মরুভূমি
একটা গভীর ক্ষত
একফোঁটা তৃষ্ণার জল
জলের ভেতর হৃৎপিণ্ডের লাশ।
এত অন্তর্লীন সংঘাত
পালক খসার মতো খসে পড়ছে চারদিকে।
অভয়ারণ্যের গান থেমে গেছে বহু আগেই
নক্ষত্রেরা আগলে রেখেছে পথ
একে একে খুলে যাচ্ছে সময়ের বেণি
এখনই সময়
লু হাওয়ায়
ভেসে যাবার।