তাই বলে এমন অনুরোধ!

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশ কমিউনিটিতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক, যা বেদনাদায়ক। মানুষ মানুষের জন্য। কমিউনিটির এই দুর্দিনে ব্যক্তিগতভাবে বা সংগঠনিকভাবে অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকে যথেষ্ট প্রশংসনীয় কাজ করছেন। তাদের ধন্যবাদ। কোন কোন সংগঠন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি, লিফলেট দিয়ে সাহায্যের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সঙ্গে টেলিফোন নম্বর। বলা হচ্ছে, সাহায্য লাগলে কল করুন। এর মধ্যে করোনা স্টিমুলাসের অর্থ মানুষের পকেটে এসে গেছে।দুর্যোগের শুরুতে যা বাজার-টাজার করা হয়েছিল, তা শেষের পথে, বিশেষত কাঁচাবাজার। সবজি, আদা, পেঁয়াজ, মরিচ কেনা দরকার। কিন্তু দোকানে যেতে ভয়, যদি করোনা ধরে! যদিও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দোকানে এখন অনেক নিয়মকানুন, তবু বলা তো যায়না?

এক ভদ্রলোক তাই সাহায্য চেয়ে কল দেন একটি সংগঠনের এক সমাজ কর্মীকে। কর্মী ফোন ধরলেন। অন্য প্রান্ত থেকে ভদ্রলোক বলেন, আপনাদের বিজ্ঞপ্তি দেখে ফোন দিলাম। আমার কিছুটা সাহায্য দরকার, যদি করেন তো কৃতজ্ঞ থাকব। কর্মী জিজ্ঞাসা করলেন, বাড়িতে কি কোন করোনা রোগী আছে বা বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ বা ওষুধ-টষুধ লাগবে? ভদ্রলোক বললেন, না, ওসব কিছু নেই। বাড়িতে ডিম ফুরিয়ে গেছে, আমার দুই ডজন ডিম লাগবে। যদি এনে দিতেন?
সংগঠনের কর্মীটি ঠিক বুঝতে পারছিলেন না, কী করবেন। কথাবার্তায় জানা গেল, ভদ্রলোক সুস্থ, সবল, ভালো আছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়ে বাইরে যাবেন না, অন্য কেউ গেলে বা বা অন্য কারো করোনা হলে তাঁর কি!
আরও চমৎকার ফরমায়েশ করেছেন আরেক ভদ্রলোক। তিনি সাহায্যের জন্য কল দিলেন।কথাবার্তা শেষে একটি বাজারের তালিকা দিলেন। তালিকাটি আবার বেশ লম্বা, প্রায় দুই ডজন আইটেম।তালিকা দেখে তো সাহায্য দিতে ইচ্ছুক কর্মীর অবস্থা কাহিল। এতে পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, রসুন—সবই আছে। আরও আছে ‘দুই প্যাকেট সিগারেট’। ভদ্রলোক অবশ্য বলেছেন, তিনি টাকা দিয়ে দেবেন। যাহোক, কর্মী যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ভদ্রলোক তখন আবার কল দিয়ে বললেন, ‘ভাই, আমাকে যদি সিগারেট দুই প্যাকেট আগে দিয়ে যেতেন, অনেকক্ষন সিগারেট খাই না, বাকি বাজার পরে দিলেও চলবে! শুনলাম, ওই কর্মী নাকি ফেসবুক থেকে এরপর সাহায্য দেওয়ার লিফলেট উঠিয়ে নিয়েছেন।
নিউইয়র্কে সম্মুখ সারিতে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা ‘হিরো’। ডাক্তার-নার্স, ইএমটি-পুলিশ, ওষুধ, স্বাস্থ্যকর্মী—এরা নিজেদের ও পরিবারের জীবনবাজি রেখে মানুষের সেবায় কাজ করছেন। তাদের স্যালুট। মানুষ শ্রদ্ধাভরে তাদের জন্যে প্রার্থনা করছে।
আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কেউ যদি অন্য কাউকে একটি টেলিফোন দিয়েও সাহায্য করেন, তাঁকেও ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতা, এজন্য আপনাকে কারও বাড়ি যেতে হবে না, ঘরে বসেই আপনি সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ভাই, ডিম আনতে বলা বা সিগারেট পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করাটা কি অমানবিক হয়ে গেল না? যিনি সাহায্যের হাতটি বাড়াতে চাচ্ছেন, তিনিও মানুষ, তারও পরিবার আছে?