সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এমন হতাশার ছবিই দেখা গেছে বেশি
সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এমন হতাশার ছবিই দেখা গেছে বেশি

শতকোটি পাউন্ড পুড়িয়েছে ইউনাইটেড

এডওয়ার্ড গ্যারেথ উডওয়ার্ড। তাঁর সম্পর্কে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–সমর্থকদের কাছে কিছু জানতে চাইলে তাঁরা হয়তো গালাগালি করে বসতে পারেন। ওদিকে ইউনাইটেডের মালিকপক্ষ গ্লেজার ফ্যামিলি হয়তো এখনো তাঁকে ছেড়ে দিতে হয়েছে বলে দুঃখ করছেন। ইউনাইটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী ফুটবলটা বুঝুন আর না বুঝুন, আর্থিক দিকটা ভালো বুঝতেন। আর আয় করার জন্যই তো ইউনাইটেডে বিনিয়োগ করেছে মার্কিন মালিকপক্ষ।

উডওয়ার্ডের সময়টায় আর্থিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাবও হয়ে উঠেছিল ইউনাইটেড, কিন্তু ফুটবলীয় সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গেলে সেখানে প্রাপ্তি প্রায় শূন্য। গত পাঁচ মৌসুমে একটিও ট্রফির দেখা নেই। এর পেছনে দলের চাহিদা অনুযায়ী এডওয়ার্ডের দলবদল করতে না পারার ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন সমর্থকেরা। এডওয়ার্ডের উত্তরসূরিও তা–ই মনে করেন। বর্তমান প্রধান নির্বাহী রিচার্ড আরনল্ড বলেছেন, ইউনাইটেড শতকোটি পাউন্ড পুড়িয়ে ছাই করেছে কয়েক বছর ধরে।

দলের হালহকিকত নিয়ে আরনল্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এক সমর্থক। ক্লাব কেন ভালো করছে না, এ প্রশ্ন তো সবারই। এবার নতুন করে যোগ হয়েছে দলবদলের প্রসঙ্গ। নতুন মৌসুম উপলক্ষে প্রায় সব বড় দলই নড়েচড়ে বসেছে। এরই মধ্যে দলের ঘাটতি পূরণ করতে খেলোয়াড় বাছাই করে তাঁদের দলে টেনে ফেলেছে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, বায়ার্ন মিউনিখ বা রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলো।

ইউনাইটেডের মালিকদের বিরুদ্ধে অনেকবারই প্রতিবাদে নেমেছে দলটির সমর্থকেরা

এদিক থেকে বিস্ময়করভাবে নিষ্ক্রিয় ইউনাইটেড। দলবদলের বাজারে বরাবরের মতোই অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে নাম জড়ালেও শুধু একজন খেলোয়াড়ের জন্যই ইউনাইটেডের চেষ্টার কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে। বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের জন্য সে চেষ্টাও সমর্থকের মনমতো এগোচ্ছে না। এক সমর্থকের প্রশ্নের মুখে তাই আগল খুলে দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধান নির্বাহী, ‘আমরা খেলোয়াড়ের পেছনে শতকোটি পাউন্ড ব্যয় করেছি। ইউরোপে সবার চেয়ে বেশি খরচ করেছি আমরা। যে অবস্থায় আছি, তা নিয়ে খুব যে আনন্দে আছি, এমন নয়। ব্যাপারটা একদম ভালো লাগছে না আমার এবং ভবিষ্যতে এ ঝামেলা কীভাবে মেটাব, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা আসলে পুড়িয়ে টাকার শ্রাদ্ধ করেছি এত দিন।’

এর দায় কার, সে প্রসঙ্গে সরাসরি কারও নাম না বললেও ইঙ্গিতটা বুঝে নিতে কষ্ট হয় না, ‘আমাদের অনুশীলন মাঠে গিয়ে আপনি সেখানে শত কোটি পাউন্ড (ওই মানের খেলোয়াড়) দেখাতে পারবেন না। কারণ, আমরা অতীতে সঠিকভাবে অর্থ ব্যয় করিনি। আমি এখানে চেয়ারম্যান (জোয়েল) গ্লেজারের হয়ে কথা বলতে আসিনি। নিজের হয়ে তাঁকেই কথা বলতে হবে।’

ইউনাইটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড গ্যারেথ উডওয়ার্ড

এত কড়া কথা প্রকাশ্যে বলা কঠিন। আরনল্ড সেটা করেনওনি। সমর্থকের প্রশ্নের জবাবে সব উগরে দিয়েছিলেন। ওদিকে ওই ইউনাইটেড সমর্থকও সুযোগ পেয়ে সেটা রেকর্ড করে ফেলেন গোপনে। অথচ ইউনাইটেড নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানানোয় সে সমর্থকের প্রশংসা করেছেন বর্তমান নির্বাহী, ‘আপনি সময় করে এখানে এসেছেন এবং নিজের মতামত জানিয়েছেন, এটাকে সম্মান করি। আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ উড়িয়েছি। এই গ্রীষ্মে অর্থ ব্যবস্থাপক ও ফুটবল পরিচালকের (জন মারটাহ) ইচ্ছা জানিয়েছেন। ভবিষ্যতের জন্য, একটি নতুন স্টেডিয়াম ও সবার সেরা অনুশীলন মাঠে বিনিয়োগের জন্য আমাদের কিছু করতে হবে। আমাদের বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে।’মাঠে ঢুকে প্রতিবাদ জানালেন ইউনাইটেড সমর্থকেরা

ফুটবলের দিকে নজর না দিয়ে শুধু আর্থিক দিকে নজর দেওয়ায় সমালোচনা হতো উডওয়ার্ডের। কিন্তু নতুন নির্বাহীকেও অর্থেই বেশি নজর দিতে হচ্ছে, ‘ক্লাবের জন্য যা করতে চাই, তা করতে হবে আমাকে। আমাকে এখন আরও অর্থ আনতে হবে কারণ, একটা নতুন স্টেডিয়াম বানানোর মতো অর্থ পৃথিবীর কোনো ক্লাবেরই নেই। হয় টাকা ধার করতে হবে, নয়তো বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থ কোথাও না কোথাও থেকে আনতে তো হবে। বর্তমান মালিককে আপনার অপছন্দ হতেই পারে, এ ব্যাপারে কোনো সাহায্য করতে পারছি না আমি। কিন্তু আপনি অন্য কোনো মালিক চাইলে তারা দেখবে সমর্থকেরা এই দলকে কত ভালোবাসেন এবং এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু গত বছরটা একদম দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। প্রতি ম্যাচে ঘৃণা ছড়িয়েছে।’