মুক্ত গণমাধ্যমের পথে বাধাগুলো দূর করুন

সূচকে পিছিয়ে বাংলাদেশ

মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের ক্রমাগত পিছিয়ে থাকা কেবল এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উদ্বেগের কারণ নয়; রাষ্ট্র ও জনগণের জন্যও উৎকণ্ঠা তৈরি করে। প্রতিবছরের মতো এবারও রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের হালচাল নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১তম। গত বছর ছিল ১৫০। আরও দুর্ভাগ্যজনক হলো এ অঞ্চলের ৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। এমনকি আধা সেনাশাসিত মিয়ানমারও বাংলাদেশের ওপরে আছে। দেশটির অবস্থান ১৩৯। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সূচক যথাক্রমে ভুটান ৬৭, মালদ্বীপ ৭৯, ভারত ১৪২, পাকিস্তান ১৪৫, শ্রীলঙ্কা ১২৭, নেপাল ১১২ ও আফগানিস্তান ১২২। 

 সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে যেসব তথ্য ও যুক্তি দিয়েছে, তা অমূলক নয়। আরএসএফের মতে, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের পছন্দ নয় এমন খবর ছাপা হলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ঠুকে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের হয়রানি করার অসংখ্য নজির আছে। 

গত সপ্তাহে ত্রাণসামগ্রী চুরিসংক্রান্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দুটি নিউজ পোর্টালের সম্পাদকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী একটি সংগঠনের একজন স্থানীয় নেতা। প্রকাশিত খবরে তথ্যগত ভুল থাকলে তিনি প্রতিবাদ জানাতে কিংবা প্রেস কাউন্সিলে মামলা করতে পারতেন। কিন্তু সেসব না করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক ইউনিয়ন অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। 

ঢাকা সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় অনেক স্থানে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছেন। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। 

 প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার উদ্দেশ্য মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ক্ষমতাসীন মহলের অনেকেই বলেছেন, করোনাসংকটের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অসত্য তথ্য প্রচার হচ্ছে, তার বিপরীতে মূলধারার গণমাধ্যম সঠিক তথ্যটিই জনগণকে জানাচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যম যদি জনগণকে সঠিক তথ্যই দিয়ে থাকে, তাহলে এর ওপর ক্ষমতা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এত রোষ কেন? গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সরকারকে বুঝতে হবে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।