অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষ এখন অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাই কয়েক বছর ধরেই যানজটসহ নানা ধরনের ঝক্কিঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে কোরবানির পশু কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকে। রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটে কেনাবেচা তেমন শুরু না হলেও অনলাইন বেশ জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। শুধু তা–ই নয়, ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেই কসাইও ঠিক করে রাখছেন ক্রেতারা।
আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে পশু বিক্রি করছে মাগুরা অ্যাগ্রিকালচার পার্ক (maguraagriculture.com)। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প প্রধান সৈয়দ ইয়াদ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের জন্য এ বছরও উন্নতমানের খামারে বড় করা সুস্থ ও নিখুঁত গবাদি পশু বিক্রি করছে মাগুরা অ্যাগ্রিকালচার পার্ক। বিক্রির আগে অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সব পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়েছে।
গত কয়েক বছরের মতো এবারও নিজস্ব খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এবং পশুচিকিৎসকদের পরীক্ষা করা গরু অনলাইনে বিক্রি করছে বেঙ্গল মিট (qurbani.bengalmeat.com)। ঈদের দিনে মাংস কাটাকাটি নিয়ে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে বেঙ্গল মিটের রয়েছে নিজস্ব আধুনিক প্রসেসিং প্ল্যান্ট, যেখানে দক্ষ কসাইয়ের মাধ্যমে মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ক্রেতাদের বাসায় পৌঁছে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
কয়েক বছর ধরেই মাঝারি ও সাধারণ বাজেটের ক্রেতারা অনলাইন থেকে কোরবানির জন্য পশু কিনছেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অলাইনে পশু বিক্রয় করা প্রতিষ্ঠান সেতারা ফার্মের উদ্যোক্তা বাবলু চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের কোরবানির পশু কেনার সুযোগ দিতে ২০১৬ সাল থেকে অনলাইনে পশু বিক্রি করছে সেতারা ফার্ম। এখন প্রবাসীদের পাশাপাশি অনেক পেশাজীবীও অনলাইনে গরু বা ছাগল কিনছেন। কোরবানির পশুগুলো সাভারে অবস্থিত খামারে পালন করা হয়েছে। ক্রেতারা সেতারা ফার্মের ওয়েবসাইট থেকে (www.setarafarm.com) গোটা গরুর পাশাপাশি ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ২৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে ভাগে কোরবানি দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভাগে কোরবানি দিলে কসাই ও বাসায় মাংস সংগ্রহের জন্য বাড়তি কোনো খরচ হবে না। সেতারা ফার্মে বিভিন্ন ওজনের ছাগলও পাওয়া যাচ্ছে, তবে খাসির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হবে।
সর্বনিম্ন ৬৯ হাজার টাকা থেকে অনলাইনে গরু বিক্রি করছে হাটবাজার (www.hatbazar.online)। ৫০০টিরও বেশি গরু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ক্রেতারা চাইলে অনলাইনে বা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে প্রতিষ্ঠানটির খামারে গিয়ে সরাসরি গরু পছন্দ করে কিনতে পারবেন। ক্রেতাদের সুবিধার্থে অভিজ্ঞ কসাইয়ের মাধ্যমে কোরবানি ও মাংস প্রস্তুতের সেবাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু কোরবানি পশু কেনাকাটার সুযোগ মিলছে না অনলাইনে, কসাই সেবাও দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর বনশ্রীর তুরফা ফুডস ফেসবুক পেজের (facebook.com/TurfaFoods, https://turfafoods.com/) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কোরবানি প্যাকেজ চালু করেছে। অফারের আওতায় গরু বা ছাগল কেনার পাশাপাশি কসাইয়ের মাধ্যমে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় সংগ্রহ করা যাবে।
ঈদের দিনে দক্ষ কসাই খুঁজে পাওয়ার চিরাচরিত ঝামেলা দূর করতে প্রতিবছরের মতো এবারও নির্দিষ্ট দিনের জন্য কসাই বুকিং সেবা চালু করেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সেবা এক্সওয়াইজেড (Sheba.xyz)। এ ছাড়াও পশু কেনার পরে পরিবহনের জন্য মিনি ট্রাক সেবাও দিচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি।
গোটা পশু কেনার বদলে কেউ যদি শুধু ভাগে বা শেয়ারে কোরবানি দিতে চান, সে ব্যবস্থাও অনলাইনে চালু করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ভাগে কোরবানি দেওয়ার সুযোগের বিষয়ে ছায়াবীথি অ্যাগ্রো ফার্মের নির্বাহী পরিচালক আরিফ ইরফানুল হক বলেন, কেরানীগঞ্জের আটিবাজারে অবস্থিত ছায়াবীথি অ্যাগ্রো ফার্ম মূলত সম্পূর্ণ দেশি ও সুস্থ গরুর মাধ্যমে কোরবানি ভাগা প্যাকেজ বা যৌথ কোরবানির সেবা দিচ্ছে। হাটের ঝামেলা ছাড়া যাঁরা নিশ্চিত ও নিরাপদ উপায়ে ভাগের কোরবানি দিতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত মাধ্যম। বিস্তারিত জানা যাবে ছায়াবীথি অ্যাগ্রোর ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/chayabithiagro)।
সাধারণ হাটের মতো অনলাইনেও নানা ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে। অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার আগে নিম্নোক্ত বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
১. পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে পশু কেনা বেশ নিরাপদ। আর তাই অনলাইনে পশু কেনার আগে হুট করে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ এড়িয়ে চলতে হবে।
২. বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, নিরাপদ পেমেন্ট গেটওয়ে অথবা সরাসরি খামারে গিয়ে রসিদের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান করতে হবে।
৩. কেনার আগে লাইভ ভিডিও কলের মাধ্যমে অবশ্যই পশুর স্বাস্থ্য ও দাঁত পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে একবার খামারে গিয়ে সরাসরি পশুটি দেখতে হবে।
৪. কখন ও কীভাবে গরু বা ছাগল পৌঁছে দেওয়া হবে, মাংস কীভাবে কাটা হবে এবং হোম ডেলিভারি চার্জ বা কসাইয়ের খরচ প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা বুকিংয়ের সময়ই লিখিত বা স্পষ্টভাবে জেনে নিতে হবে।