এই মরণ ‘করোনা’ কামড়ের সময়েও কোন এক স্বামী তার স্ত্রীর মৃত্যু চায়।সময়ে সময়ে সে বদলায়, তার ভালো লাগলে বউকে ভীষণ আদর ভালোবাসা দিয়ে ভুলায়। ভালো না লাগলে সে যা খুশি ব্যবহার করে!!
অভিশপ্ত এক জীবন নিয়ে সংসার করছে সুশীল সমাজের শিক্ষিতা, আধুনিক নারী তাসমিনা। তাও আমেরিকার মত দেশে।এখানেও সে খুব বড় রকমের অসহায়, বিভিন্ন ভাবে।করোনার এই ক্রান্তিকালে তাসমিনার এক বান্ধবী বেশ তরুণ বয়সে সন্তান-সংসার-স্বামী ফেলে অকালেই ঝরে গেল।কেউ তাকে ধরে রাখতে পারেনি! সবাইকে ঘুমের মাঝেই রেখে, প্যানিক হতে হতে হার্ট অ্যাটাক করে চলে গেল চিরদিনের জন্য।
তাসমিনা রান্না করে দিতে চায় বান্ধবীর বাচ্চাগুলাকে। কিন্তু কাছে যেতেও পারছে না। যদিও বান্ধবীটি করোনায় মারা যায়নি।তবু নগর কর্তৃপক্ষ নিষেধ করেছে, কেউ যাতে না যায়। যেন তারা কোয়ারেন্টিনে থাকে বাচ্চাদের নিয়ে।এ নিয়ে মন খারাপ। তার ওপর সারাক্ষণ তাসমিনার স্বামী তার সঙ্গে ঝগড়া করছে। সেকি সহ্য হয়!
বাবার বদমেজাজের কারণে বাচ্চারা ঘরে নড়তে পারে না। মা বাচ্চাদের বুঝিয়ে কথা বলবে, তাও স্বামী বেচারার শুনতে ভালো লাগে না।তিনি আপন মনে যখন যা ভালো লাগে তাই করেন। আর পরিবারের সবাই তার পছন্দ মত চলবে। এই যুগে তাও কি সম্ভব! লকডাউনে তো আরও চরম আকার ধারণ করেছে বেচারার মেজাজ।তাসমিনা স্বামী সন্তানদের নিয়ে গাড়ি করে শুধু শুধু ঘুরে আসে নিথর নগর নিউইয়র্ক।যদি ওরা একটু ভালো বোধ করে।
তাসমিনা তার মা-ভাই-বোনদের সঙ্গে সে মিশুক স্বামী এমনিতেই চায় না। এখন আরও পেয়ে বসেছে।
তাসমিনা তার মায়ের জন্য সিটি থেকে প্রাপ্ত সব রকমের ভাতা পায়। ঘর ভাড়া পায়। তার নিজেরই বাসায় তার মা থাকেন তা দেখিয়ে। কিন্তু আসলে তার মা তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন।কিন্তু সব টাকা তাসমিনা তার স্বামীকেই দেয়।কারণ তার স্বামী কথায় কথায় বলে, তাসমিনাকে বিয়ে করে তিনি সবাইকে আমেরিকা আসার সুযোগ করে দিয়েছেন!!
এখন রাগ লাগলেই তিনি তাসমিনাকে কেন করোনাভাইরাসে ধরছে না বলেন। আর এটিই নাকি তার আক্ষেপ। আরও অনেক কারণ আছে।তাসমিনা বাড়ি-গাড়ি করেছে। এখন সে যদি করোনার কারণে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, তবে অনেক বড় অঙ্কের লাইফ ইনস্যুরেন্স তিনি পাবেন। আর তা দিয়ে বাকি জীবন আনন্দে কাটিয়ে দেবেন।
তাসমিনার কাছে এ পৃথিবী বড় নিষ্ঠুর মনে হয়।
বিড়বিড় করে উচ্চারণ করে, হায় করোনা তুমি এখনো জানো না, এই পৃথিবীর নরাধমদের! তোমার চেয়েও কত নিষ্ঠুর আর নির্মম এরা! কতটা আঘাত দিতে জানে, তা তুমি জানো না হে প্রাণঘাতী করোনা। এরপরও তাসমিনার উচ্চারণ , করোনা তুমি চলে যাও এই পৃথিবী থেকে প্লিজ। আমরা দেখি নিজেরা নিজেদের শোধরাতে পারি কিনা । আরও একবার সে সুযোগ দাও...আমাদের মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ দাও!