
>শচীন টেন্ডুলকার কবে প্রথম খেলেছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গে। কোন বাংলাদেশি ক্রিকেটার তাঁকে প্রথম আউট করেছিলেন?
শচীন টেন্ডুলকার আজ পা রাখলেন ৪৭–এ। ক্রিকেটের জীবন্ত এই কিংবদন্তির জন্মদিনটা এমন এক সময়ে যখন করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে সারা দুনিয়া। নিজের জন্মদিনটা তাই নিভৃতেই কাটাচ্ছেন টেন্ডুলকার। কিন্তু তিনি নীরব থাকলে কী হবে, ক্রিকেট বিশ্ব তো চুপ করে নেই। এ শুভদিনে অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, অনেকেই তাঁর ২৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের স্মৃতি রোমন্থন করে চলেছেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে টেন্ডুলকারের সম্পর্কটাও অনেক পুরোনো। তাঁর ক্যারিয়ারে বাংলাদেশ আছে বড় জায়গা জুড়েই। তাঁর অজস্র রেকর্ডের অনেকগুলোরই সাক্ষী বাংলাদেশের মাঠ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শততম সেঞ্চুরিটি এসেছিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেই তিনি নিজের ৩৪তম টেস্ট সেঞ্চুরিটি করে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী হয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা কবে হয়েছিল? সে ম্যাচে তিনি কেমন করেছিলেন? বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটারই বা তাঁকে প্রথমবারের মতো ফিরিয়েছিলেন?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেন্ডুলকারের অভিষেক সেই ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। বাংলাদেশের মাটিতে ‘লিটল মাস্টার’ যখন প্রথম পা রাখেন তখন ক্রিকেট দুনিয়া তাঁকে ‘ওয়ান্ডার বয়’ হিসেবেই চেনে।
সালটা ১৯৯০। নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার পথে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে থেমেছিল মো. আজহারউদ্দিনের ভারতীয় দল। টেন্ডুলকারকে সেবারই প্রথম দেখেছিলেন ঢাকার ক্রিকেট দর্শকেরা।
কিন্তু মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেন্ডুলকার নেমেছিলেন আরও পরে—১৯৯৫ সালের এই এপ্রিল মাসেই। শারজায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শুরুর ম্যাচটি ভারত খেলেছিল বাংলাদেশের সঙ্গে। সে ম্যাচে ৩০ বলে ৪৮ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন টেন্ডুলকার। সেদিন তাঁকে বোল্ড করে ফিরিয়েছিলে বাঁ হাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। বাংলাদেশের ১৬৩ রানের স্কোরটা শুধু টেন্ডুলকারের উইকেটটি হারিয়েই পেরিয়ে গিয়েছিল ভারত।
শারজায় ১৯৯৫ সালের ৫ এপ্রিল এশিয়া কাপের সে ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের পক্ষে রফিকের ওয়ানডে অভিষেক। অভিষেকেই টেন্ডুলকারের মতো বড় তারকার উইকেট, তাও আবার বোল্ড করে, বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি স্পিনার সেদিন আলাদা করেই দৃষ্টি কেড়েছিলেন। তবে রফিক সেখানেই থেমে যাননি। ২০০৭ পর্যন্ত তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও দুইবার টেন্ডুলকারকে ফেরানোর রেকর্ড আছে তাঁর। এরমধ্যে ওয়ানডেতে একবার, টেস্টে একবার। ১৯৯৮ সালে ভারতে ত্রিদেশীয় সিরিজে মুম্বাইয়ে তিনি দ্বিতীয়বার ফেরান টেন্ডুলকারকে, সেটি ছিল কট অ্যান্ড বোল্ড। ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে টেস্টে রফিকের বলে আবারও ফেরেন ক্রিকেট–কিংববদন্তি।
টেন্ডুলকারের মনে আছে কিনা জানা নেই। তবে রফিক আজ টেন্ডুলকারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যাপারটা মনে করে দিলেও দিতে পারতেন!