
মৌলিক অধিকার পূর্ণ হলেই গণতন্ত্রের সাফল্য। কিন্তু দেশে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে মানুষ কী নিদারুণভাবে বঞ্চিত, তা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের দিকে একনজর তাকালে সহজেই আন্দাজ করা যায়। জেলার ১২ লাখ মানুষ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাঁচার জন্য এই হাসপাতালে ছুটে আসে। কিন্তু তাদের যাঁরা চিকিৎসাসেবা দেবেন, সেই চিকিৎসকই এখানে নেই বললে চলে। এখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৪৩ জন। আছেন ৬ জন। ৩৭টি পদই দীর্ঘদিন ধরে খালি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, এই হাসপাতালে ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদের ১৮টিই শূন্য। আর চিকিৎসা কর্মকর্তার ১৯টি পদের মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ ২১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে নাক–কান–গলা, শিশু, গাইনি, প্যাথলজিস্ট, মেডিসিন, চক্ষু, কার্ডিওলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, অর্থোপেডিকস, রেডিওলজিস্ট ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকের পদ শূন্য। অথচ ১৯৯৭ সালে, তার মানে দুই যুগ আগে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও এসেছে।
যে হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকে, যে হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৪৫০ থেকে ৫০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়, যে হাসপাতালে চিকিৎসা করার বাইরেও প্রশাসনিক কাজ, ময়নাতদন্ত, ধর্ষণের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম আছে, সেখানে ছয়জন চিকিৎসকের পক্ষে আদতে কী করা সম্ভব, তা অতি সহজেই অনুমেয়।
এর বাইরে এখানে ৫০ শয্যার একটি করোনা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে, যা সামলাতে ২০ জন চিকিৎসককে অন্য হাসপাতাল থেকে সাময়িকভাবে আনা হয়েছে। তবে সেই ২০ জন সাধারণ রোগীদের সেবায় স্বাভাবিকভাবেই নিয়োজিত হতে পারছেন না।
চিকিৎসাসেবায় দেশ প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে বলে যেসব বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তা দাবি করে থাকেন, তাঁদের সেই দাবি যে কতটা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের দিকে তাকালে বোঝা যায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি এই হাসপাতালের মতো সারা দেশের অবহেলিত হাসপাতালের বাস্তবতা অনুধাবন করে, তাহলেই সাধারণ মানুষের রোগযন্ত্রণা লাঘবের পথ প্রসারিত হয়। সরকারকে বুঝতে হবে শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে না। এ জন্য দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।