
৪০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে চীনের দুটি সুপারট্যাংকার।
ইরান যুদ্ধের কারণে এ দুটি সুপারট্যাংকার দুই মাসের বেশি পারস্য উপসাগরে আটকে ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা সুপারট্যাংকারের একটির নাম ইউয়ান গুই ইয়াং। অন্যটি ওশান লিলি।
আজ বুধবার জ্বালানি তেলবাহী এ দুটি জাহাজ বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
জানা গেছে, ইউয়ান গুই ইয়াং নামের ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্যাংকারটিতে জ্বালানি তেল বোঝাই করা হয়েছিল। এর পরদিন (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
ওশান লিলিতেও ২০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে কিংবা মার্চের শুরুতে জাহাজটিতে তেল ভরা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই প্রতিবেশী দেশগুলোয় থাকা বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আটকা পড়ে জ্বালানি তেলবাহী বহু নৌযান। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়ে যায়।
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে গেলে জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট হারে টোল দিতে হবে। তেহরানের বেঁধে দেওয়া পথ (রুট) ধরেও এ জলসীমা পাড়ি দিতে হবে।
ইতিমধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেশটির বন্দরগুলো থেকে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ৮ এপ্রিল তা শুরু হয়েছে। এর শর্তের অন্যতম, হরমুজ প্রণালির অবরোধের বিষয়টি। প্রণালিটি খুলতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে ইউরোপের দেশগুলোও।