জনপ্রিয়তা হু হু করে বেড়ে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির। বন্ধ হয়েছে ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট। শঙ্কা, যেকোনো সময়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট।
এ পরিস্থিতিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেছেন, অজানা নম্বর থেকে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছে। শুধু তিনিই নন, হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও।
হোয়াটসঅ্যাপে অজানা নম্বর থেকে পাঠানো ওই হত্যার হুমকির স্ক্রিনশট তুলে দিয়ে দিপকে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘এখন হত্যার হুমকি পেতে শুরু করেছি।’ তাঁকে বলা হয়েছে, ‘শোন, টাকা পাবি। এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দে। নতুবা বিজেপিতে চলে আয়। নইলে আমেরিকায় গিয়ে তোকে মেরে ফেলব।’
আরেক স্ক্রিনশটে বলা হয়েছে, এখন তাদের কাছে ফোন নম্বর রয়েছে। তাই ঠিকানা খুঁজে পেতে মোটেই সময় লাগবে না।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, হুমকি পাওয়া ও ভারতে বসবাসকারী তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার কথা দিপকে এক সাক্ষাৎকারেও জানিয়েছেন।
সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে দিপকে বলেছেন, ‘হত্যার হুমকি, ভয় দেখানো বার্তা আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা পেয়েই চলেছি। একটা ভিডিও পেয়েছি, তাতে একটা লোককে বলতে শোনা যাচ্ছে, তারা আমার বাড়ির বাইরে পৌঁছে গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তারপর কী ঘটল দেখতে।’
সাক্ষাৎকারে দিপকে বলেছেন, যা করার তিনি করেছেন। তাঁর পরিবার এর সঙ্গে জড়িত নয়। কেউ কোনো অভিমত প্রকাশ করছে বলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের এভাবে হুমকি দেওয়া ঠিক নয়।
আমি তরুণদের হতাশা বুঝতে পারছি। কেন তাঁরা এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম বোধ করছেন, অনুভব করতে পারছি। ঠিক এ কারণেই সিজেপির এক্স হ্যান্ডল বন্ধ করা বিবেচনাপ্রসূত নয়। এটা বিপর্যয়কর হতে পারেশশী থারুর, ভারতের লোকসভার সদস্য ও কংগ্রেস নেতা
দিপকের পরিবারের সদস্যরা থাকেন মহারাষ্ট্রের শম্ভাজিনগর জেলায়। এ মুহূর্তে দিপকে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক রিলেশনস নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর পূর্ণ ভিসা রয়েছে। এ মুহূর্তে জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি থাকতে পারবেন। কিন্তু দেশে তাঁকে ফিরতে হবে। নইলে লোকজন বলবে, নিজে তো আমেরিকায় বসে আছে, যা কিছু আমাদের করতে বলছে।
দিপকে বলেছেন, পরিকল্পনা করে তিনি কিছু করেননি। কারণ, বিষয়টা যে এত অল্প সময়ে এ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা তিনি আন্দাজই করেননি। তিনি বলেন, ‘এখন আমি প্রাসঙ্গিক মানুষজনের সঙ্গে কথা বলা শুরু করব ভাবছি, যাতে আমাদের সামনে অনেক বিকল্প আসে। আমার ওপর নতুন প্রজন্ম প্রচুর চাপ সৃষ্টি করছে। বলছে, “একটা আন্দোলন শুরু করেছ, এখন পেছিয়ে যেয়ো না।”’
অভিজিৎ দিপকে অবশ্য এখনো ঠিক করেননি, সিজেপিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করবেন কি না, রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিবদ্ধ করা হবে কি না। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এ নিয়ে এখনো ভাবিনি। সবকিছু শুরু হয়েছিল নিছক কৌতুকের ছলে। এখন তা অন্য মাত্রা পেয়েছে। সবাই কী বলে দেখি। তাঁদের কথা শুনব। মতামত নেব। এখনই নির্দিষ্টভাবে কিছু বলার সময় হয়নি।’
তবে দিপকে বলেছেন, ‘মোটামুটি ধারণা, এটা প্রেশার গ্রুপের মতো একটা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। এমনটাই আমি ভেবেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হয় দেখা যাক। আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
দিপকে আরও বলেন, সিজেপি বা তেলাপোকারা যে সমাজকে এভাবে নড়িয়ে দেবে, সে অনুমান কোনো মহলেরই ছিল না। রাজনৈতিক শিবিরেরও নয়। তাই প্রথম দু–এক দিন কেউ বিষয়টি গ্রাহ্য করেনি। কিন্তু মাত্র কদিনের মধ্যে যখন দেখা গেল সিজেপির এক্স অ্যাকাউন্টে অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ছাপিয়ে গেল, ইনস্টাগ্রামে ২ কোটি, তখন সবাই নড়েচড়ে বসে। বিশেষ করে শাসক রাজনৈতিক দল। ভারতের শাসক দল এখন এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী বলে মনে করছে। প্রধানত সে কারণেই এক্স হ্যান্ডল আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে দ্বিতীয় অ্যাকাউন্ট খুলে গেছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এক্স হ্যান্ডল স্থগিত রাখার পর এবার তেলাপোকাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের হালও ওই রকম হতে পারে।
সরকারের কোনো কোনো মহলের অভিযোগ, সিজেপি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। জ্বালাময়ী কথাবার্তা বলছে। নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো এ দেশের নয়া প্রজন্মদের বিদ্রোহী হতে উসকানি দিচ্ছে।
অভিজিৎ দিপকে ওই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের এভাবে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা নাকি যুব সম্প্রদায়কে বিদ্রোহে উসকানি দিচ্ছি। কিন্তু আমরা বারবার বলেছি, আমরা গণতান্ত্রিক। যা কিছু করতে চাই, নিজেদের অভিমত জানাতে চাই, প্রতিকার চাই, তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং সাংবিধানিক অধিকারের আওতায় থেকে। নিজের দেশের যুব সম্প্রদায়কে অন্য দেশের মতো করে তুলতে চাই না। কারণ, আমাদের যুব সম্প্রদায় অনেক বেশি শিক্ষিত। এমনকি যাঁরা দেশ চালাচ্ছেন, তাঁদের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত। এটা হবে যুব সম্প্রদায়ের একটা রাজনৈতিক ফ্রন্ট।’
সিজেপির উত্থান কংগ্রেস সদস্য শশী থারুরকে কৌতূহলী করে তুলেছে। দলটি কেন তরুণ প্রজন্মের, তা তিনি উপলব্ধি করছেন বলে জানিয়েছেন। শশীর কথায়, ‘আমি তরুণদের হতাশা বুঝতে পারছি। কেন তাঁরা এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম বোধ করছেন, অনুভব করতে পারছি। ঠিক এ কারণেই সিজেপির এক্স হ্যান্ডল বন্ধ করা বিবেচনাপ্রসূত নয়। এটা বিপর্যয়কর হতে পারে।’
শশী আরও বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের হতাশা প্রকাশিত হওয়ার একটা উপায় বা মাধ্যম থাকা দরকার। তাই অ্যাকাউন্টটি চালু থাকা দরকার। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি হাস্যরস, বিদ্রূপ ও হতাশা প্রকাশের মাধ্যম থাকা।’