১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ঘানায় জন্ম নেওয়া মার্সেল দেসাইলি
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে ঘানায় জন্ম নেওয়া মার্সেল দেসাইলি

জন্ম এক দেশে, বিশ্বকাপ জিতেছেন অন্য দেশের হয়ে

দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে কে না চায়! তবু বিভিন্ন কারণে অনেকেরই জন্মভূমির হয়ে খেলা হয় না। প্রতি বিশ্বকাপেই অবশ্য কিছু খেলোয়াড় পাওয়া যায়, যাঁদের জন্ম এক দেশে, খেলছেন অন্য কোনো দেশের হয়ে। তবে জন্মভূমির বাইরের দলের হয়ে খেলে বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি খুব বেশি নেই।
২২

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ হয়েছে ২২ বার। জন্মভূমির বদলে অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়ের সংখ্যাও ২২।

সবচেয়ে বেশি ৭ ‘ভিনদেশি’ নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ইতালি।

১৯৩৪ সালে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন বিদেশে জন্ম নেওয়া ৭ খেলোয়াড়। এর মধ্যে ৪ জনই আর্জেন্টিনার—আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিক গুইতা, লুইস মন্তি ও রাইমুন্দো ওরসি। এ ছাড়া আনফিলোগিনো গুয়ারিসি ব্রাজিলে, ফেলিস বোরেল ফ্রান্সে এবং মারিও ভার্গলিয়েন বর্তমান ক্রোয়েশিয়ায় জন্মেছিলেন।

১৯৩৪ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির লুইস মন্তি বিশ্বকাপ ইতিহাসে অনন্য এক কীর্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ১৯৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনালে খেলেছিলেন। দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা একমাত্র খেলোয়াড় তিনি।

ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছে দুবার। প্রতিবারই দুজন করে ভিনদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় ছিল। ১৯৯৮ দলে ছিলেন মার্সেল দেসাইলি (ঘানা) ও প্যাট্রিক ভিয়েরা (সেনেগাল)। আর ২০১৮ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন স্টিভ মানদানদা (ডিআর কঙ্গো) ও স্যামুয়েল উমতিতি (ক্যামেরুন)।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া হার্বার্ট উইমার (শট নিচ্ছেন)

এখন পর্যন্ত আটটি দল বিশ্বকাপ জিতেছে। এর মধ্যে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী দলে বিদেশে জন্ম নেওয়া কেউ ছিল না। ব্রাজিল ৫টি ও আর্জেন্টিনা ৩টি বিশ্বকাপই জিতেছে শতভাগ স্বদেশে জন্মানো ফুটবলার দিয়ে।

বিদেশে জন্ম নিয়ে বিশ্বকাপ জেতাদের মধ্যে টনি ক্রুস খানিকটা ব্যতিক্রম। ২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই মিডফিল্ডারের জন্ম ১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানিতে। তাঁর জন্মের ৯ মাস পর জার্মানির পূর্ব ও পশ্চিম একত্রিত হয়।