পাকিস্তাকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ
পাকিস্তাকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জয়ে কেন বিষণ্নতায় ভুগেছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক

পাকিস্তানকে হারিয়ে গতকাল সিলেটে ঐতিহাসিক এক টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারাল বাংলাদেশ। পাশাপাশি নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ এই প্রথম টানা চার ম্যাচ জয়ের স্বাদও পেল।

দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের পেছনে বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের বেশ ভালো অবদান। বিশেষ করে দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে বলতে গেলে একাই ম্যাচ ঘোরান তাইজুল। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৬ উইকেট। আরেক স্পিনার মিরাজ দুই ইনিংসে নেন ৩ উইকেট।

খেলোয়াড়দের এমন অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। পাশাপাশি অবশ্য নিজের দেশের পরাজয়ে মনও খারাপ হয়েছে তাঁর। গতকাল পাকিস্তানের টিভি চ্যানেল এআরওয়াই স্পোর্টসকে দেশটির সাবেক এ লেগ স্পিনার বলেন, এটি এমন অনুভূতি, যা চাইলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এমনকি মুশতাকের মন এতটাই খারাপ ছিল যে সিলেট টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে গ্রুপ ছবি তুলতেও যাননি তিনি।

পাকিস্তানের সিরিজ হারে খারাপ লাগা আছে কি না, জানতে চাইলে মুশতাক বলেন, ‘অবশ্যই মিশ্র অনুভূতি আছে। পেশাদার হিসেবে আপনি যা জানেন, তা খেলোয়াড়দের শেখাতে হয়। কিন্তু সত্যি বলতে আজ (গতকাল) পাকিস্তানের হারের পর আমি বেশ বিষণ্ন ছিলাম। দেখেন, দুই টেস্ট জিতেছি আমরা (বাংলাদেশ), অর্থাৎ আমি আমার কাজের পুরস্কার পাচ্ছি, আল্লাহ দিচ্ছেন। কিন্তু পাকিস্তান দল, যেটা আপনার দল, যে দলে খেলার কারণে বাংলাদেশ আমাকে নিয়োগ দিয়েছে...তাই আমি আজ (গতকাল) কিছুটা বিষণ্ন ছিলাম। এটা একটা সহজাত অনুভূতি, যা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আসলেই আমার মন খারাপ ছিল। আমি তো গ্রুপ ছবি তোলার জন্য নিচেও যাইনি।’

বাংলাদশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ

গতকাল শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে মুশতাক যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এর কারণ বলছি। আমরা (বাংলাদেশ) পাঁচ বোলার নিয়ে খেলেছি, এটাই সবচেয়ে বড় বার্তা ছিল। টেস্টে আপনি ৬০০ রানও যদি করেন, আপনাকে কিন্তু ২০ উইকেট নিতে হবে। এটা বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল।’

স্পিনারদের ব্যবহারের কৌশলে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ’৯২ বিশ্বকাপজয়ী মুশতাক বলেন, ‘ঘাসের উইকেটে আপনাকে দুজন স্পিনারকে খেলতে হচ্ছে। আমি রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের সময় বলেছিলাম, এশিয়ান উইকেটে ওপরে ঘাস থাকলেও গরমে খেলার সময় ভেতরে সেই উইকেট শুষ্কই থাকে। প্রথম এক–দুই দিন বল কিছুটা নড়াচড়া করবে এবং গতি পাবে। কিন্তু ভেতর থেকে তো উইকেট শুষ্ক, ফলে স্পিনারের ভূমিকা ক্রমাগত ভালো হতে থাকে।’

দুই দলের একাদশ নির্বাচনও বাংলাদেশের জয়ে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন মুশতাক, ‘বাংলাদেশ স্মার্ট ক্রিকেট খেলেছে। তাদের দল নির্বাচন খুব ভালো। ৫ বোলারের সঙ্গে ৬ ব্যাটসম্যান খেলিয়েছে। ৬ নম্বর ব্যাটসম্যান আবার উইকেটকিপারও। দেখেন, আমাদের (বাংলাদেশ) ১৫০ রানের মধ্যে ৬ জন আউট হয়ে গিয়েছিল। যদি পঞ্চম বোলার থাকত, তবে ২০০ করাও কঠিন হতো। কারণ, ৫ নম্বর বোলার বাকিদের বিশ্রাম দিতে পারত। আমি ব্যাটসম্যানদের বলেছিলাম, আমাদের কেবল একটা লম্বা পার্টনারশিপ দরকার। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা আমাদের ছুঁতে পারবে না। এ রকম ট্যাকটিক্যালি ছোট ছোট বিষয়ে খেলতে হয়।’