পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় সরকারি খাল খননকাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খননকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। শপথ গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খননও শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে খাল খননের সময় খননযন্ত্রে এ আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি পরিবেশ রক্ষায় সরকারি কার্যক্রমের ওপর সরাসরি আঘাত।
পিলাক খাল খননের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনকল্যাণকর। গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন বা কৃষিকাজে সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু কাজটি যখন সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে নাশকতার পথ বেছে নেয়। এই আগুন লাগানোর ঘটনা কেবল একটি যন্ত্রকে ধ্বংস করেনি, বরং স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন প্রত্যাশায়ও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, যারা এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তারা আসলে কারা? কেন তারা সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে? জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরে আগুন দেওয়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রের সরাসরি ক্ষতি করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোটি টাকার ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে, যা আসলে জনগণের করের টাকারই অপচয়। এ ধরনের ঘটনা ঠিকাদার বা শ্রমিকদের মনে যেমন ভীতি তৈরি করে, তেমনি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও শঙ্কার সৃষ্টি করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আমরা তার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই। দোষীদের খুঁজে বের করে কেবল আইনের আওতায় আনাই যথেষ্ট নয়, বরং এই নাশকতার নেপথ্যে কোনো বড় ষড়যন্ত্র বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে এ ধরনের অপশক্তিকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। আমরা আশা করি অতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে জনস্বার্থবিরোধী কোনো অপকর্ম করে পার পাওয়া যাবে না। উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে হলে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।