
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত অনেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসহনীয় দিন যাপন করছেন। পুলিশ কর্মকর্তা, কারেকশন অফিসার, স্কুল সেফটি অফিসার, ট্রাফিক ইনফোর্সমেন্ট এজেন্ট, স্কুল ক্রসিং গার্ডসহ শতাধিক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার করোনা পজিটিভ হয়েছে!
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ট্রাফিক বিভাগের সেকশন কমান্ডার মোহাম্মদ চৌধুরী! সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে পুরস্কারজয়ী ডিটেক্টিভ জামিল সারওয়ার জনি হারিয়েছেন তার প্রাণপ্রিয় বাবাকে, নিজে এখনো লড়ছেন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে!
বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ডিটেক্টিভ মাসুদ রহমান করোনায় আক্রান্ত হলেও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি লে. সুজাত খান এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য এই গুপ্তঘাতকের সঙ্গে! অফিসার রাকিব হাসান করোনা মোকাবিলায় সফল হয়েছেন। লড়াই করে ফিরে এসেছেন ট্রাফিক সুপার ভাইজার দিলরুবা সরকার। প্রিয় বাবাকে হারিয়েছেন স্কুল সেফটি অফিসার মাকসুদা।
করোনাকে জয় করা বাংলাদেশি এনওয়াইপিডি অফিসারদের আরেকজন হচ্ছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ও প্রিয়মুখ জুয়েল মাহবুবুর, যিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ভাইরাসকে মোকাবিলা করেছেন অদম্য সাহসের সঙ্গে। তার স্ত্রীও পরবর্তীতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তিনি ছিলেন সন্তান সম্ভবা।তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, ১৬ এপ্রিল জুয়েলের স্ত্রী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, এটি হচ্ছে তাদের দ্বিতীয় সন্তান, দুই সন্তানই ভাল আছে।
সবাই যখন লকডাউনে ঘরের মধ্যে আছেন, তখন ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে এনওয়াইপিডি অফিসারেরা সবার নিরাপত্তা ও নগরকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে দেশের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, অনেক অফিসারের পরিবারও এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের শিকার হয়ে দূর্বিষহ কষ্টের মধ্যে আছেন।
এভাবেই নিষ্ঠা, সাহস এবং অপূরণীয় ত্যাগ স্বীকার করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও চ্যালেঞ্জিং পুলিশ বাহিনীতে বাংলাদেশি অফিসারেরা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি সুস্থ হওয়া এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবুর বলেন, অনেকেই পরিচিত ব্যক্তিদের কথা শুনে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করছেন, সেটা ঠিক নয়। সব ওষুধ ও ট্রিটমেন্ট সবার জন্য সমান নয়। তাই কোন কিছু করার আগে অবশ্যই নিজের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন পর্যন্ত করোনার কোন ওষুধ নেই, সেহেতু সতর্কতা অবলম্বন ও ইতিবাচক মনোভাবের কোন বিকল্প নেই। কোন অবস্থায় মনোবল হারানো চলবে না, সেজন্য নিজের মত করে কিছু পন্থা বের করারও পরামর্শ দেন তিনি।
ইতিপূর্বে বারবার নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি আমেরিকান সদস্য নিজের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং একনিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশি কবমিউনিটিকে গৌরবান্বিত করেছেন! এবারও দেশের এই জরুরি অবস্থায় সেই গৌরবকে আরও ওপরে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের দোয়া আর ভালবাসায় সিক্ত এসব অদম্য সৈনিক।
লেখক: স্কুল সেফটি অফিসার, এনওয়াইপিডি