সিলেট টেস্টে স্বাগতম।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ঢাকার মিরপুরে প্রথম টেস্ট ১০৪ রানে জিতে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে নাজমুল হোসেনের দল।
বাংলাদেশ এই ম্যাচে তাকিয়ে সিরিজ জয়ে। পারবে বাংলাদেশ এবং কতটা প্রস্তুত—তা জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে।
বাবরের ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশ তাকিয়ে সিরিজ–জয়ে
সিলেট টেস্টের আগে ফাস্ট বোলার নাহিদ রানার প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুশফিক। কী বলেছেন জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে—‘ও কখনো সংকোচ করত না’—নাহিদকে নিয়ে মুগ্ধ মুশফিক।
এই ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের কোথায় আঘাত করতে হবে সেটা তাদের জানা আছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ভোরে বজ্রসহ বৃষ্টি হলেও সকালে রোদ উঁকি দিয়েছে সিলেটে। আকাশে মেঘ আছে যদিও। তবে মাঠ পুরোপুরি তৈরি। দুই দলের ক্রিকেটাররা ওয়ার্ম আপ করছেন। বৃষ্টি না হলে ঠিক সময়েই শুরু হবে দিনের খেলা।
ম্যাচের আগে টেস্ট অভিষেক ক্যাপ পেয়েছেন তানজিদ হাসান। সাদা বলের ক্রিকেট থিতু হয়ে যাওয়া এই ওপেনারের টেস্ট অভিষেক হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কিন্তু মন্দ করেননি এই বাঁহাতি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচে ৪০.৪২ গড়ে ১৭৯২ রান করেছেন, আছে ৫টি সেঞ্চুরিও।
তানজিদকে টেস্টের ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ১০৯ তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অভিষিক্ত হবেন তানজিদ।
টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করবে বাংলাদেশ।
নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম।
তানজিদের অভিষেকের খবর তো আগেই পেয়েছেন, ওপেনিংয়ে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গী হবেন তিনি। আঙুলের চোটে ম্যাচে খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাদশে আছেন মাহমুদুল। একাদশে আরও একটি পরিবর্তন আছে— ইবাদত হোসেনের বদলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম।
আজান আওয়াইস, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, আব্দুল্লাহ ফজল, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, খুররম শাহজাদ, সাজিদ খান, হাসান আলী ও মুহাম্মদ আব্বাস।
পাকিস্তান একাদশেও এসেছে ৩ পরিবর্তন। বাবর আজম, সাজিদ খান ও খুররম শেহজাদ একাদশে ফিরেছেন। বাদ পড়েছেন ইমাম উল হক, নোমান আলি ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১ ওভারে ০/১।
টেস্টের প্রথম দিনে সকালের সেশনে টিকলেন মাত্র দুই বল। মুহাম্মদ আব্বাসের প্রথম বলে এলবিডব্লুর আবেদনে বেঁচে যান মাহমুদুল। পরের বলে ক্যাচ দেন দ্বিতীয় স্লিপে। শূন্য রানে আউট হলেন মাহমুদুল। মিরপুর টেস্টেও ভালো করতে পারেননি। ৮ ও ৫ রান করে আউট হন।
তিনে নেমেছেন মুমিনুল হক। অন্য প্রান্তে ওপেনার তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫ ওভারে ২১/১।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করছেন তানজিদ–মুমিনুল। টেস্ট অভিষেকে এ পর্যন্ত ভালোই ব্যাট করেছেন তানজিদ। সিঙ্গেলস নিচ্ছেন, স্কয়ার ড্রাইভে দারুণ একটি চারও মেরেছেন। মুমিনুল অন্য প্রান্তে যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি। সময় নিচ্ছেন সেট হতে।
মুমিনুল ১৩ বলে ৪ ও তানজিদ ১৫ বলে ১৩ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮ ওভারে ৪০/১।
অষ্টম ওভারে হাসান আলীর পঞ্চম বলে তাঁর প্রায় সোজাসুজি ক্যাচ দিয়েছিলেন তানজিদ। ডান পাশে ডাইভ দিয়েও ক্যাচটি নিতে পারেননি। পিচের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পিচেই কিছুক্ষণ শুয়ে ছিলেন। তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দ্রুত মাঠে ফেরার প্রার্থনায় পাকিস্তান। ওভারের শেষ বলটি করেছেন সালমান আগা।
আপডেট: স্ক্যান করতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে হাসান আলীকে (বেলা ১১টা ৭ মিনিট)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১০ ওভারে ৪৪/২।
আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত দারুণ ব্যাট করছিলেন। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। যে বলে যা খেলা দরকার সেটাই করছিলেন। কিন্তু ১০ম ওভারের শেষ বলে তাঁর কী হলো কে জানে! ভালো লেং থেকে ওঠা বলে মিড অনের ওপর দিয়ে তুলে তুলে মারার সাধ হয়েছিল। বল পিচও পার হতে পারেনি। আকাশে উঠেছে, নিজের বলে সহজ ক্যাচ নেন আব্বাস। অবিশ্বাস্য ‘আত্মহত্যা’!
৩৪ বলে ২৬ রানে ফিরলেন তানজিদ। নতুন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মুমিনুল ১৪ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৫ ওভারে ৬১/২।
পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির খবর—প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ১৬ তম ওভারে মাঠে ফিরেছেন হাসান আলী।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৬ ওভারে ৬৩/৩।
খুররম শাহজাদের দারুণ এক ডেলিভারি। বল বাতাসেই একটু সুইং করে ভেতরে ঢুকেছে। মুমিনুল লাইনটা পড়তে পারেননি। সামনে পা নিয়ে খেললেও বল তাঁর ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে দেয়। ৪১ বলে ২২ রানে ফিরলেন মুমিনুল।
পাঁচে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। নাজমুল ১০ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৬ ওভারে ১০১/৩।
শেষ হলো প্রথম সেশনের খেলা। এই সেশনে মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হককে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল আউট হন ইনিংসের দ্বিতীয় বলে।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল ও তানজিদ। ১০ম ওভারে তানজিদ (২৬) আউট হওয়ার পর মুমিনুলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে নাজমুলের জুটি বড় হয়নি। ১৬ তম ওভারে মুমিনুল (২২) আউট হওয়ায় ভেঙে যায় তাদের ১৯ রানের জুটি।
চতুর্থ উইকেটে মুশফিক ও নাজমুল ৩৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। মুশফিক ১৮ ও নাজমুল ২৬ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তানের হয়ে আব্বাস ২টি এবং শাহজাদ ১টি উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশ: ৩০ ওভারে ১০৫/২
সাজিদের বলে বেঁচে গেলেন মুশফিক। লাঞ্চের পর ব্যাটিংয়ে নামা মুশফিক উইকেটকিপার রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন।
ফিল্ড আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেওয়ার জন্য আলোচনা করেও শেষ পর্যন্ত নেয়নি পাকিস্তান। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গিয়েছিল।
তখন মুশফিকের রান ছিল ১৮।
বাংলাদেশ: ৩৩ ওভারে ১০৬/৪
লাঞ্চের পর থেকেই বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আব্বাস পেলেন নাজমুলের উইকেট। ২৯ রান করে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন নাজমুল। আজ ইনিংসটা বড় হলো না। উইকেটে এসেছেন লিটন দাস।
বাংলাদেশ: ৩৬.৩ ওভারে ১১০/৫
বড় হলো না মুশফিকের ইনিংসও। পাকিস্তান পেসার খুররম শেহজাদের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ফিরেছেন ২৩ রান করে।
বাংলাদেশ: ৩৮.২ ওভারে ১১৬/৬
৪ রান করে আউট হলেন মিরাজ। খুররম শেহজাদের বাউন্সারে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মিরাজ। লাঞ্চের পর ১৫ রান তুলতে এ নিয়ে ৩ উইকেট হারাল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ: ৪৫ ওভারে ১৪২/৬
অনেকটা একাই খেলছেন লিটন দাস। তাইজুলকে যতটা পারছেন নন স্ট্রাইকে রাখছেন। প্রয়োজনে ঝুঁকিও নিচ্ছেন।
২৫ রানে ব্যাটিং করছেন লিটন। তাইজুল ৩ রানে।
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ১৫৯/৬
দায়িত্বশীল ইনিংস খেলছেন লিটন। শেহজাদ, সাজিদ, হাসানদের ওভারের বেশিরভাগ বলই নিজে খেলছেন। ওভারের শেষদিকে স্ট্রাইক দিচ্ছেন তাইজুলকে।
৩৬ রানে ব্যাটিং করছেন লিটন।
বাংলাদেশ: ৫৩ ওভারে ১৬৬/৬
সপ্তম উইকেট জুটিতে ৫০ রানের জুটি গড়েছেন লিটন ও তাইজুল। এই জুটিতে ৩৯ রানই এসেছে লিটনের ব্যাটে।
বাংলাদেশ: ৫৪ ওভারে ১৬৮/৬
প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনেও হারাল ৩ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে আউট হয়েছেন নাজমুল, মুশফিক ও মিরাজ। লাঞ্চের পর ১৫ রান তুলতেই আউট হয়েছেন এই তিনজন।
এরপর লিটন ও তাইজুল ৫২ রানের জুটি গড়েছেন। দুজনেই এখন উইকেটে থিতু। দেখা যাক শেষ সেশনের শুরুটা কেমন করে এই দুজন।
৫৮তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুলকে বোল্ড করেন সাজিদ। ৪০ বলে ১৬ রানে ফিরলেন তাইজুল।
নতুন ব্যাটসম্যান তাসকিন।
বাংলাদেশ: ৬০ ওভারে ১৯০/৭
চাপের মুখে দারুণ ফিফটি করলেন লিটন। লিটন যখন উইকেটে আসেন বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ১০৬। এরপর দ্রুতই বাংলাদেশ হারায় মুশফিক, মিরাজকে।
লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে নিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি করেছেন লিটন।
শেহজাদের বাউন্সারে লিটন করতে চাইলেন হুক। বল ব্যাট মিস করে রিজওয়ানের হাতে যেতেই আবেদন করে পাকিস্তান। ফিল্ড আম্পায়ার সাড়া দেননি। রিভিউ থাকলেও সেটিও নেননি শান মাসুদ। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল লিটনের গ্লাভসে লেগেছিল।
বাংলাদেশ: ৬৪.১ ওভারে ২১৪/৮
অন্য প্রান্তে লিটন দারুণ খেলছেন। মারারটা মারছেন, ছাড়ারটা ছাড়ছেন। তাসকিনের কাজ ছিল লিটনকে সঙ্গ দেওয়া। সেটাই পারলেন না। ৭ রান করে শেহজাদের বলে আউট হলেন। লিটন অপরাজিত ৭৫ রানে।
৪ উইকেট নিয়েছেন শেহজাদ।
লিটন কি সেঞ্চুরি পাবেন? সেটাই এখন প্রশ্ন। সঙ্গী শরীফুল। তাঁর একমাত্র কাজ এখন লিটনকে সঙ্গ দেওয়া।
বাংলাদেশ: ৭১ ওভারে ২৫৪/৮
টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করলেন লিটন দাস। পাকিস্তানের বিপক্ষে করলেন তৃতীয় সেঞ্চুরি।
উইকেটে যখন এসেছেন তখন বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ১০৬। এরপর দ্রুতই ফেরেন মুশফিক ও মিরাজ।
বাকি কাজটা লিটন করেছেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়েই। কখনো লিটনকে সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল, কখনো তাসকিন, কখনো শরীফুল।
বাংলাদেশ: ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০
ফিরলেন লিটন। হাসানের বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ১২৬ রান। তবে এর আগে দলকে মোটামুটি ভালো জায়গায় রেখে গেছেন লিটন। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন ২৮০ রানের কাছাকাছি।
লিটন ফেরার ৩ বল পর আউট হয়েছেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা নাহিদ রানাও। তাতে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
প্রথম দিনের শেষ বেলায় ৬ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে পাকিস্তান। তাতে কোনো উইকেট হারায়নি দলটি। করেছে ২১ রান।
বাংলাদেশ অবশ্য এটুকু সময়ের মধ্যে উইকেট তুলে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাসকিন ও শরীফুল করেছেন দুই ওভার করে, আর দিনের শেষ দুটি করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করে। লিটন দাস করেন সর্বোচ্চ ১২৬ রান।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ (লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*)।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেও সিলেটের আকাশ মেঘে ঢেকে আছে, জ্বলছে ফ্লাডলাইট। এমন কন্ডিশনেই গতকাল টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছিল পাকিস্তান। তাদের বোলাররা প্রথম তিন ঘণ্টায়ই ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, বাংলাদেশের রান তখন ১১৬।
পরে লিটন দাসের প্রতিরোধে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ সকালে বোলারদের দিকে তারা তাকিয়ে থাকবেন, কাল সংবাদ সম্মেলনে বলে গিয়েছিলেন লিটন।
গতকাল শেষ বিকেলে ৬ ওভার ব্যাট করে ২১ রান তুলেছিল পাকিস্তান। আজ উইকেট পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই প্রথম উইকেট এনে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাট ছুয়ে বলটা গিয়েছে লিটনের গ্লাভসে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে প্রায় প্রথম স্লিপের সামনে থেকে দুই হাতে ক্যাচটা ধরেছেন তিনি।
ধারাভাষ্যকক্ষে রমিজ রাজা বলছেন, দ্বিতীয় সেশনে রোদ উঠলে ব্যাট করা সহজ হবে। তাই সকালের সেশনটাই বোলারদের জন্য ভালো সময়। দু পাশ থেকে তাসকিন ও শরীফুল শুরুটা বেশ ভালো করেছেন।
দুই ওপেনারকেই ফেরালেন তাসকিন আহমেদ। একটু দেরিতে সুইং করা বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়েছেন আজান আওয়াইস। ঢাকায় অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। তবে আজ আর বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না, ৩৪ বল খেলে করেছেন ১৩ রান। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে সকালে ভালো শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ২৬ রানে ২ উইকেট নেই। তাসকিন উইকেট পাচ্ছেন, আরেক প্রান্তে শরীফুল ইসলামও সুযোগ তৈরি করছেন। চাপে আছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।
শান মাসুদের প্যাডে বল লাগতেই জোরাল আবেদন করেন নাহিদ রানা। আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। অধিনায়ক নাজমুল শুরুতে জানতে চেয়েছিলেন, ব্যাটে বল লেগেছে কি না। নাহিদ রানা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে রিপ্লেতে দেখা গেছে, নাহিদের ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতির বল মাসুদের ব্যাটে লেগেই প্যাডে গেছে। রিভিউটা হারাতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
২ উইকেট হারানোর পর শান মাসুদ ও বাবর আজমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দৌড়ে রানের চাকা সচল রাখছেন দুজন। সুযোগও অবশ্য তৈরি হচ্ছে। শরীফুল ইসলামের একট বল অল্পের জন্য বাবর আজমের ব্যাটে লেগে উইকেটকিপার লিটন দাসের মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে।
প্রথম আধঘণ্টা বাংলাদেশের হলেও পরের সময়টা পাকিস্তানের। বাংলাদেশ দ্রুতই একটা উইকেট নিতে চাইবে।
উইকেটের অপেক্ষাটা দীর্ঘ হলো না বাংলাদেশের। শান মাসুদকে আউট করে তাঁর সঙ্গে বাবরের ৩৮ রানের জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সকালে দ্রুতই দুই উইকেট হারানোর পর দুজনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল পাকিস্তান।
শরীফুল–তাসকিনকে সরিয়ে একপাশে নাহিদ রানাকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন নাজমুল। অন্য পাশে আসেন মিরাজ। প্রথম ওভারেই তিনি সফলও হলেন। শর্ট কাভারে দাঁড়ানো বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন মাসুদ। তিনি ফিরেছেন ২১ রানে। ৩ উইকেটে পাকিস্তানের রান এখন ৬১।
৩ উইকেট হারিয়ে চাপে আছে পাকিস্তান। এখনও তা থেকে বের হতে পারেনি পুরোপুরি। কিন্তু দলটিকে আশা দেখাচ্ছেন বাবর আজম। ব্যাটিংয়ে আসার পর থেকেই ইতিবাচক তিনি। প্রথম ২০ রান করেছেন এক শর বেশি স্ট্রাইক রেটে। দৌড়ে রান নেওয়ার সুযোগ বাবর হাতছাড়া করছেন না।
শান মাসুদের সঙ্গেই তাঁর জুটি হয়েছিল শুরুতে। কিন্তু ৩৮ রানের ওই জুটি প্রথম ওভারেই ভেঙে দিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু এরপর তিনি বা অন্য পাশে মেহেদী হাসান মিরাজ সফল হতে পারছেন না।
চাপটা মিরাজ তৈরি করছিলেন অনেক্ষণ ধরে। ২৮ বল খেলে সৌদ শাকিল করেছিলেন ৮ রান। ওই চাপ থেকে বের হতে সুইপ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যাটের আগায় লেগে বল উপরে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ ধরেন লিটন। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসেও মিরাজকে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লু হয়েছিলেন শাকিল। ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। একপ্রান্তে তাদের জন্য আশা হয়ে আছেন শুধু বাবর আজম, তাঁর সঙ্গে জুটিটা ৫১ বল স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল, রান যদিও এসেছে ১৮।
পাকিস্তান: ২৯ ওভারে ৯৫/৪
পাকিস্তান: ৩০ ওভারে ৯৬/৪
৪ উইকেট নিয়ে দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের। তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম দু পাশ থেকে বোলিং শুরু করেছিলেন। দুজনের চাপে প্রথম আধঘণ্টার মধ্যেই আউট হন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস, তাদের ফেরান তাসকিন। এরপর থেকে পাকিস্তানের হয়ে লড়ে যাচ্ছেন বাবর আজম। বাংলাদেশের জন্য এই সেশনে যা একটু অস্বস্তি, তা তাঁর টিকে থাকা।
শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রেখেছেন বাবর। তাঁকে কিছুক্ষেত্রে সে সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের রক্ষণাত্মক ফিল্ডিংও। তবে পাকিস্তানের জন্য চিন্তা, বাবর কারও সঙ্গেই বড় জুটি বাধতে পারছেন না।
শান মাসুদের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটি গড়ার পর তাঁকে ফিরিয়ে দেন মিরাজ। পরে বাবরের সঙ্গী হন সৌদ শাকিল। তাঁর ও বাবরের জুটিতে রানের গতি কমলেও থিতু হওয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু তাও হতে দেননি মিরাজ। তাঁর বলে সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শাকিল।
শেষ আধঘণ্টায় বাবরের সঙ্গী হয়েছেন সালমান আগা। বাবর ৫৮ বল খেলে ৩৭ ও সালমান ১৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত থেকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে গেছেন। ৪০ মিনিটের সেই বিরতির পর ফিরেই দ্রুতই তাদের ফেরাতে চাইবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তান: ৩২ ওভারে ১০৯/৪
৬৩ বলে ফিফটি করলেন বাবর আজম। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি বাবরের ৩১তম ফিফটি। বাবরের সেঞ্চুরি আছে ৯টি। এখন বাবরের সঙ্গী সালমান আগা।
বলা যায় পাকিস্তানের মূল দুই ব্যাটসম্যানই এখন ব্যাটিং করছেন। লিড নিতে হলে দ্রুতই এই জুটি ভাঙতে হবে বাংলাদেশকে।
পাকিস্তান: ৩৮ ওভারে ১৩৫/৪
দুজনের জুটি থেকে এসেছে এখন পর্যন্ত ৫৫ রান। বাবর ৬৪ রানে ব্যাটিং করছেন, সালমান আগা ১৭ রানে।
পাকিস্তান: ৪০ ওভারে ১৪৩/৫
উইকেটে থিতুই ছিলেন বাবর। তবে নাহিদ রানার বলে মিড অনে ক্যাচ তুলে ফিরলেন। মিডল স্টাম্পের ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে ক্যাচ তুলেছেন বাবর। আউট হয়েছেন ৬৮ রানে।
পাকিস্তান: ৪২.২ ওভারে ১৫০/৬
২১ রান করে ফিরলেন সালমান। তাইজুলের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সালমান।
পাকিস্তান: ৪৯ ওভারে ১৭৪/৭
লিটন হতে পারলেন না রিজওয়ান। তাইজুলের বলে ১৩ রান করে ফিরেছেন তিনি। বাংলাদেশ ইনিংসে ৬ উইকেট যাওয়ার পরে লিটন সেঞ্চুরি করে দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন। রিজওয়ানের কাছ থেকেও এমন কিছুই প্রত্যাশা করেছিল পাকিস্তান। তিনি সেটা পারলেন না।
১০৪ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান।
পাকিস্তান: ৫৩.২ ওভার ২০০/৮
হাসান আলীও উইকেট বিলিয়ে দিলেন। তাইজুলের বলে লং অনে ক্যাচ দিয়েছেন হাসান। দুই বারের চেষ্টায় দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান ১৮ রান করে আউট হয়েছেন।
পাকিস্তান: ৫৫ ওভারে ২০৬/৮
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনটাও বাংলাদেশের। প্রথম সেশনের মতো এই সেশনেও বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৪ উইকেট। আউট হয়েছেন বাবর, সালমান, রিজওয়ান ও হাসান। এই সেশনে খেলা হয়েছে ২৫ ওভার, পাকিস্তান রান করেছে ১১০।
চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই আউট হলেন শেহজাদ। ১০ রান করে ফিরেছেন শেহজাদ। ৭১ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। দ্রুত পাকিস্তানকে অলআউট করতে পারলে বেশ ভালো রানের লিড পেতে পারে বাংলাদেশ।
দিনের তৃতীয় সেশনে মাত্র ১৬ বল টিকল পাকিস্তান। খুররম শেহজাদের পর সাজিদ খানের উইকেটও নিয়েছেন নাহিদ রানা। আগের ওভারে তাইজুলকে টানা তিন ছক্কা মারা সাজিদ নাহিদের বলে থার্ড ম্যানে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। বল মাটিতে পড়ে যাওয়ার আগে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন তানজিদ, তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আউট নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের ইনিংস থেমেছে ২৩২ রানে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ করায় লিড হয়েছে ৪৬ রানের।
বিনা উইকেটে ২১ রানে দিন শুরু করা পাকিস্তান আজ প্রথম চার ওভারের মধ্যেই হারায় দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফলজ ও আজান আওয়াইসকে। দুটি উইকেটই নেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ নেন শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলের উইকেট।
লাঞ্চের আগে–পরে মিলিয়ে পঞ্চম উইকেটে বাবর আজম–সালমান আগা মিলে গড়েন ৬৩ রানের জুটি। ৬৮ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। এরপর পাকিস্তানের বাকি উইকেট তিনি আর তাইজুলই তুলে নিয়েছেন।
নাহিদ–তাইজুল ৩টি করে আর তাসকিন–মেহেদী দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮ (লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২ (বাবর ৬৮, সাজিদ ৩৮, সালমান ২১; তাইজুল ৩/৬৭, নাহিদ ৩/৮০, মিরাজ ২/২১, তাসকিন ২/৩৭)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৪ ওভারে ১৫/১ ও ২৭৮। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। খুররম শেহজাদের বলে গালিতে শাকিলকে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ হাসান। অভিষিক্ত এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭ বলে করেছেন ৪ রান।
নতুন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১০ ওভারে ৫৮/১
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস ২৭৮। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২।
হাত খুলে খেলছেন মাহমুদুল হাসান ও মুমিনুল হক। এই জুটিতে ৪৩ রান এসেছে মাত্র ৪১ বলে।
৩৬ রানে ব্যাটিং করছেন মাহমুদুল, ৭ রানে মুমিনুল। বাংলাদেশের লিড ১০৪ রানের।
এখন পর্যন্ত ৫৪ রানের জুটি গড়েছেন মাহমুদুল ও মুমিনুল। ৪২ রানে অপরাজিত মাহমুদুল, ১২ রানে মুমিনুল। বাংলাদেশের লিড ১১৫ রানের।
আব্বাসকে চার মেরে ৫০ পেরোলেন মাহমুদুল। মাত্র ৫৮ বলে ফিফটি হলো তাঁর। লিড আপাতত ১৩৩।
ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকলেন না মাহমুদুল। অতিরিক্ত শট খেলার চেষ্টায় উইকেট দিতে হলো তাঁকে। আব্বাসের বলেই আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিলেন। ৬৪ বলে ৫২ রান করেছেন, মেরেছেন ১০টি চার।
উইকেটে এসেছেন অধিনায়জ নাজমুল হোসেন। বাংলাদেশ ৯১/২।
শেষ বিকেলে আর কোনো বিপদ টেনে আনতে চাইছেন না মুমিনুল-নাজমুল। খেলছেন খুব বুঝে শুনে। এরই মধ্যে ১০০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের রান। লিড ১৪৯।
খুররম শেহজাদের বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন মুমিনুল। দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হলো এর পরপরই।
৬০ বলে ৩০ করে ফিরলেন মুমিনুল। বাংলাদেশ দিন শেষ করল ১১০/৩ স্কোর নিয়ে। লিড ১৫৬ রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১১০ রান তুললেই ৩টি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরেও সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আপাতত চালকের স্বাগতিকেরাই।
উইকেট থেকে বোলাররা যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হবে।
আগের দিনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূর, আজ ব্যাটিংয়ে আবারও হতাশ করেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৬ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। বাংলাদেশ লিড পায় ৪৬ রানের।
পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন বাবর আজম। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউ তাঁকে ওই অর্থে দীর্ঘ সঙ্গ দিতে পারেননি। শেষ দিকে সাজিদ খান ৩৮ রানের একটা ক্যামিও কিছুটা ব্যবধান কমিয়েছে দুই দলের রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল দারুণ আগ্রাসী মেজাজে। বিশেষ করে মাহমুদুল হাসান শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। দৃষ্টিনন্দন কিছু শটে দ্রুত রান তুলে ম্যাচটা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই আলগা শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন এই ওপেনার।
দিনের একদম শেষভাগে এসে আউট হন মুমিনুল হকও। মাহমুদুলের পর মুমিনুলের এই বিদায় পাকিস্তানের বিষণ্ণ মুখে কিছুটা হলেও হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।
ম্যাচের গতি–প্রকৃতি অনুযায়ী আজ সিলেট টেস্টে তৃতীয় দিনটি বাংলাদেশের জন্য শুধুই ব্যাট করার। বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে পাকিস্তানকে কত রানের লক্ষ্য দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রানে গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। নিজেদের দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫৬ রানের লিড নিয়েছে নাজমুল হোসেনের দল। ক্রিজে আছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল, নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, সিলেটের বৃষ্টির ধরন ‘কমন’—রাতে বৃষ্টি আর সারাদিন রোদ। আজও ব্যতিক্রম হয়নি। রাতে বৃষ্টি হলেও এখন রোদ, আকাশে মেঘও অবশ্য আছে।
খেলা শুরু হয়েছে।
মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবরো অসুস্থ হয়ে পড়ায় টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব ছেড়ে মাঠে নেমে পড়েছেন কুমার ধর্মসেনা। শ্রীলঙ্কান এ আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। রিজার্ভ আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা মাসুদুর রহমান আছেন টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩১ ওভারে ১১৬/৪। ১৬২ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
সকালের সেশনে চতুর্থ ওভারে ফিরলেন নাজমুল। দ্বিতীয় ইনিংসে খুররম শাহজাদের করা ৩১ তম ওভারের চতুর্থ বলে এলবিডব্লু হয়েছেন নাজমুল। ৪৬ বলে ১৫ রান করলেন।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাস।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৩ ওভারে ১৫৬/৪। বাংলাদেশ ২০২ রানে এগিয়ে।
জুটি বড় করার চেষ্টায় লিটন–মুশফিকুর। পঞ্চম উইকেটে ৪১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন তারা।
মুশফিক ১৮ ও লিটন ২৪ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৩ ওভারে ২০৩/৪। বাংলাদেশ ২৪৯ রানে এগিয়ে।
সিলেট টেস্টে আজ তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত এই টেস্টে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন ছিল।
১৫৬ রানে এগিয়ে আজ তৃতীয় দিনে সকালের সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন নাজমুল ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে উঠেছে মাত্র ৫ রান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে খুররম শাহজাদের বলে নাজমুল আউট হওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন লিটন ও মুশফিক।
লিটন ৪৮ ও মুশফিক ৩৯ রানে অপরাজিত। আজ সকালের সেশনে ২৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
লিডকে আরও বড় করতে আজ সকালে সেশনে ভালো শুরুর বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের জন্য। নাজমুলের উইকেট দ্রুত হারিয়ে ধাক্কা খেলেও লিটন ও মুশফিক মিলে বড় জুটি গড়ে ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিয়েছেন। এখন দ্বিতীয় সেশনেও ভালো ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৪ ওভারে ২০৯/৪। বাংলাদেশ ২৫৫ রানে এগিয়ে।
দ্বিতীয় সেশনে খেলা শুরুর প্রথম ওভারেই ফিফটি তুলে নিলেন লিটন। ইনিংসের ৫৪ তম ওভারে খুররম শাহজাদের চতুর্থ বলে চোখ জুড়ানো বাউন্ডারিতে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ২০ তম ফিফটি তুলে নিলেন লিটন। গর্জিয়াস কাভার ড্রাইভ! ৪টি চারে ৬৭ বলে ফিফটি পেলেন।
সেঞ্চুরি কি পাবেন? প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৮ ওভারে ২২১/৪। বাংলাদেশ ২৬৭ রানে এগিয়ে।
প্রথম ইনিংসে লিটন ৫২ রানে থাকতে তাঁকে আউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। পরে লিটন ১২৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন।
আজ দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন ৫৫ রানে থাকতে তাঁর ক্যাচ ফেলেন বোলার সাজিদ খান। আজও কি তাহলে সেঞ্চুরি পাবেন?
আজ ৫৭ তম ওভারের চতুর্থ বলে সাজিদের ফ্লাইটেড ডেলিভারি লং অনে খেলতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করেন লিটন। ফিরতি ক্যাচ সাজিদের হাঁটু সমান উচ্চতায় থাকলেও ধরতে পারেননি এ অফ স্পিনার।
লিটন ৬০ ও মুশফিক ৫৪ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৬১ ওভারে ২৩৮/৪। বাংলাদেশ ২৮৪ রানে এগিয়ে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০ তম ফিফটি পেলেন মুশফিক। ৬১ তম ওভারে সাজিদের দ্বিতীয় বলে ২ রান নিয়ে ফিফটি তুলে নেন।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৬২ ওভারে ২৩৯/৫। বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে।
হাসান আলীর করা ৬২ তম ওভারের চতুর্থ বলে সৌদ শাকিলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন লিটন। ৯২ বলে ৬৯ রানে আউট হলেন। চার মেরেছেন ৫টি।
নতুন ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ। মুশফিক ৫২ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৭২ ওভারে ২৭৪/৬। বাংলাদেশ ৩২০ রানে এগিয়ে।
৭২ তম ওভারে খুররম শাহজাদের দারুণ আউটসুইংয়ে বোকা বনে বোল্ড মিরাজ। ৩৯ বলে ১৯ রানে আউট হলেন। এর মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিক–মিরাজের ৩৪ রানের জুটিও ভাঙল।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম। মুশফিক ৬৫ রানে অপরাজিত।
চলতি মাসের ২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২১ বছর পূর্ণ হবে মুশফিকের। আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকের দেখা পেলেন মুশফিক। ৭৩ তম ওভারের তৃতীয় বলে ডাবলস নিয়ে এই মাইলফলকের দেখা পান।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে মুশফিকই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩২৫/৬। বাংলাদেশ ৩৭১ রানে এগিয়ে।
মুমিনুলক হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এখন মুশফিকুর রহিমের (১৪)। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে সেঞ্চুরি আদায় করে নেন মুশফিক। তিনি অপরাজিত আছেন ১০৩ রানে, তাঁকে সঙ্গ দেওয়া তাইজুলের রান ৯।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৭৯ ওভারে ৩০৭/৬। বাংলাদেশ ৩৫৩ রানে এগিয়ে।
৩৫৩ রানের লিড নিয়ে চা বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। ৯০ রান করে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন মুশফিকুর রহিম, তাইজুল অপরাজিত আছেন ৮ রানে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৩.১ ওভারে ৩৫৪/৭। বাংলাদেশ ৪০০ রানে এগিয়ে।
ফিরলেন তাইজুল। নিজের কাজটা অবশ্য করেই গেছেন। সাজিদ খানের বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৫১ বলে ২২ রান। তাঁর আউটে ভেঙেছে মুশফিক–তাইজুলের ৭৭ রানের জুটি।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৬ ওভারে ৩৬৪/৮। বাংলাদেশ ৪১০ রানে এগিয়ে।
দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় আউট হলেন তাসকিন। হাসান আলীর বলে ক্যাচ দিলেন স্লিপে। ৬ রান করেছেন তাসকিন।
বাংলাদেশের লিড এখন ৪১০ রানের। ইনিংস ঘোষণা করে শেষ বিকেলে কি পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠাবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১০২.২ ওভারে ৩৮৭/৯। বাংলাদেশ ৪৩৩ রানে এগিয়ে।
এবার আউট হলেন শরীফুল। সাজিদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। তাসকিনের পর শরীফুলের ব্যাটিংয়ের ধরনে স্পষ্ট, দ্রুত কিছু রান তুলতে চায় বাংলাদেশ। দিনের একেবারে শেষদিকে পাকিস্তানকেও ব্যাটিংয়ে নামাতে চায় নাজমুলের দল।
শেষ ব্যাটসমান হিসেবে আউট হলেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের কল্যাণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছে ৩৯০ রানের সংগ্রহ।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাসও খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড ছিল ৪৬ রানের। মানে পাকিস্তানের সিলেট টেস্ট জিততে করতে হবে ৪৩৭ রান। তৃতীয় দিনের খেলা বাকি এখনো ১০ ওভার।
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ১০২.২ ওভারে ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২, ; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৩২।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামার পর খেলা হতে পারল দুই ওভার। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন আম্পায়াররা। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগেই মাঠ ছেড়ে গেল দুই দল।
যে দুই ওভারের খেলা হয়েছে, তাতে কোনো রান করতে পারেনি পাকিস্তান। তাসকিন ও শরীফুলকে মেডেন দিয়েছেন দুই ওপেনার আওয়াইস ও ফজল।
তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় পাকিস্তান তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেও রান করতে পারেনি। দুই ব্যাটসম্যান মাঠ ছেড়েছেন ০/০ স্কোরকার্ড রেখে। যার অর্থ, আগামীকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে নতুনভাবে ইনিংস শুরু করবে পাকিস্তান।
এই টেস্ট জিততে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের লক্ষ্য ৪৩৭ রান, যা করতে পারলে বিশ্ব রেকর্ডই হয়ে যাবে। প্রায় দেড় শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ৪১৮ রানের বেশি কোনো দল তাড়া করতে জিততে পারেনি। পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭৭ রান তাড়া করার কীর্তি আছে (২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)। আর বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ তাড়ার রেকর্ড ৩৯৫ (২০২১ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের)।
বাংলাদেশ আজ দিন শুরু করেছিল ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। শেষবেলায় অলআউট হওয়ার আগে শেষ ৭ উইকেটে যোগ করেছে ২৮০ রান। দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়া মুশফিকুর রহিম ১৪তম সেঞ্চুরির ইনিংসে করেছেন ১৩৭ রান। তাঁর সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়া লিটন খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শেহজাদ ৪টি ও সাজিদ খান ৩টি উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২, ; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)। পাকিস্তান: ২৩২ ও ০/০।
জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ৪৩৭ রান, বাংলাদেশের ১০ উইকেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, গতকাল রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। কিন্তু গত তিনদিনের মতো আজও সকালে বৃষ্টি নেই, আকাশ মেঘলা।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ২০।
৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ২ ওভারে বিনা উইকেটে শূন্য রানে কাল তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল পাকিস্তান। আজ চতুর্থ দিন সকালের সেশন থেকে রান করতে শুরু করেছেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল।
আজান ১২ ও ফজল ৪ রানে অপরাজিত। দিনের খেলা শুরু থেকে বাউন্স পাচ্ছেন দুই পেসার তাসকিন ও শরীফুল।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ১১ ওভারে ২৭/১।
নাহিদ রানার আঘাত, মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচ!
১১ তম ওভারে নাহিদ রানার দ্বিতীয় বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন পাকিস্তান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল (৬)। বেশ কাছ থেকে খুব ভালো ক্যাচ নিয়েছেন মিরাজ। বলে বেশ গতি ছিল।
তিনে নেমেছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। আজান ১৭ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ১৬ ওভারে ৪১/২।
১৬ তম ওভারে মিরাজের শেষ বলে এলবিডব্লু হন আজান আওয়াইস। ২১ রানে আউট হলেন এই ওপেনার। রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের দেওয়া আউটের সিদ্ধান্ত পাল্টাননি।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান বাবর আজম। শান মাসুদ ১১ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান: ২৬ ওভারে ১০১/২। জয়ের জন্য আরও ৩৩৬ রান চাই পাকিস্তানের।
চতুর্থ দিনে শেষ হলো প্রথম সেশনের খেলা। এ সেশনে ২৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান তুলেছে পাকিস্তান। ২১ রান করা আজান আওয়াইসকে ফেরান মিরাজ এবং আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬) আউট করেন নাহিদ রানা।
তৃতীয় উইকেটে ৬১ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। বাবর ২৪ ও মাসুদ ৪১ রানে অপরাজিত।
তাইজুলের করা ৩৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১ রান নিয়ে ফিফটি তুলে নেন মাসুদ। টেস্ট এটা তাঁর ১৪ তম ফিফটি।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৫ ওভারে ১৩৩/৩। জয়ের জন্য আরও ৩০৪ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট।
আউট হয়ে ফেরার পথে বাবর এত ধীরে হাঁটছিলেন যে বোঝা যাচ্ছিল, ক্রিজ ছেড়ে আসার কোনো ইচ্ছেই তাঁর নেই। কারণ ভালো ব্যাট করছিলেন। কিন্তু ভালো ব্যাটিং করতে করতেই বাজে আউট হলেন।
তাইজুলের করা ৩৫ তম ওভারের শেষ বলটি লেগে খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়েছেন বাবর। বল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পথে তাঁর ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ৫২ বলে ৪৭ রানে আউট হলেন বাবর। এর মধ্য দিয়ে মাসুদের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তাঁর ৯২ রানের জুটিও ভেঙে স্বস্তি পেল বাংলাদেশ।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সৌদ শাকিল। মাসুদ ৫০ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৫৬/৪। জয়ের জন্য ২৮১ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৬ উইকেট।
৪৪ তম ওভারের চতুর্থ বলে নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন সৌদ শাকিল। মাঠের আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর শাকিল রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ২১ বলে ৬ রান করেছেন শাকিল।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সালমান আগা। ৬৫ রানে অপরাজিত শান মাসুদ।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৫ ওভারে ১৬২/৫। জয়ের জন্য ২৭৫ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।
সৌদ শাকিলের পর ফিরলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদও। তাইজুলের বলে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ৭১ রান করা এ ব্যাটসম্যান। ক্রিজে এখন নতুন দুই ব্যাটসম্যান সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৩ ওভারে ২০০/৫। জয়ের জন্য ২৩৭ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।
চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় সেশনে খেলা হলো ২৭ ওভার। উইকেট পড়েছে ৩টি। রান উঠেছে ৯৯। ক্রিজে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান (১৫) ও সালমান আগা (২৫)।
এই সেশনে আউট হয়েছেন শান মাসুদ (৭১), বাবর আজম (৪৭) ও সৌদ শাকিল (৬)। মাসুদ ও বাবরকে আউট করেন তাইজুল। শাকিলের উইকেটটি নাহিদ রানার।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৯ ওভারে ২২১/৫। জয়ের জন্য ২১৬ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।
ষষ্ঠ উইকেটে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সালমান–রিজওয়ান। সালমান ৩৬ এবং রিজওয়ান ২৫ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৭০ ওভারে ২৫৩/৫। জয়ের জন্য ১৮৪ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪ তম ফিফটি পেলেন রিজওয়ান (৫১*)। সালমানের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৯১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। সালমান অন্য প্রান্তে ৪২ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৭৩.১ ওভারে ২৬৮/৫। জয়ের জন্য ১৬৯ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৫ উইকেট।
৭৩ তম ওভারের তৃতীয় বলে রানআউট হওয়া থেকে বাঁচলেন রিজওয়ান। মুশফিকের থ্রো সরাসরি স্টাম্প ভাঙলেও টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল, নিরাপদেই ক্রিজে পৌঁছেছেন সালমান। আর এক সেকেন্ড আগে স্টাম্প ভাঙলেই আউট হতো!
ষষ্ঠ উইকেটে ১০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন সালমান–রিজওয়ান। সালমান ৫০ রানে অপরাজিত, রিজওয়ান ৫৮ রানে।
বাংলাদেশ এখন চাইলেই নতুন বল নিতে পারবে। একটু আগে চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান এসে বল দিয়ে গেছেন মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবোরোর কাছে। কিন্তু শরীফুল পুরোনো বলেই বল করবেন। আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেল অধিনায়ক নাজমুলকে। আরও কিছুক্ষণ পুরোনো বলে বোলিং চালিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮২ ওভারে ২৯৬/৬। জয়ের জন্য ১৪১ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৪ উইকেট।
নতুন বলে ১৩৪ রানের জুটি ভাঙলেন তাইজুল। পাকিস্তানকে রেকর্ড রান তাড়া করার পথে রাখা সালমানকে বোল্ড করেছেন এ স্পিনার। ফেরার আগে সালমান খেলেছেন ৭১ রানের ইনিংস।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৩.৫ ওভারে ৩০৮/৭। জয়ের জন্য ১৩৩ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট।
পরপর দুই ওভারে দুজনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন তাইজুল ইসলাম। সালমান আগাকে ফেরানোর পর ফিরিয়ে দিলেন হাসান আলীকেও। রানের খাতাই খুলতে পারেননি হাসান।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭। জয়ের জন্য ১২১ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট।
সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত জুটিতে এক পর্যায়ে রেকর্ড গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। তবে ১৩৪ রানের সেই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল ইসলাম।
দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফেরান সালমানকে। এরপর তাইজুলের শিকার হয়ে দ্রুত ফিরে যান কোনো রান না করা হাসান আলীও।
শেষ দিন সাজিদ খানকে নিয়ে লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নামবেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। রিজওয়ান ৭৫ রানে এবং সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন।
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০। পাকিস্তান: ২৩২ ও ৮৬ ওভারে ৩১৬/৭ (রিজওয়ান ৭৫*, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৪/১১৩, নাহিদ ২/৫৮, মিরাজ ১/৬২)।—চতুর্থ দিন শেষে।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, সিলেট টেস্টের শুরু থেকেই আলোচনা ছিল বৃষ্টি। গত চারদিনে বৃষ্টির ধারাটা ছিল একই— রাতে মুষুলধারে বৃষ্টি, সকালে আকাশে মেঘের ঘনঘটা এবং দুপুরে ঝকঝকে রোদ। আজ টেস্টের শেষ দিনে ব্যতিক্রম। রাতের পর বৃষ্টি হয়েছে সকালেও। পিচ তাই কাভারেই ঢাকা ছিল এতক্ষণ। দিনের খেলা শুরুর আধঘণ্টা আগে কাভার সরানো শুরু হয়েছে। আকাশে আজ মেঘও অন্য দিনগুলোর চেয়ে বেশি। দেখে মনে হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামতে পারে।
সিলেট টেস্টে আজ শেষ দিনে খেলা শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে প্রথম আলোর ক্রীড়া প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বৃষ্টি না এলে ১০টা ১৫ মিনিটে খেলা শুরু হবে। দুই দলের ক্রিকেটাররা ওয়ার্ম আপ করছেন।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮৭ ওভারে ৩১৯/৭। পাকিস্তানের জয়ের জন্য চাই ১১৯ রান। বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট।
পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু হয়েছে। দিনের প্রথম ওভারটি করলেন নাহিদ রানা। ওভারের পঞ্চম বলটি বেশ নিচু হয়েছে। ৩ রান দিয়েছেন নাহিদ।
রিজওয়ান ৭৮ ও সাজিদ ৮ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৪১/৭। জয়ের জন্য ৯৪ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট।
সকালের সেশনে এ পর্যন্ত ৪ ওভার খেলা হয়েছে। পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান রিজওয়ান ও সাজিদ এই ৪ ওভারে ২৫ রান তুলেছেন। চার মেরেছেন চারটি। অর্থাৎ শুরুটা ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা।
সাজিদ ১৮ ও রিজওয়ান ৮৮ রানে অপরাজিত।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৩ ওভারে ৩৫৩/৭। জয়ের জন্য ৮৪ রান দরকার পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেট।
৯৩ তম ওভারের চতুর্থ বলে সাজিদকে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বাউন্সার মেরেছিলেন নাহিদ। পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তোলেন। উইকেটকিপার লিটন দাস ও শর্ট স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তাইজুল ইসলামের মাঝে বলটা বেশ কিছুক্ষণ শূন্যে ভেসে ছিল। লিটন একটু এগিয়ে গেলেও তাইজুল নড়েননি। ফল? বলটা নিরাপদে পড়ল মাটিতে। বেঁচে গেলেন সাজিদ।
রিজওয়ান ৯১ ও সাজিদ ২৬ রানে অপরাজিত। ৪৯ রান উঠেছে দুজনের জুটিতে।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৪ ওভারে ৩৫৮/৮। জয়ের জন্য পাকিস্তানের চাই ৭৯ রান। বাংলাদেশের দরকার ২ উইকেট।
অবশেষে!
অবশেষে রিজওয়ান–সাজিদের বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙতে পারল বাংলাদেশ। ৯৬ তম ওভারে তাইজুলের দ্বিতীয় বলে স্লিপে নাজমুলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ২৮ রান করা সাজিদ। এর মধ্য দিয়ে অষ্টম উইকেটে দুজনের ৫৪ রানের জুটিও ভাঙল।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান খুররম শাহজাদ। রিজওয়ান ৯৪ রানে অপরাজিত।
সাজিদকে আউট করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন তাইজুল।
৯৭ তম ওভারে শরীফুলের প্রথম বলেই গালিতে মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান।
ক্রিজে পাকিস্তানের শেষ জুটি। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাস। জয় পেতে আরও ৭৯ রান চাই পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার আর ১টি উইকেট।
৯৮ তম ওভারে তাইজুলের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অনে তানজিদকে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ। তাঁর আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে ৩৫৮ রানে অলআউট হলো পাকিস্তান। বাংলাদেশ জিতল ৭৮ রানে।
দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ২–০ ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ। টানা চার টেস্টও জিতল পাকিস্তানের বিপক্ষে। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
আবেগতাড়িত কণ্ঠে ধারভাষ্যকার আতহার আলী খান বলছিলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক...ফ্যাবুলাস উইন, ইউ নেম ইট!’।
সত্যিই তাই। মিরপুর টেস্টের পর সিলেট টেস্টেও দারুণ জয় পেল বাংলাদেশ। আর এই জয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ভারতকে পেছনে ফেলে পঞ্চম স্থানে উঠে এল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্জন ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট। ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে ভারত।
৪৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। ৭ উইকেটে ৩১৬ রানে গতকাল চতুর্থ দিন শেষ করে পাকিস্তান। আজ শেষ দিনে সমীকরণ ছিল, জয়ের জন্য পাকিস্তানকে করতে হবে ১২১ রান। আর বাংলাদেশকে জিততে হলে নিতে হবে বাকি ৩ উইকেট।
সকালের সেশনে ১১. ২ ওভারের খেলাতেই বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জে জিতল। ৯৫.২ থেকে ৯৭.২ ওভারের মধ্যে (১৩ বল) বাকি ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। সাজিদ ও রিজওয়ানের ৫৪ রানের জুটি ভেঙে শুরুটা করেছিলেন তাইজুল। সাজিদকে তুলে নেন। পরের ওভারে প্রথম বলে রিজওয়ানকে (৯৪) ফেরান শরীফুল। তাইজুল পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে আউট করেন খুররমকে।
ঘরের মাঠে এই প্রথম পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ১২০ রানে ৬ উইকেট নেন তাইজুল। সব মিলিয়ে এই টেস্টে নিলেন ৯ উইকেট। টেস্টে এ নিয়ে ১৮ তম বার ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিলেন তাইজুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০।
পাকিস্তান: ২৩২ ও ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ (রিজওয়ান ৯৪, মাসুদ ৭১, বাবর ৪৭; তাইজুল ৬/১২০, নাহিদ ২/৭১, মিরাজ ১/৬২)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।
ম্যাচসেরা লিটন কথা বললেন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তাঁর ১২৬ রানের ইনিংসটি নিয়ে, ‘দুটি বাউন্ডারি মারার পর মনে হয়েছে এটা টেস্ট ক্রিকেট। আমার সময় নেওয়া উচিত। যেহেতু বৃষ্টির চোখ রাঙানি আছে, তাই ভেবেছিলাম ১০–১৫ ওভার টিকলে খেলার গতিপথ পাল্টে যেতে পারে।’
সিরিজসেরা মুশফিক মঞ্চে যেতেই ধারভাষ্যকার রমিজ রাজা মজা করে বললেন, ১৬ বছর বয়সী মুশফিক! উত্তরে মুশফিকের পাল্টা কৌতুক, ‘১৬ গুণ ৩।’ মুশফিকের বয়সও ৩৯ বছর। মুশফিক বললেন, ‘এই কৃতিত্ব পুরোটাই দলের। যেভাবে তারা গত দুই বছর ধরে খেলছে।’
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের সেঞ্চুরির চেয়ে প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিকে এগিয়ে রাখলেন মুশফিক, ‘প্রথম ইনিংসে তার সেঞ্চুরিই আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।’