সিরিজের প্রথম ওয়ানডের মতো আজ দ্বিতীয়টিতেও টসে জিতেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। অর্থাৎ, আজও রান তাড়ায় ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।
গত দুই বছরে বাংলাদেশের জন্য কাজটা অবশ্য অস্বস্তিরই। এ সময়ে ৮ ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র একটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ, সেটিও পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে মাত্র ১১৪ তাড়ায়!
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ড অবশ্য কোনো পরিবর্তন আনেনি। ২৬ রানে জেতা প্রথম ওয়ানডের দলটিই রেখে দিয়েছে।
ছয় মাস পর বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নামছেন সৌম্য সরকার। গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন। এরপর বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেও সৌম্যর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ছিলেন না নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও।
অবশেষে ২৩ অক্টোবর, ২০২৫—এর পর ২০ এপ্রিল, ২০২৬—এ বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে নামছেন তিনি।
বাংলাদেশের ১৪তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম ওয়ানডে খেলতে নামছেন লিটন দাস। উপলক্ষটা স্মরণীয় করে রাখতে টসের আগে টিম হাডলে তাঁর মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন দুই সতীর্থ মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
লিটনের আগে এক শ ওয়ানডে খেলা ১৩ ক্রিকেটার হলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, আব্দুর রাজ্জাক, খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিক, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাবিবুল বাশার ও রুবেল হোসেন।
গত ১৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। আজ খেলা শুরুর আগে তাঁকে বিদায়ী সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মাঠের একপ্রান্তে জড়ো হন ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। সামনে ছিলেন রুবেল হোসেন ও তাঁর ছেলে, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও অ্যাডহক কমিটির দুই সদস্য রফিকুল ইসলাম এবং ফাহিম সিনহা। রুবেলকে একটি স্মারক ও তাঁর তিন সংষ্করণের জার্সি বাধাই করে তুলে দেওয়া হয়।
রুবেলকে সম্মাননা তুলে দেওয়ার পর খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে কথা বলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে রুবেলের জেতানো সেই ম্যাচের কথা স্মরণ করেন তিনি। রুবেল তাঁর বক্তব্যে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কথা বলার পর ছেলেসহ মাঠের মাঝখানে যান রুবেল হোসেন। উইকেটের মাটি স্পর্শ করে ফিরেছেন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে।
—স্টেডিয়াম থেকে মাহমুদুল হাসান
নিউজিল্যান্ড: ৫ ওভারে ১২/০।
ইনিংসের শুরুতে বেশ সতর্ক নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি। ৫ ওভারে যে ১২ রান উঠেছে, তার ৮–ই শেষ দুই বলে দুই চারে। তার আগে ইনিংসের প্রথম ২৮ বলে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার নিতে পেরেছেন মাত্র ৪ রান!
দ্বিতীয় ওভারে শরীফুল আর তৃতীয় ওভারে তাসকিন নিয়েছেন মেডেন। নিকোলসের বিপক্ষে জোরালো এলবিডব্লু আবেদনও হয়েছে প্রথম ওভারে। আম্পায়ার অবশ্য সাড়া দেননি।
নিউজিল্যান্ড: ৭.১ ওভারে ২৫/১।
ম্যাচে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা। মিডল স্টাম্পে পড়া বল হেনরি নিকোলসের প্যাডে আঘাত হানার পর এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়েছেন আম্পায়ার।
নিকোলস প্রথমে ভেবেছিলেন রিভিউ নেবেন। তবে নিক কেলির সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যাওয়ার পথ ধরেন। ২৬ বলে ১৩ রান করেছেন নিকোলস।
রিপ্লেতে দেখা যায় রিভিউ নিলেও লাভ হতো না নিকোলসের, উল্টো একটি সুযোগ নষ্ট হতো তাঁর দলের। বল আঘাত হানতো মিডল–অফ স্টাম্পেই।
নিউজিল্যান্ড: ৯.১ ওভারে ২৮/১।
দ্বিতীয় ওভার করতে এসেও প্রথম বলে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। শর্ট লেন্থের ভেতরে ঢোকা বলে ছিল বাড়তি বাউন্স, উইল ইয়াং ছাড়তে পারেননি, সামলাতেও পারেননি। ব্যাটে লেগে বল গেছে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সৌম্য সরকারের হাতে। সহজ ক্যাচ।
ইয়াং ফিরেছেন ৭ বলে ২ রানে। নিউজিল্যান্ডের দুটি উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা।
নতুন ব্যাটসম্যান টম ল্যাথাম, সঙ্গে নিক কেলি।
নিউজিল্যান্ড: ১৭.১ ওভারে ৫০/২।
অবশেষে দলগত ফিফটির দেখা পেল নিউজিল্যান্ড। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে সৌম্য সরকারের বলে কেলির সিঙ্গেলে এসেছে এই মাইলফলক!
সব মিলিয়ে পঞ্চাশ রানে পৌঁছাতে মোট ১০৩ বল লাগল নিউজিল্যান্ডের। দুই ব্যাটসম্যান কেলি ও ল্যাথামের জন্য রান তোলা বেশ কঠিনই করে তুলেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। নাহিদ ৫ ওভারে ১০ রান, শরীফুল ৬ ওভারে ১৭ আর তাসকিন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়েছেন।
নিউজিল্যান্ড: ১৭.৩ ওভারে ৫২/৩।
এবার উইকেটশিকারীর তালিকায় সৌম্য সরকার। তাঁর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম (৩৫ বলে ১৪ রান)।
ক্যাচ হয়েছে কি না সেটা জানতে অবশ্য বেশ সময়ই লেগেছে। স্টাম্পে পড়া বল বেরিয়ে যাওয়ার পথে বাঁহাতি ল্যাথামে ব্যাটে লেগে পেছনে যায়। লিটন সামনে হাত বাড়িয়ে নিচু হয়ে বল গ্লাভসবন্দি করেন। বাংলাদেশের ফিল্ডাররা উইকেট–উদ্যাপন শুরু করলেও ল্যাথাম জায়গা ছাড়তে রাজি হননি।
পরে দুই আম্পায়ার নিজেরা কথা বলে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠান। টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা নীতিন মেনন বেশ সময় নিয়ে বিভিন্ন কোণ থেকে রিপ্লে দেখে ‘আউটের’ সিদ্ধান্ত দেন।
নিউজিল্যান্ড: ২৩ ওভারে ৮৩/৩।
দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে ফিরেছেন তাসকিন। পঞ্চম বলে মুহাম্মদ আব্বাসের বিপক্ষে ক্যাচ আউটের আবেদন করেন আম্পায়ারের কাছে। আম্পায়ার সাড়া না দিলে শেষ মুহূর্তে রিভিউ চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ।
রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাটে লাগেনি। বাংলাদেশের একটি রিভিউ খরচ হয়ে গেল।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে এই মুহূর্তে ব্যাট করছেন আব্বাস ও কেলি।
নিউজিল্যান্ড: ২৬.১ ওভারে ১০০/৩।
২৭তম ওভারে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম পঞ্চাশের তুলনায় দ্বিতীয় পঞ্চাশ অবশ্য দ্রুতই এসেছে। ১০৩ বলের পর এবার লেগেছে ৫৪ বল।
রান বাড়ানোর এই কাজটি করছেন নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। ৫২ রানে তৃতীয় উইকেটের পতনের পর তাঁরাই দলকে টেনে নিচ্ছেন।
২৭তম ওভারেই প্রথমবার বোলিংয়ে এসেছেন রিশাদ হোসেন। এর আগে সৌম্যকে ব্যবহার করলেও এই লেগ স্পিনারকে আক্রমণে আনেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ফিফটি করেছেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি। ৬৬ বলে করা হাফ সেঞ্চুরিটি তাঁর পাঁচ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে প্রথম।
নিউজিল্যান্ড: ২৮.৩ ওভারে ১০৮/৪
নাহিদ রানার শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন মুহাম্মদ আব্বাস। দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়েছেন উইকেটকিপার লিটন। ফেরার আগে ৩৪ বলে ১৯ করেছেন আব্বাস। ভেঙেছে কেলির সঙ্গে তাঁর ৫৮ রানের জুটি।
এটি নাহিদের তৃতীয় উইকেট। প্রথম স্পেলের মতো দ্বিতীয় স্পেলেও প্রথম ওভারেই উইকেট নিলেন।
নিউজিল্যান্ড: ৩৬.৩ ওভারে ১৪৫/৫
অবশেষে নিক কেলি থেকে মুক্তি মিলল বাংলাদেশের। শরীফুলকে তুলে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। থামল কেলির ১০২ বলে ৮৩ রানের ইনিংস।
১৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড। নতুন ব্যাটসম্যান জশ ক্লার্কসন, আগে থেকে আছেন ডিন ফক্সক্রফট।
নিউজিল্যান্ড: ৩৭.৫ ওভারে ১৫২/৬
টানা দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পেল বাংলাদেশ। রিশাদের বলে আউট হয়েছেন ক্লার্কসন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন মিরাজ। এক ওভার বল করে সরে যাওয়া রিশাদ ফিরেই পেলেন উইকেটের দেখা।
নতুন ব্যাটসম্যান নাথান স্মিথ।
নিউজিল্যান্ড: ৪২.১ ওভারে ১৬৪/৭
আবারও ওভারের প্রথম বলে উইকেট নিলেন নাহিদ রানা। তাঁর শর্ট ডেলিভারিতে স্কয়ার লেগের মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ফক্সক্রফট (৩৫ বলে ১৫ রান)।
এ নিয়ে ওভারের প্রথম বলে তৃতীয় উইকেট পেলেন রানা, সব মিলিয়ে চতুর্থ। ১৬৪ রানে সপ্তম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড।
নতুন ব্যাটসম্যান ব্লেয়ার টিকনার, সঙ্গে স্মিথ।
নিউজিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ১৮৩/৮
শরীফুলের স্লোয়ার ডেলিভারিতে ক্যাচ দিয়েছেন টিকনার (১১ বলে ১২ রান)। মিড উইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ নিয়েছেন বদলি ফিল্ডার আফিফ।
নিউজিল্যান্ড: ৪৫.৩ ওভারে ১৮৩/৯
উইকেট নাম্বার পাঁচ!
জেডেন লেনক্সকে বোল্ড করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করলেন নাহিদ রানা। এটি ওয়ানডেতে তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।
গত ১১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মিরপুরেই পেয়েছিলেন ২৪ রানে ৫ উইকেট।
শেষ উইকেটটা নিলেন তাসকিন আহমেদ। তবে কৃতিত্বের অর্ধেক তাওহিদ হৃদয়েরও। লং অনে দৌড়ে গিয়ে ডাইভে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন উইলিয়াম ও’রুর্ক (১১ বলে ৬)।
পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারেনি কিউইরা। অলআউট হয়েছে ৪৮.৪ ওভারে, স্কোরবোর্ডে ১৯৮ রান।
আগের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৪৭ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। আজ যে দুই শ রানও হয়নি, তাতে মূল অবদান বাংলাদেশের পেসারদের। নাহিদ রানা একাই নিয়েছেন ৩২ রানে ৫ উইকেট। নাহিদের মতো ১০ ওভার বল করে ৩২ রানের বেশি খরচ করেননি শরীফুলও, তিনি নিয়েছেন দুই উইকেট। অন্য তিন উইকেট তাসকিন, সৌম্য ও রিশাদের একটি করে।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে রান বলতে গেলে একা নিক কেলিই করেছেন। বাঁহাতি এ ওপেনার খেলেছেন ৮৩ রানের ইনিংস। অন্য কোনো ব্যাটসম্যান ২০ রানের ঘরেও যেতে পারেননি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান পাঁচে নামা মুহাম্মদ আব্বাসের।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডের মতো আজও প্রথম ইনিংস শেষ হতে বেশি সময় লেগেছে। ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার কথা আড়াইটার ভেতরে, কিন্তু ৮ বল আগে নিউজিল্যান্ড অলআউট হওয়ার পরও ৪৫ মিনিট সময় বেশি লেগেছে।
নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮*; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, রিশাদ ১/২১, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।
বাংলাদেশ: ১ ওভারে ৮/১। লক্ষ্য: ১৯৯।
প্রথম ওভারেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। নাথান স্মিথের ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়েছেন সাইফ হাসান। ভেতরে ঢোকা বলটি পর্যাপ্ত ওঠেনি, সাইফও ব্যাট নামাতে সময় নিয়েছেন বেশি।
আউটের আগে ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে দুটি চার মেরেছেন সাইফ। ফিরেছেন ৬ বলে ৮ রান নিয়েই।
নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, সঙ্গে তানজিদ হাসান।
উইলিয়াম ও’রুর্কের বলে দুর্দান্ত একটি ছক্কা মেরেছেন সৌম্য সরকার। অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেন্থের ডেলিভারিতে সুইপার কাভার দিয়ে উড়িয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ: ৪ ওভারে ২১/২। লক্ষ্য: ১৯৯।
ছক্কার পরই আউট হয়ে গেলেন সৌম্য। এবার ও’রুর্কের শর্ট ডেলিভারি আপার কাটে স্লিপের ওপর দিয়ে পার করাতে চেয়েছিলেন। বল ওপরে উঠে তৃতীয় স্লিপে ফক্সক্রফটের হাতে সহজ ক্যাচ। ১১ বলে ৮ রানে শেষ সৌম্যর ইনিংস।
বাংলাদেশ ২১ রানে হারাল দ্বিতীয় উইকেট। চারে নেমেছেন নাজমুল হোসেন, সঙ্গে আছেন ওপেনার তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ: ৭ ওভারে ৫১/২। লক্ষ্য: ১৯৯।
রান তাড়ায় সাত ওভারেই পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। চার ওভারের মধ্যে দুই উইকেট পড়ে গেলেও এরপর প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি মেরেছেন তানজিদ–নাজমুলরা। সপ্তম ওভারের টিকনারের শেষ বলে তানজিদের বাউন্ডারিতে পূর্ণ হয়েছে দলের ফিফটি।
বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ৭৮/২। লক্ষ্য: ১৯৯।
তানজিদ–নাজমুলের জুটিতে তিন অঙ্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দুজনের তৃতীয় উইকেটে পঞ্চাশের বেশি রান উঠেছে।
২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর নামা নাজমুল ৩১ বলে ২০ রানে ব্যাট করছেন। ওপেনিংয়ে নামা তানজিদের রান ৩০ বলে ৩৯।
বাংলাদেশ: ১৫ ওভারে ৯৫/২
ছক্কায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি করলেন তানজিদ হাসান। ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে এই ওপেনার ফিফটি করেছেন ৩৩ বলে।
দারুণ ছন্দে থাকা এই ওপেনার সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন ৬৭* রানের ইনিংস।
বাংলাদেশ: ১৭ ওভারে ১০৫/২
৪৪ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত তানজিদ। ৪২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত নাজমুল হোসেন। বাংলাদেশের দরকার ৯৪ রান।
বাংলাদেশ: ২২ ওভারে ১৩৫/২
২১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তানজিদ–নাজমুলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এই জুটিতে এখন পর্যন্ত এসেছে ১১৪* রান। সেটিও এসেছে বেশ ভালাে রান রেটে। ১০৭ বলে ১১৪ রান তুলেছেন এই দুজন।
বাংলাদেশ: ২৪ ওভারে ১৫০/৩
জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫৮। তানজিদের সেঞ্চুরিতে লাগত ২৪। সহজ এই সমীকরণ মেলাতে পারেননি তানজিদ।
বাঁহাতি স্পিনার লেনক্সের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে হেনরি নিকোলসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ। উইকেটে এসেছেন লিটন দাস।
বাংলাদেশ: ২৫ ওভারে ১৫৫/৪
১১ বলে ৭ রান
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে লিটন দাসের পারফরম্যান্স।
বাঁহাতি স্পিনার লেনক্সের বলে তানজিদের মতো লিটনও চাইলেন বড় শট খেলতে। ফলাফল—আউট। এবার ক্যাচটি নিয়েছেন ফক্সক্রফট। বাংলাদেশের জিততে দরকার ৪৪ রান।
ওয়ানডেতে ১৩ ইনিংস পর ফিফটি পেলেন নাজমুল হোসেন। আজকের আগে এই সংস্করণে তাঁর সর্বশেষ ফিফটি গত বছর রাওয়ালপিন্ডিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই।
২৯তম ওভারের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১১ তম ফিফটি তুলে নেন নাজমুল। সম্ভবত পায়ে চোট পেয়েছেন। ফিফটি তুলে নিয়েই ক্রিজের পাশে শুয়ে পড়েন তিনি। মাঠে ঢুকেছেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও। ক্রাম্প নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৭১ বলে ৫০ রান করেছেন।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
জয়ের জন্য ১৩১ বলে ৩২ রান চাই বাংলাদেশের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।
আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডে ৮৭ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ৮ এবং তাওহিদ হৃদয় ৩১ বলে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩২ রানের জুটপি গড়ে জেতান দুজন।
নিউজিল্যান্ডের ১৯৮ রান তাড়ায় ৪ ওভারের মধ্যে ২১ রানে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। ৭৬ রান করেন তানজিদ। নাজমুল ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।
(অব্যবহৃত) বলের হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।
আজ বাংলাদেশের জয়ের ভিত ফিল্ডিংয়েই গড়ে দেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।
জয়ের পর নাহিদ বলেন, ‘আজকের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন ছিল। আগের ম্যাচে বেশ রান দিয়ে ফেলেছি, তবে আজ শুধু উইকেটই পাইনি, লাইন-লেংথ বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত বোলিংও করতে পেরেছি। পরিস্থিতির দাবি মেনেই বল করেছি, আগের ম্যাচে কী হয়েছে তা নিয়ে ভাবিনি।’
আগামী বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮ *; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।
বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ৪/১৯৯ (তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০, লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতায় বাংলাদেশ।